অনুপ সাদি-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ
পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি
অনুপ সাদি
প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর, ২০০৪
ই-বই সংস্করণ: আগস্ট, ২০১৩
প্রচ্ছদ: ভ্যান গঘের চিত্র অবলম্বনে শেফা
কম্পোজ: দবিরুল ইসলাম
ই-বই পৃষ্ঠাসজ্জা: অনুপ সাদি
উৎসর্গ
কবিতাপ্রেমিক জনগণকে
২০১৩ সালের ই-বই সংস্করণের ভূমিকা
বইটির নামের সাথেই জড়িয়ে আছে রাজনীতির গন্ধ। আমার কবিতার প্রথম এই বইটির মূল বিষয়ও ছিল রাজনীতি। সেই রাজনীতি যা ভবিষ্যতকে সমতার আলোয় আলোকিত করবে। সেই আলো ফুটিয়ে তুলতে আমি সাজিয়েছিলাম আমার জীবনের সেই সময়গুলো যখন দিন-রাত্রি, আলো-অন্ধকার, সাদা-কালো পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। আমি ছিলাম সেসব দ্বন্দ্বের মাঝখানে এক আনাড়ি কলমসৈনিক। যে বয়সে জনগণের বাহিনীতে যোগদানের জন্য তরুণদের লাইনে দাঁড়ানোর কথা, সেই বয়সে আমি শব্দকে জনগণের পক্ষের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছিলাম।
আর ততদিনে আমার পাশের শিক্ষিতরা রাজনীতিকে ঘৃণা করতে শিখেছিল এবং সর্বত্রই দোর্দণ্ডপ্রতাপে নিরাজনীতিকরণ চলছিল। সেই সময়ে এক তরুণ শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতিকে গ্রহণ করছে তার সমস্ত শব্দে। একেকটি শব্দ তার কাছে সমতার চকমকি পাথর আর রক্তরাঙা ফুলের স্নিগ্ধ সুগন্ধি হয়ে ধরা দিচ্ছে। সুগন্ধ আর উজ্জ্বলতার সংস্পর্শে শব্দের পর শব্দ দিয়ে তৈরি হচ্ছে কবিতার আবাসভূমি যেখানে শ্রমিক-কৃষকেরা দুদণ্ড জিরিয়ে নিতে পারেন।
টগবগে যন্ত্রণাদগ্ধ সেই সময় ফুটে উঠছে এক উঠতি কবির আল্পনা, বাজনা আর তুলিতে। একেকটি দিন যেন তার কাছে শব্দকে নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে গানের মালা গাঁথা। গান যেন কখনো অস্ত্র কখনোবা জলের ক্রন্দন। দিনগুলো আর কবিতাগুলো তখন মিলেমিশে তৈরি করছিল একটি মানুষ যে মানুষটির নাম অনুপ সাদি।
এই বইটির কবিতাগুলো লেখা হয়েছিল ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে। দুএকটি তারও আগে লেখা হলেও সবগুলিই বই আকারে বের করার পূর্বে যথেষ্ট পরিবর্তন করা হয়। এমনকি এই ই-বুক সংস্করণ করবার সময়েও দুএক জায়গায় বদলে দেয়া হয়েছে। আমার সেই কবিতাগুলো বই আকারে বের করা হয়েছিল নভেম্বর, ২০০৪ সালে। তারপর ৯ বছর কেটে গেছে। বদলে গেছে অনেক কিছু। ভবিষ্যতেও অনেক কিছু বদলে যাবে। সেই বদলে যাওয়াকে আমার কবিতাগুলো যদি জনগণের পক্ষে নিয়ে যেতে সামান্য হলেও সাহায্য করে তবেই আমার চেষ্টা সফল হবে।
আমার প্রতিটি বইয়েই বানান সহজিকরণের একটা চেষ্টা থাকে। এই কবিতার বইটিতেও বানানকে নানাভাবে সহজ করা হয়েছে যদিও পুরো বইটিতে হয়তোবা সর্বত্র একই বানান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আশা করি পাঠকগণ এ-ব্যাপারটিকে সহজভাবেই গ্রহণ করবেন।
অনুপ সাদি
১৭ আগস্ট, ২০১৩।
সূচিপত্র
| ক্রম | কবিতার নাম |
| ০১ | মহাকালের মটরদানায় দেশভাগের মানচিত্র |
| ০২ | বিঘোষিত মুক্তাঞ্চলের সীমানায় এক বিমর্ষ গেরিলা |
| ০৩ | ওইতিহাসিক স্বপ্নপ্রাণ |
| ০৪ | সমসাময়িক নিষ্ঠা |
| ০৫ | ব্যর্থ স্বদেশ: রক্তের মতো স্বপ্নের মৃত্যু |
| ০৬ | স্বাপ্নিকের অভিনয় |
| ০৭ | পরিত্যাগ সম্পর্কে |
| ০৮ | আসছে আসছে অপরিচিতার ঝড় |
| ০৯ | চিরন্তন প্রত্যাখ্যানের আগমনি গান |
| ১০ | পরাজিত জীবনের চিহ্ন-বলিরেখা |
| ১১ | পথভ্রষ্ট হারকিউলিস |
| ১২ | প্রজাপতি জ্বালায় পোড়ায় নিজে পোড়ে না |
| ১৩ | আমাদের সমসাময়িক ঘরোয়া পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশা |
| ১৪ | সভ্যতায় বাঙলাদেশ, ২০০১ |
| ১৫ | আহ কী চমৎকার! |
| ১৬ | সে ছিল আমার সন্ধ্যাচারিনী |
| ১৭ | প্রেমের পরাজয়, ক্ষমতা ও দম্ভের কাছে |
| ১৮ | রক্তস্রোত রক্তজবা |
| ১৯ | অমেরুদন্ডি তাত্ত্বিক |
| ২০ | শিরোনামহীন আগ্রাসন |
| ২১ | একদিন মার্কেটে কিছুক্ষণ |
| ২২ | সহকর্মিদের প্রতি |
| ২৩ | বাঁচবার প্রয়োজন |
| ২৪ | শতবর্ষি দুর্ভিক্ষ |
| ২৫ | নাবিকের আধুনিক বিতৃষ্ণার ব্যবচ্ছেদ |
| ২৬ | ঘৃণার গান, এক টুকরো |
| ২৭ | গন্ধরাজের গন্ধে ভরা ঘর নেই |
| ২৮ | প্রকৃতির গান, হেমন্তের দুপুরে |
| ২৯ | আমি মৃত্যুকুপে, তুমি জোস্নাস্নাত |
| ৩০ | ছিঁড়ে যাওয়া ভ্রুণ এবং দাসি প্রিয়তমা |
| ৩১ | হাওয়ায় ওড়ে দশদিক |
| ৩২ | দুঠোঁটে ক্লান্তির বিষন্ন কাজলরেখা |
| ৩৩ | পুরাতন পুরুষ |
| ৩৪ | কিল্লার মোড়ে চিল্লা মারে হায়েনা শয়তান |
| ৩৫ | হে উপমানব, সুপথে এসো |
| ৩৬ | কিছুটা স্বাধীনতা কিছুটা রোমাঞ্চ |
| ৩৭ | পৃথিবীর কামরায় |
| ৩৮ | প্রথম দিনের উড্ডয়ন |
| ৩৯ | একুশের গান |
| ৪০ | তুমি আমাদের জীবনের অংশ |
| ৪১ | একদিন তোলপাড় বর্ষার বৃষ্টির ফোঁটায় |
| ৪২ | গতিশীল কালের জননী |
| ৪৩ | পৌরাণিক প্রেম |
| ৪৪ | প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ |
| ৪৫ | ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক |
| ৪৬ | তৃতীয় পক্ষের গমনাগমন |
| ৪৭ | মৃত্যু এসে নিয়ে যাক শৃঙ্খলিত প্রাণ |
| ৪৮ | বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা |
| ৪৯ | অনন্যা |
| ৫০ | সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩ |
| ৫১ | যুদ্ধবিরোধি কবিতা, ইরাক ২০০৩ |
| ৫২ | পিতা-পুত্র |
| ৫৩ | তুমি শোনাও সভ্যতার ডাক |