পুরাতন পুরুষ

চিপতে চিপতে গলে যায় আইসক্রিম,
হয়ে যায় জলের শরবত;
তবুও চিপিস কেন?
কেন তোর ভয়—
না চিপলে জীবন পূর্ণ হবার নয়?

আমি দেখি, প্রতিদিনই ছাদের দড়িতে শুকায় সেই একই কাপড়;
প্রতিদিন রাতে তবে কোন নদীর কোন পাড় ভাঙে,
কোন নদে জোয়ারের শব্দে ভোর হয়?
কার খালি কলসি কোন গাঙে ভরে যায় টইটুম্বুর,
কার কলসি খালি হয় কোন মোহনায়?
কোন পাখি কার ঘরে যায়, কার ডিমে তা দেয়,
কোন বালক কার মৌচাকে ঢিল মারে আর কার মধু খায়?

তারা কি জানে না আইসক্রিম ধীরে গরম হয়?

ভোরের পৃথিবী দেখে নড়েচড়ে
বসে জীববিজ্ঞানের জীব; প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে সেই
পুরোনো একঘেয়েমি, পুরোনো ফাইল চালাচালি!
হঠাৎ কোনোদিন নদীর প্রশস্ত মোহনায় বৈশাখের পূর্ণ ঘূর্ণিঝড়—
তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠার গোলপোস্টে
আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ!

বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হিসাব মেলায় বার বার গুনে গুনে,
পুরোনো দিনের গানে শোনা যায় একই হাঁসফাঁস;
পুরোনো টিনের চালে টিপটিপ জল পড়ে ভেঙে যায় কালিক সুবাস।
প্রতিরাতেই শীত আসে কাছের দোকান থেকে,
গরম কাপড়ে মুড়ে কবরে নামাতে হয় দেহ;
বিশালাকার ভয়—
কবে জন্ম হয়
শরবতের প্রাকৃতিক পুকুর!

অন্যত্র যাবার একটা রুটিন পেলে খুব ভালো হতো;
গাড়ির ছাদে বসে দেখাতাম তোমাদের বিশাল আকাশ,
জানালায় হাত রেখে দেখাতাম দূরের কুয়াশা;
কাছাকাছি কোথাও পাওয়া যেত বিনোদন বাড়ি।

এমন পুরুষ সব তর সয় না—
নারীরা তোদের কাছে শরবতের চেয়েও শতগুণ বেশি মিঠা হয়!

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment