বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী অবিলম্বে সাম্রাজ্যবাদী শোষণব্যবস্থার সাথে দেশীয় শাসকশ্রেণির আপস ও আত্মসমর্পণের ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ চুক্তি বাতিললের আহবান জানিয়েছে। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দপ্তর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম প্রেরিত সংগঠনটির এক বিবৃতিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই আহ্বান জানানো হয়।
জনগণের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটবিহীন একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে একটি অসম ও পরাধীনতামূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত করেছে। যা কেবল একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদী শোষণব্যবস্থার সাথে দেশীয় শাসকশ্রেণির আপস ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।
এই বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় ও সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন-বাংলাদেশ তথাকথিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সামান্য শুল্কহ্রাসের বিনিময়ে বিপুল বাজার উন্মুক্তকরণ, হাজার হাজার মার্কিনি পণ্যে শুল্কছাড়, বাধ্যতামূলক আমদানি ও কৌশলগত শর্ত আরোপ বাংলাদেশে মার্কিনিদের নয়াউপনিবেশিক শাসন-শোষণের শৃঙ্খলকে আরও দৃঢ় করবে। এর ফলে দেশীয় শিল্প, কৃষি ও উৎপাদনব্যবস্থা ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, শ্রমজীবী মানুষের উপর শোষণ তীব্রতর হবে এবং উদ্বৃত্ত মূল্য দেশ থেকে বহির্মুখী হয়ে বিশ্বপুঁজির কেন্দ্রে সঞ্চিত হবে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাম্রাজ্যবাদ কখনো কেবল অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার অর্থনৈতিক অনুপ্রবেশই রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি নির্মাণ করে। ফলে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, বাজার ও নীতিনির্ধারণে বহিরাগত হস্তক্ষেপের যে পথ সুগম হলো তাতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য সুদূরপ্রসারী হুমকি তৈরি হবে। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, জনগণের অজ্ঞাতে ও গণআলোচনা ব্যতিরেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রমাণ করে তারা জাতীয় স্বার্থ নয় বরং সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির স্বার্থ সংরক্ষণে নিয়োজিত ছিল। ফলে তথাকথিত এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং চুক্তি স্বাক্ষরে জড়িত উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
মার্কিন আগ্রাসনের সহযোগীতা করতে ফিলিস্তিনে বাংলাদেশের সেনা পাঠাতে চাওয়া খলিলুর রহমানকে বিএনপি জোট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত করায় নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত একজন উপদেষ্টাকে বিএনপি জোট সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া স্পষ্টত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে এদেশের জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা এই মার্কিন লবিস্টকে মন্ত্রীত্ব দেয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন তোষণ নীতি বিএনপি সরকার অব্যহত রাখছে বলেই জনগণকে বার্তা দিচ্ছে। একইসাথে এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা বহুলাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
নেতৃবৃন্দ দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাংলাদেশকে ঘিরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যে তৎপরতা দীর্ঘকাল ধরে চলছে তা অন্তর্বর্তী সরকার হয়ে বিএনপি সরকারেও ব্যাপকভাবে ক্রিয়াশীল আছে। আজকের দিনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে এদেশের জনগণকে সোচ্চার থাকতে হবে, গণআন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল কর্মকাণ্ড রুখে দাঁড়াতে হবে।”
আরো পড়ুন
- নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা: বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ধারা
- মার্কিন-বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের আহ্বান বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর
- বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) কর্তৃক আসন্ন ভোট বর্জনের আহবান
- নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা প্রদানের বিরুদ্ধে সমাবেশ
- আমাদের কেন যে কোনো মূল্যে কিউবাকে রক্ষা করা উচিত
- আত্ম-নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক সত্তা গঠনের অধিকার
- সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় লেনিন রচিত পুঁজিবাদের বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ফেসবুকে প্রচার হতে দেখা যায় এবং ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করে ফুলকিবাজ.কমে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে ফুলকিবাজের সঙ্গে রয়েছেন ফুলকিবাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অঞ্চলের শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ। তারা দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদেরকে প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রদান করলে আমরা সেগুলোকে প্রকাশ করে থাকি।