লাল ত্যানায় মোড়া মুমূর্ষু কফিনের উত্তরাধিকার

তীব্র অবজ্ঞা, উদাসীনতা ও রূঢ়তায় দগ্ধ
এক নির্মোহ অনভিজ্ঞ
অসংযত বালক কর্মহীন রাজপথে ভেসে গিয়ে
পায় কুড়িয়ে
লাল ত্যানায় মোড়া এক মুমূর্ষু কফিন;
বালকের কচি মন ভেবে ভেবে হয়রান
কী করবে সে সেই কাঠের কফিনখানি,
কীভাবে কফিনে করে নিয়ে যাবে একসাথে
এত সব লাশ— বাপ, দাদা, নানি, চাচা, চৌদ্দ গোষ্ঠীর?

সদুত্তরহীন ক্ষুব্ধ মনে
বিষণ্ণতার গাঢ় ক্ষণে
তন্দ্রামগ্নতার ঘোরে সে পেয়ে যায় সমাধান।
বালক তার নবলব্ধ ধারণার গুচ্ছ তেজে
করে নতুন ঘোষণা পাঠ—
ভেঙে দেব ধাবমান পৃথিবীর
চৌকোণী, ছয়কোণী, ত্রিকোণী তত্ত্ব ও বোধ;
ছুঁড়ে দেব সুলিখিত বইগুলোর
গোলকধাঁধায় ভরা সমগ্র পাতা,
প্রেমিকার চিঠি আর দাদাদের লাঠি!

সন্ধ্যাকালে সূর্য ডুবলে খুব ভালোমতো সেই
প্রথম সত্তায় গড়া গ্রামীণ কিশোরটি পারবে বুঝতে;
ভূতাক্রান্ত পিতা তার
সব কথার মাথাতে, বুকে, পিঠে, হাতে
কুকথার পুঁটলি বেঁধে
বানিয়েছিল অদ্ভুতুড়ে শাকচুন্নির মোহন প্রাসাদ।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।

Leave a Comment