সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩

ইথারে খবর আসে ‘কারফিউ, দেখামাত্র গুলি’
প্রেমিক শুধায় ‘প্রেমের কী হবে?’
প্রেমিকা ঘাড় বাঁকা করে বেশ কিছুক্ষণ পরে দেয় সমিল জবাব—
‘জীবনবিহীন হৃদয়ের টান লাগে নাকো ভালো।’
তারপর নিঝুম অন্ধকার ও কথার বিরতি
অনন্তকাল;
মাঝে মাঝে
বিজলির চমক দেখায় বোমারু বিমান ও সতেজ সভ্যতা।

কাদের মৃত্যু দিয়ে কারা যেন সবিরাম ইতিহাস লেখে?
নলখাগড়া ও রাজারাজড়ার বংশপরম্পরা;
ইতিহাস বিভাগের
ভুঁড়িঅলা এখন অধ্যাপক ইমেরিটাস!

পুঁজিবাদ কতটা এগোলো— গরু খোঁজে গরুর রাখাল,
বহুকাল হতে কৃষক রয়েছে নিশ্চুপ;
হা করে তাকিয়ে আছে আকাশে, কখন বৃষ্টি ও বোমা নামবে।

সংগ্রামী শ্রমিকবিহীন বাংলায় চাকাগুলো সব স্বয়ংক্রিয়,
শুধু সারমেয়র জিভ দিয়ে ক্লান্তির লালা ঝরে,
গলায় বাঁধা ধারাবাহিক পরাধীনতার মতো আঠালো গলাবন্ধ— সে প্রভুভক্ত কিনা?

টিয়ার গ্যাসের ঝাঁজে তোমাকে ডুবিয়ে মেরে অন্ধকারে,
সম্রাটের গৃহে ছুঁড়িদের পাজামার গিঁট খোঁজে পুলিশি নাগর।
দ্রৌপদীর শাড়ি ওড়ে সংসদের ছাদে,
ভিক্ষুকের ঝোলায় লাফায় বুদবুদের মতো স্বাধীনতার রক্ত;

আগুন, পাথর, ইঞ্জিন ও পুরোনো ডাস্টবিনে
কবিতা খোঁজে বিশুদ্ধ কবিতার কবি।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment