অমেরুদণ্ডী তাত্ত্বিক

জন্মকালে ছিলি তুই গর্তের কুনো ব্যাঙ,
কোনো ব্যথিত বিকেলে ঢুকে পড়েছিলি কুয়োয়;
সাঁতরিয়ে দিয়েছিলি পাড়ি হাঁটুজল কাদার সাগর!
থপথপ শব্দ তুলে তোর চোখের সামনে দিয়ে চলে গেছে—
সৌখিন বাঁকা চোখের নেশা, দুলদুলে অমৃত ইথারে
ইলিশের ঝকমকে আঁশের মতো ছড়িয়েছে হৃদয়ের বৈদ্যুতিক আলো;
তোর বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকানোর ফুরসত হয়নি তার কোনোকালেই,
তোর ঘোঁত ঘোঁত আওয়াজ তাকে ত্যক্ত-বিরক্ত করেছে।

মাতৃজঠরে মনোযোগ দিয়ে তুই দেখেছিস—
ভিখারি বিশ্বের ক্রোধ ও সংগ্রাম,
আঘাতকারীর পদলেহনে কাটানো হাজার বছর!
দুআনি, সিকি, আধুলির লোভে তোর বাবা আজ উন্নয়ন অংশীদার—
শান্তি রক্ষার সর্দার!

শুকনো কাঠের মতো তোর মামার হাড় ফেটে চৌচির হলে—
ভাবিসনে তুই নাক ঘষে পাবি বারুদের স্বাদ,
ন্যাংটো হয়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাক না তুই হাজার বছর;
চার বোন আর মাকে তোর বাবার সামনে মানে মানে ……………..
তোর ভাইয়ের পাছায় আগ্রাসী সেনাবাহিনীর লাথি অক্ষয় ক্ষত এঁকে দেবে;
শুনবি তুই এ-সব তাজা খবর, কারণ—
এখন তোর মতো শত শত অমেরুদণ্ডী
ইউরোপে জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন তত্ত্ব!

তুই কি জানিস তোর গোষ্ঠীর দুপায়ের মাঝখানে কত শত ক্ষত?
হাতে পরলে কত শত হ্যান্ডকাফ আর বাঁধলে বুকে বোমা,
আর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্যাঁদানি ক’হাজার বার খেলে—
তোর মায়েদের মুক্তি মেলে?

এমন দিনে কাকে তুই কি বলবি বল?
এমন দিনে কারে বলা যায়?

দেখে নে খাবার টেবিলে ভাগে পাওয়া
চমৎকার ফলমূলের অবারিত সমারোহ আছে কি না?
ঘোরানো সিঁড়ির দেয়ালে ঝুলছে কি না পিকাসোর ছবি?

পারবি প্রতি লোমকূপে জড়িয়ে রাখতে তুই
লোনাজলে ভেজা পোশাক-আশাক?
থামাতে পারবি তোর অবিবেকী ক্রিয়া?

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment