একদিন মার্কেটে কিছুক্ষণ

মার্সিডিজ দ্রুত এসে থামে মার্কেটে ঢোকার পথে,
নেমে আসে নরম নদীর নারী আমাদের পৃথিবীতে;
ব্যাগ হাতে ঘোরে আর বাড়ায় পণ্য-শোভা, ছড়ায় ঝিলিক!

পেটমোটা বস্তার মতো রুগ্ন শরীরে গড়িয়ে গড়িয়ে চলে দুই ভিখারি—
মাথাহীন একজন, অন্যজনের আছে শুধু মাথা,
কপিকলের জোরে নড়েচড়ে, এদিক-ওদিক ঘোরে;
শোনে মাইকের চিৎকার ও সমকালীন রাজ-নীতিকথা।
সবুজের দেশ আজ এ দুটো আধা-মানুষের কাছে—ছোটখাট ভাগাড়ের লাশ!
তদুপরি তারা দুজন মধুর অন্বেষণে গুনগুন গান ধরেছে:
‘একটা কালো জামা আর দুটো কাকতাড়ুয়া আমাদের দাও।’

তারপর মুশকিল হলো, প্রতিদিন রাত হলে আপনি দেখতে পাবেন—
নিয়ন আলোয় গলার থকথকে কফে পৃথিবীকে উগরে দেয়
এক মধ্যবয়স্কা যক্ষ্মা রোগিণী;
ক্যানসার রোগী বেচে রাস্তার ধারে মগজের ঘোল,
দাম প্রতি কাপ এক টাকা;
আশপাশে দাঁড়িয়ে জনা দশেক খরিদ্দার গিলছে মদিরা যেন!

পথের ধারের পার্শ্ববর্তী শিশুটি পা ছোঁড়ে;
অভিমানে অকস্মাৎ মাথা নিচু করে ফোঁপায় দুবার,
মা তার পরম সোহাগে একটা বেলুন দেখিয়ে ডাকে—‘আয়, বাবু আয়’;
আর মুখে তুলে দেয় কাঁচা যৌবনের শাঁস।
শিশুটিও চুষে নেয় বাঁচবার দুরাশায়—
রাজ্যের জীবিত সব কড়া অভিশাপ!

গ্রীষ্মের মধ্যাহ্নবেলায় ডাস্টবিনে জয়নুলের শিল্পের মহরত চলে;
নাকের শিকনি নিয়ে ব্যাহত বালক এক—
কৌতূহলে টেরচা চোখে দেখে মদমত্ত ক্রীড়ারত রঙিন পোস্টার,
আর চুষছে দুইটি ঠোঁট পরম আদরে;
দুটি বালিকা বারবার ঢুঁড়ে বয়সী মাপের খোরাক,
এসেছে তাদের জীবনে আলোকোজ্জ্বল রাত।

রিকশার হুড চেপে চলে যায় প্রভু আর ছোট পাখি,
নিয়মিত সার্কাসে কসরত আর নতুন মহরত চলে অবিরত;
ঘটনার ফাঁকে কবি একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেঁকে নেয়—
কাগজে কবিতার রঙ এবং
হৃদয়ের মাঝখানে পুষে রাখে হৃদয়ের ধড়;
আর দূরে হৃদয়ের কাপে চুমু খায় দুজন দুরকম।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment