বাঁচবার প্রয়োজন

আমি সময়কে গড়াতে গড়াতে নিয়ে চলি—
তেলের গোলাকার খালি ড্রামের মতো!
সকালের অভুক্ত পথে ভবিষ্যৎ খুঁজতে গিয়ে
টের পাই সনদপত্র আছে বেশ কটি তিক্ত অভিজ্ঞতার;
স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে বছরখানেক আগে।

তোমার সাথে দেখা হয় মাঝে মধ্যে—
হল গেটে, ক্যাম্পাসে, টিউশনি ফিরতি পথে;
প্রথম আলাপের দিন
স্মৃতিপাথরে
খোদাই করে
রেখেছি অমলিন!
মনে আছে, তোমার চোখের পাতায় ছিল অবিরাম উচ্ছলতার ঢেউ,
আর আজ মুখখানা হয়ে গেছে যেন বাংলার পাঁচ!

হবে না-ই বা কেন?
প্রতিদিনই যারা ঘুরতো দুজন একসাথে—
নবজাতকের আগমনে তারা হয়ে যায় তিনজন;
আমার নেই কোনো বৈষয়িক সুপরিবর্তন!

তোমার নাগরিক বান্ধবীরা
মফস্বলি ভূতদের একদম পছন্দ করে না,
আড়ালে-আবডালে আমাকে তারা ডাকে ‘মভু’ বলে;
আমি জানি, আমি শালা ভূতের অধিক ভূত—
আধখানা নির্ভেজাল গেঁয়ো ফকির,
আধখানা বাস্তুহীন, শিকড়হীন,
গোত্র-জন্মহীন পথের পাশে পড়ে থাকা ছেঁড়া স্যান্ডেল!
মানিব্যাগে আজীবন বহন করেছি ছারপোকা।

গোপনে বলে রাখি—
যদিও হৃদয়ে ছিল একরাশ গোলপাতার কল্পস্বর্ণঘর,
সে ঘরে না এসেই
তোমার তর্জনী শুধু দেখিয়েছে প্রতিদিন
বেঁচে থাকতে সড়বড় কত কী প্রয়োজন!

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment