ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক

জমে আছে মাথার ক্ষতস্থানে
জমাট রক্তপিণ্ডের মতো কালচে বিষাদ;
বুকের বেয়াড়া রোগে কাবু হয়ে বসে থাকি—
ব্যাঙের প্রস্তরমূর্তি, উপপাত্র বাঁকা হাসির; নাম নেই।
শালা গাধা, বলির পাঁঠা, দু-বর্গ ইঞ্চি জমির অস্থায়ী মালিক,
চেয়ার-টেবিলবিহীন মাটিতে বসে খাই,
তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, ফিকফিক হাসি হঠাৎ।

কোলাহলহীন, শব্দহীন, অর্থহীন অচিন নগরে
অকাজ বা কাজ— ইটভাঙা, হাঁড়িভাঙা, ঘুমভাঙা, ডিমভাঙা,
রাষ্ট্রভাঙা, রাজ্যভাঙা ইত্যাদি নেই;
শুধু আছে হতাশা, বিষাদ আর লবণাক্ত দেহ,
যত্রতত্র খ্যামটা নাচ, ভনভনে মাছির গান।

দিনরাত গিলো পেটে রাবারের মতো ভাত,
শোনো সাংসারিক বকুনি খেলা, দেখো সাংবাৎসরিক অবহেলা,
চিত্তহীন বিত্তবিনোদন!
মাঝে মধ্যে দুটুকরো সময় পেলে হঠাৎ কোনোদিন
নিভিয়ে ঘরের আলো একাকী ভাবি রাজ্যের হাবিজাবি,
স্মৃতির ধোঁয়াশা ও ভবিতব্যহীন কুটিল আমেজ।

এসবের এক ফাঁকে বুঝতে না বাকি থাকে—
এ জীবন উজবুকের জীবনযাপন,
কেন থামি না করতে মরণযাপন?
ব্যাঙাচির মতো বাঁচি, আর হাড্ডিসার
স্বপ্নগুলো ঘেউ ঘেউ করে
মাথা নামক ঘটির ভেতরে।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment