শতবর্ষী দুর্ভিক্ষ

জীবন হয়েছে আজ কয়লার হৃদপিণ্ড,
ধুঁকে ধুঁকে মরছে ভাগাড়ের পৃথিবীতে;
জ্বলছে ক্ষুধায় আক্রান্ত শুকনো কাঠির শরীর!
গলায় ঝুলছে তাবিজ, ভিতরে ঈশ্বরের তিন মৃত পিতা;
মহাক্রন্দন শোনে রাষ্ট্র—তবুও ভাবখানা অন্ধের, উপেক্ষার।

বয়স ছয় কি সাত।
উজাড় জনপদের উচ্ছন্ন ভিটার পাশে উপুড় হয়ে
ধুঁকছে এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশু;
ঠোঁট দুটো মাটিতে লাগানো—যেন গিলবে গোল সমগ্র পৃথিবী,
পশু-পাখি, সমুদ্র, নদী ও পাহাড়,
সুন্দর সাদা সুখী প্রেতাত্মার নারী,
বোতল-পুরুষ আর বোকা বোকা মোটাসোটা রাজনীতিক,
আমলা, গামলা আর গামলার জল!

চৌচির চারদিক, বিরাণভূমি সকল ভূ-ত্বক,
মরা খড়, মরা ঘাস, মহা মহামারী প্লেগ;
ইঁদুরের লাফালাফি ক্ষুধার টুকরো টুকরো ব্যাপ্ত শহরে,
দুঃখ শুধু অবিভাজ্য শিশুটির চোখে।

কঙ্গো ও নীলের দুই তীরে ঢেউ তোলে—
হাঁপাহাঁপি, দৌড়, লাফ,
বর্ণবাদ অভিশাপ;
মাঝখানে মুমূর্ষু শিশু,
বয়স ছয় কি সাত!
দাঁত দিয়ে জিভ কেটে রক্ত পান করেই তবে
করবে সে প্রতীক্ষিত শেষ শ্বাস ত্যাগ।

আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ, অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকা
মাংসাশী শকুনগুলোর জন্যে;
ওগুলোর মগজে শুধু—
‘খাবো আজ খাবো,
কচি শিশুর গোশত খাবো;
কচি গোশত বড় উপাদেয়!’

এরপর হবে আঁকা আলোকচিত্র,
আরেক মন্বন্তরে লেখা হবে কবিতা;
কিংবা পড়বে কেউ একই প্রতিবেদন জয়নুলবিহীন বাংলার ফুটপাতে, ঘাটে!
শুধু কেউ জানবে না এ-পৃথিবীর সব কুশাসকের পেটে কত চর্বির ঢিবি,
কত হাজার মূর্তি আছে শহরে রাজার,
কত শত তোরণ নির্মিত হয় মায়ের শাড়িতে!

বুভুক্ষুরা ক্ষুধার নীলিমায়—
মৃত্যুর মধ্য দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখবে শকুন ও আগ্রাসীদের।

রক্ত খেয়েই মরবে যখন, তবে আর নিজেদের জিভ কেটে রক্ত পান কেন?

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment