পরাজিত জীবনের চিহ্ন-বলিরেখা

একশত পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেহের ভেতরে ফোটে লাল-নীল পাথরের পানি;
কঙ্কালের কিছু হয় না, তা আমি ভালো করে জানি!
শুধু বুদবুদে, রক্তে-বাষ্পে ছেয়ে যায় এদেশের মেঘ,
হারিয়ে যায় তোমাদের কাব্যে অতি পুরাতন ভাবাবেগ।

জড়পিণ্ড সবাই আমরা, পরের ঘাড়ে চড়ে দেখতে থাকি
পথের ধারের গাছগুলোর হলদে পাতার কোমল নড়াচড়া;
গলে গলে সত্তাবিহীন ক্ষয়ে যায় কড়া রোদে পোড়া
পুরনো সব কবিতার ব্যর্থ পাণ্ডুলিপি!
শিশুরা একরঙা রঙতুলিতে আঁকে মাকড়সার পরিত্যক্ত ঝুল;
নাম, গোত্র, পরিচয় ব্যক্তিত্বহীন তুমি—এই ব্যক্তিস্বাধীনতার যুগে পথের বেভুল
এক চোরাকারবারি পথিক;
তোমার নেই কোমরের বেল্ট ঠিক,
শুধু বুক পকেটের ফোঁড়াটা অবিরাম দেয় পিটপিটে যন্ত্রণা—
অবশেষে একদিন পুঁজ হয়ে গলে পড়ে, অনাহুত আনমনা।

এদেশে শক্ত-সামর্থ্য বীরও হয়ে যায় পুঁচকে পেঁচার
আজ্ঞাবহ ক্রীতদাস, আর তুমি তো কোন ছার!
পাড়াগাঁর লোকদের হয় হাঁসফাঁস শহরের জীবন ধারণে;
দু-ঢোক লবণাক্ত জল, প্রতিরাতের বড়ি আর অ্যাসপিরিনে—
রণে ভঙ্গ দেয় বহুল জনতা।

বেহুদা চাঁদের চোরা কলঙ্কের উপর পা পিছলিয়ে রেখে যায় চিহ্ন-বলিরেখা;
স্মৃতির সৈকতে থাকে পরকালের মুদ্রণের ছাপ, অপব্যাখ্যা,
আর ঘরের শিকেয় ঝুলিয়ে রাখে ক্রমগামী বংশধরেরা—
পূর্বপুরুষের বিষণ্নতার ব্যর্থ ছায়ামূর্তি, অপারগতা!

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment