নীল শঙ্খচূড়ের চুমু

হুইস্কি, গোলাপগুচ্ছ ও পরমাণুবোমা পরপর
সাজানো আছে অন্ধকার ছাদের শয্যায়;
এখানে সাঁতার হবে তীব্র অহংকারপূর্ণ প্রাণহীন রক্ত-পেয়ালায়!
শতাব্দী পুরোনো সব বট ও বুড়োরা এসেছে,
নেঙটি মাজা মেরে সব খেলতে নেমেছে;
বুড়িদের মৌলিক পরিসংখ্যান সব হৃদয়-চমকানো!

লাইসিয়াম থেকে শান্তিনিকেতনে পড়ে গেছে সাড়া—
তোমাদের বুকের উপরে আজ নৃত্য হবে, গাওয়া হবে গান;
তোমাদের বিবেক ও ইন্দ্রিয় আজ পোড়ানো হবে পাথুরে বারুদে ঘষে!
মোরগ লড়াই হবে ভেঙে পড়া কুরুক্ষেত্রের মাঠে;
দেখবে নারী ও নাইটদের প্রচলিত ঘোড়দৌড়।

কার কত টাকা আছে, কার আছে কত বড় ঘর,
হাঁপিয়ে উঠেছে কে, কার পিঠে পড়ছে চাবুক?
মুখ দিয়ে ঝরছে কার ক্লান্তির ফেনা,
কতটা সইবে কার বারবার সপাঙ সপাঙ?
নীল শঙ্খচূড়ের চুমুতে কার জীবন হয়ে গেছে ত্যানা?

থাকবে পথের দুধারে সারি সারি উৎসুক দর্শক—
মত্ত তরুণ, পাগলি তরুণী, কামুক হিজড়া, শিশু;
সকলেই অপেক্ষায় কখন পুরোনো রেকর্ড ভাঙে!
হঠাৎ পৃথিবী কাঁপানো চিৎকার শোনা যায়—‘জিতেছে, জিতেছে!’
বিজিত সহসা পাশ ফিরে বলে—‘একটু মলম হবে ভাই’;
আর লাফ-ঝাঁপ শেষ হয় আসমানের তীরে।

নুড়ি ও পাহাড়ে গণতান্ত্রিক আগুনের ঝাঁঝ,
মলদ্বারের মতো মুখ গিলছে শিল্প ও হৃদয়!

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment