প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ

একা শহরে দাঁড়িয়ে আছি আমি—
বাজ পড়ে পুড়ে যাওয়া পাতাহীন গাছ।
কখনো নড়ে উঠি ভূকম্পনে কিংবা
দেখি কখন বেখেয়ালে ঘুণপোকা খেয়েছে
কেন্দ্রীয় শাঁস, পাঁজরের অবকাঠামো;
ক্ষণিক বৃষ্টি হলে জংধরা ডালপালা ঝরঝর ঝরে পড়ে,
প্রবল হাওয়ার লুকোচুরি হাড়ে লাগায় টক্কর,
চিন্তাজ্বরে কেঁপে কেঁপে মৃত্যুর সাথে লড়ি বিশ্রী বামন।

বিদ্রোহী ক্রীতদাসের বেড়ি পরানো দুপায়ের মতো
আমার আয়ু ও চোখে হাতকড়া বাঁধা।
কোথায় পালাবো আমি?
কাগুজে ঠোঙার মাঝে বন্দি মাছির মতো
ঘ্যানঘ্যান সুর তুলি
এই বাঁকা রাজপথে,
পরহিংসা সাধক।

গোল গোল চাকার ধুলো গায়ে-মুখে মেখে,
কাঁধে ঝুলিয়ে বড়সড় ঝোলা,
একছড়ি কিনে কাঁচকলা
হেঁটেছি হাজারো যুগে!
চিরসাথি সেই ঝোলার পেট ভরতে গিয়ে ছেড়েছি ভিটেমাটি,
জলডুবি গাঁয়ের বুড়ো আম বাগানের স্নেহ-মায়া,
ছেড়েছি আরও সব প্রেমিকার কলরব।

হয়তোবা ধারাবাহিক পেছনগামী ইতিহাসের ভুলে,
প্রাণরক্ষী উত্তেজনা ও প্রচলিত বংশলোভে
জন্মেই আমি লিখেছি শেওলা পড়া দেয়ালে দেয়ালে—
জানি না জানি না কিছু, চিনি না চিনি না তোমায়;
জন্ম যদি বঙ্গে তোমার, জন্ম মা দিও না আর।

থেকে গেছি আমি এক জনতা-জর্জরিত
রুগ্ন শহরের ঘৃণিত, তেলচিটচিটে, অর্থলোভী, অর্থহীন
পোড়াবৃক্ষ।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment