অনুপ সাদির হাফ সেঞ্চুরি এবং আমার লেখার হাতেখড়ি

আমাদের দেশে অনেকেরই একাধিক জন্মতারিখ রয়েছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ অনুযায়ী যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রকৃত বয়সের চেয়ে কম। অপরটি অরিজিনাল যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত জন্মতারিখের চেয়ে বেশি। অনেকেই কিছু সুবিধা পাওয়ার জন্য ইচ্ছেমত জন্মতারিখ বাড়িয়ে/কমিয়ে/সংশোধন করে নেয়। সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এ সমস্যার সহসাই সমাধান হচ্ছে না। ইউএনও হিসেবে কাজ করার সময়  এমন একজন ভদ্রলোকের সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং একটি বেসরকারি  কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ। বিপত্তি ঘটলো তার জন্মতারিখ নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যবহৃত তার জন্মতারিখ বিবেচনায় নিলে তিনি ষাটোর্ধ অর্থাৎ চাকরি হতে অবসরে। আবার চাকরিতে ব্যবহৃত জন্মতারিখ ধরলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মিনিমাম বয়স তার হয় না। আবার আমার মত অনেকেই আছে যাদের একটিই জন্মতারিখ; তাও আবার নকল। সেই পঞ্চম শ্রেণি পাস করে হাইস্কুলে ভর্তির সময় প্রাইমারি স্কুলের হেডস্যার যে চাবি মেরে ছেড়ে দিয়েছেন, ওটাই জনম ভরে চলিতেছে। 

এবার আসি আসল ঘটনায়। একনায়ককেন্দ্রিক আমার এই লেখার নায়ক শেখ সাদি ওরফে অনুপ সাদি আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বর্তমানে সে দিনাজপুর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। অনুপ সাদি একাধারে একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, প্রকৃতিপ্রেমি, আলোকচিত্রী এবং সাম্যবাদী ধারার চিন্তাবিদ। একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য মার্কসবাদী লেখক হিসেবে পরিচিত সে। সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, গণতন্ত্র, সংস্কৃতি, সাহিত্য,পরিবেশ ইত্যাদি তার লেখার প্রধান উপজীব্য।  বাংলাদেশের ক্রমক্ষয়িষ্ণু মার্কসবাদী আন্দোলনের সময়ে সে নিজেকে মার্কসবাদী-সাম্যবাদী আন্দোলনে যুক্ত করেছে এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছে। 

এবছরের জানুয়ারি মাসের কোনো এক শনিবার। দুপুরে একটু দুই দেরিতে গোসল সেরে লাঞ্চে বসবো। এমন সময়ে দেখি সাদির দুটি মিসড কল। ভাবলাম লাঞ্চ সেরে ওকে কল ব্যাক করি। আবার ভাবলাম সাদি সচরাচর কল দেয় না। জরুরী কিছু হতে পারে। তাই কল ব্যাক করলাম। কোনো ভূমিকা ছাড়া সে বলল, আসছে জুনে সে পঞ্চাশে পা দিবে। এ উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হবে। আমি যেন তার সম্বন্ধে একটি লেখা দেই। দুটি জিনিস আমাকে স্ট্রাইক করলো। বয়স পঞ্চাশ আর আমার একটি লেখা দিতে হবে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী ও আমার চার দিনের ছোট। আমার আর ওর  এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স, বিসিএস সমানতালে। ওর পঞ্চাশ হলে আমারও যে ঢেঁড়  কম নয়, তা নতুন করে মনে উঁকি দিল। মনের মধ্যে যাই থাক বয়স যতদিন চাপিয়ে রাখা যায় ততই মঙ্গল। ধমকের সুরে ওকে বললাম পঞ্চাশ কী করে হয়; সার্টিফিকেট অনুযায়ী তো সাতচল্লিশ প্লাস। ওর সোজা উত্তর, তুই সার্টিফিকেট ধুঁয়ে পানি খা, মেঘে মেঘে কত বেলা হয়েছে টের পাসনি। সরকার কর্তৃক স্বীকৃত একাধিক সনদ বা প্রমাণকে বয়স সাতচল্লিশ থাকা সত্ত্বেও নিজ গরজে আসল বয়স পঞ্চাশ জাহির করে সেলিব্রেট করা সত্যের ঢোল বাজানো সাদির একটি পুরোণো পরিচয়। যাহোক কোনভাবে পঞ্চাশ মেনে নিলাম যদিও মুখে আনি না। এবার আমার লেখালেখির ঝামেলা উৎরানোর পালা। ওকে বললাম, আমার লেখাপড়া তো শিকেয় উঠানো। লেখালেখি করব কিভাবে। ও বলল, চিন্তা করিস না। আমার কয়েকটি বই তোকে পাঠিয়ে দিব। তোর ঠিকানা টেক্সট কর। আবারো ওর কাছে নতি স্বীকার করে বাসার ঠিকানা পাঠালাম। দুই-তিন দিন পর দেখি আমার বাসার ঠিকানায় ওর কয়েকটি বই এসে গেছে। অবশ্য একজন ভালো লেখক ও বন্ধু হিসেবে সে আগেও বেশ কয়েকবার আমাকে তার লেখা বই পাঠিয়েছে। আর আমি অধম পাঠক হিসেবে দু-চার পৃষ্ঠা  নেড়েচেড়ে ওর বই রেখে দিয়েছি বুক সেলফের কোন এক চিপায়। যাহোক এবার আর না করার সুযোগ নেই। কিন্তু আজ বসি, কাল বসি, এমন করতে করতে আর বসাই হয় না।

সাদির সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৪ সাল থেকে। এসএসসি পাশের পর আমরা ভর্তি হই ঢাকা কলেজে। মানবিক বিভাগের এ শাখার ছাত্র আমরা আবার একই হলের (দক্ষিণ ছাত্রাবাস) বাসিন্দা। ঢাকার খুব কাছে মানিকগঞ্জ থেকে আসা আমার চাইতে সুদূর ঠাকুরগাঁও থেকে আসা সাদি অনেক বেশি সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী।  খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, সে তৎকালীন রাজশাহী  বোর্ডের মানবিক বিভাগ হতে ১৩তম বোর্ড স্ট্যান্ড করা। তাই ওর বুকের পাটা একটু বেশিই স্ফীত। ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক যেন একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। কারো দিকে কারোর তাকানোর সময় নাই। সবাই ফাইটার। বুয়েট, মেডিকেল, ঢাবির নিচে কোন আলোচনা নাই। সবাই যার যার মত সিরিয়াস। একই হলে থাকার পরও তার সাথে আমার সখ্যতা খুব বেশিদূর গড়ায়নি। তার সিরিয়াসনেস দেখে ধরে নিয়েছিলাম এইচএসসিতে তার হয়তো আরেকটি বোর্ড স্ট্যান্ড থাকবে। আর আমি  কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতাম, একটা স্টার মার্কস  নিয়ে যেন যেতে পারি।  কিন্তু বিধাতা কিভাবে যেন ওর আর আমার কাঙ্খিত রেজাল্ট উল্টিয়ে দিলেন। তবে ঢাকা কলেজ হতেই কিশোর  সাদির  সাহিত্য প্রতিভা বিকশিত হতে শুরু করে। ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের উজ্জ্বল নক্ষত্র আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্যারের সাথে তার পরিচিতি ঘটে এবং স্যারের সান্নিধ্যে সে সাহিত্য, ভূগোল ও মনোবিজ্ঞানে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সাদির সাথে এবার ওয়ানডে ইনিংস; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। এবার ওর সাথে  আমার সখ্যতা বাড়তে থাকলো। কারণ এত এত হীরে-জহরতের মাঝে আমার ফোকাস সাবেক ডিসিয়ান (Ex Dhaka College)।  ওর বুকের পাটা এখন আরও বেশি স্ফীত । মনি-মানিক্যে  ঠাসা কাঙ্খিত ডিপার্টমেন্ট পেয়ে সাদির পা যেন আর মাটিতে পড়ে না। এবার  তার টার্গেট যেকোনভাবে বিভাগে ফার্স্ট হয়ে এই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবে। আমি একটু ভেবেচিন্তে হিসাব-নিকাশ করে ওকে  বললাম, নজরটা একটু নিচে নামা। শুরু থেকে বিসিএসের জন্য ট্রাই কর। কাজে লাগবে। যাহোক, সাদির বিভাগের ফার্স্ট হওয়া এবং শিক্ষক  হিসেবে যোগদান করার আকাশচুম্বী স্বপ্ন উবে যেতে সময় লাগল না। ওর মনোযোগ চলে গেল ডিপার্টমেন্টের বাইরের পড়াশোনায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় অধ্যাপক; বিশেষ করে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদী চেতনায় বিশ্বাসী অধ্যাপকদের সান্নিধ্য পেতে। এসময় বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করল। বইপোঁকা সাদি গল্প, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জীবনগাঁথা ইত্যাদি নিয়ে লিখতে লিখতে জাত লেখকের তকমা পেয়ে গেল। বইমেলায় মাঝে মাঝেই তার বই প্রকাশ পেতে থাকলো। ২০০০ ও ২০০১ সালের মধ্যেই ফিচার সাংবাদিক হিসেবে সে বেশ সুনাম অর্জন করল। এ সময়ে সে নীলিমা ইব্রাহিম, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ মনজুরুল  ইসলাম, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, আহমদ  রফিক, কেএম সোবহান, এমাজউদ্দিন আহমেদ ও ফখরুল আলম স্যারের মতো ডাকসাইটে লেখকদের  সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। ইংরেজি বিভাগের আইকন ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারকে  নিয়ে তার রচিত প্রবন্ধ ‘দিন বদলের যোদ্ধা’ দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

অনার্স মাস্টার্স শেষে ২৪তম বিসিএস এর মাধ্যমে আমি যোগদান করলাম প্রশাসনে আর সাদি শিক্ষায় অর্থাৎ সরকারি  কলেজে।  এবারও সে যার পর নাই খুশি । অন্য কোন ক্যাডারে  আসার আর কোনো চেষ্টা করেনি। কোনো পদ-পদবীর লোভ কিংবা ভবিষ্যৎ চিন্তা সাদিকে কখনো বিচলিত করেনি। দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বেশ কয়েকটি কলেজে শিক্ষকতা করে সে সুনাম অর্জন করেছে। সরকারি কলেজ তো বটেই,  অনেক বেসরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা ব্যাচের পর ব্যাচ পড়িয়ে  অনেক টাকার মালিক বনে যান। সাদি সেদিকে পা মাড়ায় নি।  শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে সে প্রাণভরে উপভোগ করেছে এবং ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মন জয় করেছে।  বাকি সময়টা ব্যয় করেছে ভ্রমণ ও লেখালেখিতে। গাছপালা, পশুপাখি, নদ-নদী, খাল-বিল, পুরাকৃতি,  স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি;  বিশেষ করে যেগুলো বিলুপ্তপ্রায়;  সেগুলোর উপর তার তীব্র  আকর্ষণ।

দেখতে হালকা-পাতলা, মাথায় লেখকসুলভ লম্বা-কোঁকড়া চুল এবং কথায় একটু রাজশাহী-চাঁপাইয়ের টানের সাদির গুণের বিপরীতে আমার এ লেখা  একেবারেই বেমানান। সাদি যেখানেই গিয়েছে সেখানকার প্রাকৃতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং পরে সেগুলোকে সাহিত্যমর্যাদা দিয়ে ছেড়েছে। মনে আছে আমি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় ইউএনও থাকা অবস্থায় সে সস্ত্রীক আমার বাসায় এসেছিল। দুদিন ঘুরে ঘুরে পুরো উপজেলা দেখেছে, বিশেষ করে মৃতপ্রায় চন্দনা নদী নিয়ে সে অনেক গবেষণা করেছে। পরবর্তীতে তার লেখায় এসব স্থান পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় ডিসি থাকা অবস্থায় আমি ভেবেছিলাম সে চুয়াডাঙ্গায় আসবে। তাকে আসতে বলেছিলাম কিন্তু সে সময় করে উঠতে পারেনি। তপোবন প্রেমিক সাদি যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই তার সাধ্যমত গাছ লাগিয়েছে। এই ধরণীকে সুশোভিত রাখতে  আজ আমাদের অনেক সাদির প্রয়োজন।  

উইকিপিডিয়া বাংলাতে সাদির বিশাল অবদান রয়েছে । ২০২২ সাল পর্যন্ত সে উইকিপিডিয়াতে ৪৫০০০ টির বেশি সম্পাদনা করেছে এবং ১৪০০ টি আলোকচিত্র যুক্ত করেছে। এছাড়া নিবন্ধ লিখেছে প্রায় ১৬০০টি। তার এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৫ সালে ঢাকার ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে অয়োজিত উইকিপিডিয়া বাংলাদেশের দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে সে যোগদান করে এবং ‘সেরা উইকিপিডিয়ান’ হিসেবে পুরস্কৃত  হয়। এছাড়াও বাংলা উইকিপিডিয়ার একজন প্রতিনিধি হিসেবে সে ইন্ডিয়া উইকিকনফারেন্স ২০১৬ উপলক্ষে ভারতের চন্ডিগড় ভ্রমণ করে। ২০২৫ সালে সে উইকিপিডিয়ার একটি সম্মেলনে কেনিয়া সফর করে। অনলাইন লেখালেখিতেও সে সিদ্ধহস্ত। ২০১৭ সাল থেকে সে রোদ্দুরে.কমে লিখতে শুরু করে এবং ২০২১ সাল থেকে ফুলকিবাজ.কমে  তার নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়। এ দুইটি সাইটে সে আড়াই হাজারেরও বেশি লেখা দিয়েছে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ সাদিকে নেপাল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে নেপালের পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Advanced Communication Education and Research (IACER) হতে সে উচ্চশিক্ষায় এমফিল ডিগ্রি অর্জন করে। সেখানে পিএইচডি করার জন‍্য সে অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু মনের মতো বিষয় ও সুপারভাইজার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পিএইচডি আর করা হয়নি।

সংস্কারমনা ও মুক্তচিন্তার অধিকারী সাদি আপাদমস্তক সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদ চেতনায় বিশ্বাসী। পুঁজিবাদ, পুঁজিবাদের শোষণনীতি, শ্রেণি-বৈষম্য, কুসংস্কা্‌র, ধর্মীয় গোঁড়ামির  বিরুদ্ধে সে আজীবন সোচ্চার। সমাজতন্ত্র, মার্কসবাদ ও হুমায়ূন আজাদ নিয়ে সে কয়েকটি প্রবন্ধ রচনা করেছে। অন্যদিকে বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা, বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও লেলিনের সাহিত্য ও ধর্মচিন্তা নিয়ে সে  কয়েকটি প্রবন্ধের বই সম্পাদনা করেছে। ২০২৪ সালে আমি যখন সরকারি কাজে রাশিয়া ভ্রমণ করি তখন বারবার সাদির কথা মনে পড়েছে। রাশিয়ার যেখানে সেখানে লেলিনের আবক্ষ মূর্তি। ভাবছিলাম সাদি রাশিয়া আসলে কতই না খুশি হতো। আমার বিশ্বাস, ভ্রমণ নেশা মেটাতে অথবা সমাজতন্ত্রের ভগ্নাবশেষ দেখতে সাদি হয়ত একদিন রাশিয়া আসবে। 

সাদির আরেকটি বড় গুণ হলো সে স্পষ্টবাদী ও সৎ সাহসী। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে সে নির্ভীক। আমার মনে হয় বিধাতা সাদিকে দৈহিক শক্তি কিছুটা কমিয়ে মুখে বাড়িয়ে ব্যালেন্স করেছেন। মুখ দিয়ে ঠুস-ঠাস গুলি করে যেকোন সময় সে যেকোনো রাঘব-বোয়াল শেষ করে ফেলতে পারে। Satire সম্ভবত সাদির লেখালেখির প্রধান অস্ত্র। তার ‘উন্মাদনামা’ এবং ‘মনোজগতে মঙ্গা, উপরিকাঠামোতে লেহেঙ্গা’ বই দুটি আমাদের সমাজ ও রাজনীতির নানা অসঙ্গতিকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছে।

অনুপ সাদির সহধর্মিনী দোলন প্রভা ভাবির কথা দুছত্র না লিখলেই নয়। প্রযুক্তিঘন বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা দুই বিপরীত মেরুর দম্পতি ও তাদের কারণে-অকারণে খুনসুটি দেখতে অভ্যস্ত। এক্ষেত্রে অনুপ সাদি ও দোলন ভাবি একেবারেই ব্যতিক্রম। ঘরে-বাইরে, চিন্তা-মননে তারা যেন হংসমিথুন। চাকুরি, ভ্রমণ, সাহিত্যচর্চা, সাহিত্য সমালোচনা বলতে গেলে সকল কাজে ভাবি সাদির একজন সহযোদ্ধা। সাদির বেশ কয়েকটি বইয়ের সম্পাদনাও করেছেন ভাবি। তাদের সুস্থ-সুন্দর দাম্পত্য জীবন এবং যৌথ প্রযোজনার সাহিত্যচর্চা দীর্ঘায়ু হোক এই কামনা করছি। লেখক তো বটেই, পাঠকমাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন, সাদির অনুরোধে এ লেখাটি আমার প্রথম লেখা। শেষ লেখাও হতে পারে। মাথার মধ্য অনেক ভাবনা ঘুর ঘুর করলেও কলমের নিব বা কীবোর্ড দিয়ে তেমন কিছুই বের হয় না। আবার আজকের লেখা আগামীকালের মাথাব্যথার কারণ হয় কী না, সেটাও একটা ভাবনার বিষয়। যাহোক, অনুপ সাদির কলম-যুদ্ধ কখনো থামবে না। লেখক যত পরিণত হয়, তার কলমের ধার তত বাড়তে থাকে। আল্লাহ চাইলে আগামী বারো বছর পর সাদি হয়তো তার শিক্ষক পরিচয়কে গুডবাই জানিয়ে পুরোদস্তর লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং লেখক সমাজে পোক্ত আসন নিয়ে নিবে। সাদির সুবর্ণ জয়ন্তীতে আবারো তাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।  

আরো পড়ুন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটির রচনাকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। অনুপ সাদির ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিতব্য গ্রন্থের জন্য লেখক লেখাটি দিয়েছেন। ফুলকিবাজ.কমে লেখাটি হুবহু প্রকাশ করা হলো। এছাড়াও ছবিটি একটি বাস্তবের ছবি হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!