ভয় নেই, ভয় নেই গানটি বাংলা গণসংগীতের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কালজয়ী সৃষ্টি। গানটির কথা ও সুর দুই-ই বিখ্যাত কবি এবং সঙ্গীতজ্ঞ জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের। তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘের (IPTA) একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গানটি গেয়েছিলেন শিল্পী দেবাশীষ রায়চৌধুরী, রোহিনী রায়চৌধুরী, শুভজিৎ, সৈকত এবং অন্যান্যরা।
রচনার প্রেক্ষাপট ও সময়কাল
গানটি ১৯৪০-এর দশকে লেখা হয়। ওই সময়ে ভারতজুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের তীব্রতার পটভূমিতে সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে গানটি রচিত হয়। এটিকে প্রায়ই সব আধুনিক গণসংগীতের অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। গানের বৈশিষ্ট্য ও আবেদন হচ্ছে গানটি বিপ্লবের আহ্বান করে। গানে সংগ্রামী যোদ্ধাদের রক্তকে পতাকা সম্বোধন করে সমাজকে অমিত শক্তিতে এগিয়ে নেবার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গানের প্রধান লক্ষ্য ছিল সাধারণ খাটা-খাওয়া মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা। যারা সমাজ ও শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শোষণ করত, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি মানুষকে উৎসাহিত করতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি সমাজ গড়া যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তাঁর গানগুলো শুধু আমাদের দেশের কথা বলেনি, বরং সারা বিশ্বের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের দুঃখ এবং ক্ষোভের কথাও ফুটিয়ে তুলেছে। এ কারণেই তাঁর গানগুলো আজও কালজয়ী হয়ে আছে।
সুরশৈলী
জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের এই গানে ঐতিহ্যের পাশাপাশি গণসংগীতের উপযোগী তেজোদীপ্ত সুরের সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। গানটি কে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সদস্যবৃন্দ গেয়েছেন সংঘের শিল্পীদের কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে। গানটি সারেগামা প্রকাশ করে।
গানের কথাসমূহ
ভয় নেই, ভয় নেই, ভয় নেই।
মরণের পাল তুলে জীবন তো আসবেই,
ভয় নেই।
ভাঙাগড়া দ্বন্দ্বের ঢেউ তুলে আসবেই,
ভয় নেই।
আমাদের হাতে-গড়া জীবন বহন করা
তরণী তো ভাসবেই,
ক্ষয় নেই, ক্ষয় নেই, ক্ষয় নেই।
ভয় নেই, ভয় নেই, ভয় নেই।।
ভাঙা খসা ভেঙে যাক খসে যাক,
ঝরে যাওয়া মরে যাওয়া উড়ে যাক,
ক্ষয়ের পাত্র ভরে জীবন তো আসবেই,
ভয় নেই।
ভয় নেই, ভয় নেই, ভয় নেই।।
আরো পড়ুন
- ভয় নেই, ভয় নেই, মরণের পাল তুলে জীবন তো আসবেই
- মুক্তিরণের সাথী ওরে মুক্তিরণের সাথী
- এসো মুক্ত করো, মুক্ত করো অন্ধকারের এই দ্বার
- শাহেরা খাতুনের গাওয়া তিনটি মেয়েলী গীত বা সহেলা গীত
- একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি — পীতাম্বর দাসের রচিত বাংলা দেশপ্রেমের গান
- আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে! সপ্ত-সিন্ধু কল্লোল রোল বেজেছে
- হীরেন বসু আধুনিক বাংলা ভাষার গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক
- শেফালী তোমার আঁচলখানি বিছাও শারদ প্রাতে, চরণে চরণে তোলো রিনিঝিনি
- আমার আঁধার ঘরের প্রদীপ যদি নাইবা জ্বলে, কণ্ঠ-মালার বকুল যদি যায় গো দ’লে
- প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে ছিলেন আসামের গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের রাজকন্যা
- প্রতিমা বড়ুয়ার গান হচ্ছে উত্তরবঙ্গের এমন ধরন যার মূল বিষয় শ্রম, বেদনা, প্রেম
- জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র ছিলেন বিংশ শতকের কবি, লেখক, গীতিকার
- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন রোম্যান্টিক গানের জনপ্রিয় গীতিকার
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত বাংলা গান হচ্ছে প্রেম, স্বদেশী ও হাসির গান
- অতুলপ্রসাদ সেনের রচিত বাংলা গান হচ্ছে দেশপ্রেম, ভক্তিমূলক ও প্রেমের সংগীত
- কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত হচ্ছে দেশপ্রেম, প্রেম, ধর্মসংগীতসহ রাগ ধারার
- ভাদু মূলত কৃষি বা ফসল তোলার উৎসবকে কেন্দ্র করে আচার অনুষ্ঠানের গান
ইউটিউবের গানের তালিকা থেকে দ্বিতীয়টি শুনুন
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন রোদ্দুরে.কমে প্রকাশ করা হয় এবং সেখান থেকে ফুলকিবাজ.কমে বর্ধিত আকারে প্রকাশ করা হলো।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।