তদবির আইনসভার সদস্যদের উপর কাজের অনুকূলে প্রভাব বিস্তার বা চাপ সৃষ্টির পদ্ধতি

তদবির বা উপশালা বা ইংরেজিতে ‘লবিং’ (ইংরেজি: Lobbying) হচ্ছে “নির্দিষ্ট আইন বা বিধিবিধানের পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি সমর্থন করা”। সরকারি সম্পর্ক (যা সরকারি ব্যাপার বা আইনসভার ব্যাপার নামেও পরিচিত), হচ্ছে একধরনের ওকালতি যা আইন প্রণেতা, নির্বাহী শাখার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদস্য, অথবা কিছু ক্ষেত্রে বিচারকদের দ্বারা গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত এবং/অথবা বোঝার আইনত প্রচেষ্টা করে। অর্থাৎ তদবির হচ্ছে রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী এবং বিশেষ করে আইনসভার সদস্যদের উপর কোনো কাজের অনুকূলে প্রভাব বিস্তার কিংবা চাপ সৃষ্টির পদ্ধতি।

তদবির পদ্ধতিতে আইনসভা কিংবা সচিবালয়ের সংলগ্ন উপশালায় (অলিন্দে) প্রভাব বিস্তারী বা চাপসৃষ্টিকারী বিশেষ গােষ্ঠীর পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি কোনও সাংসদ বা বিধায়ক কিংবা কোনোও মন্ত্রী অথবা পদস্থ সরকারি আধিকারিককে সেই গােষ্ঠীর স্বার্থানুকূলে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন। প্রভাব বিস্তার বা চাপ সৃষ্টি সমানে সমানেও হয়ে থাকে। আইন সভার সদস্যরা ভিন্ন দলের সদস্যদের সমর্থন লাভের জন্যও উপশালায় এই তদবির পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

উকিল এবং তদবিরকারীদের কাজের মধ্যে সাধারণত এমন কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকে যার জন্য আইন প্রণেতা, নীতিনির্ধারক এবং/অথবা তাদের কর্মীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হয়; প্রায়শই পেশাদার তদবিরকারীদের উপশালা রেজিস্টারে নিবন্ধিত তদবিরকারী হিসেবে প্রবেশের প্রয়োজন হয়, যেখানে বেশিরভাগ অন্যান্য উকিলদের তা করা হয় না। যদিও এটি সরকারি সম্পর্কের পেশা ও সেইসাথে জনসাধারণের ব্যাপারের ব্যবস্থাপনা এবং একইসাথে শুধুমাত্র তদবিরকারীদের জন্য নয়; এতে উকিল ও অ-তদবিরকারী সরকারী সম্পর্কিৎ পেশাদাররাও অন্তর্ভুক্ত থাকে যারা তদবিরকারীদের বা অন্যান্য প্রভাব প্রচেষ্টায় সহায়তা করে কিন্তু আইনত তাদের এইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় না। একজন অধ্যক্ষ হলেন এমন একজন ব্যক্তি বা সংস্থা যিনি একজন তদবিরকারী নিয়োগ করেন, অথবা এমন একটি সংস্থা বা ওকালতি গোষ্ঠীর একজন জ্যৈষ্ঠ সদস্য যিনি নিজের পক্ষে ওকালতি করেন এবং/অথবা জনসাধারণের আগ্রহী ব্যক্তিদের পক্ষে আইন প্রণেতাদের সাথে নির্বাচনী সভা পরিচালনা করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং তাঁর কার্যনির্বাহি সহকারীদের বিবেচ্য কোনও বিষয়ে কংগ্রেসের সদস্যদের ভােট সংগ্রহের জন্য নিয়ােগ করেন। সেখানকার উপশালায় প্রভাব বিস্তার বা চাপ সৃষ্টির জন্য তালিকাভুক্ত কিছু পেশাদার লােক থাকেন, যাঁরা তাঁদের মক্কেলদের স্বার্থে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেন। ব্রিটেনে সংবাদ সংস্থাগুলি তদবিরের ও উপশালার কাজ করে। তাদের মাধ্যমে সুকৌশলে গােপনীয় খবর বেরিয়ে যায় জনমত যাচাই অথবা লােকের সেইসব সংবাদে প্রতিক্রিয়া জানার উদ্দেশ্যে।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. অনুপ সাদি, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮; রোদ্দুরে.কম, “তদবির কাকে বলে”; ইউআরএল: https://www.roddure.com/encyclopedia/on-lobbying/
২. সৌরেন্দ্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৫২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!