কমরেড

কমরেড

পাঁড়ের দোকানের মোড়টা ঘুরছে ঝাব্বু।  চট্ করে গাছের আড়ালে চলে গেলাম। ও যেন আমাকে দেখতে না পায়। ও হন্ হন্ করে হেঁটে চলে আসছে চারিদিকে সন্ত্রস্ত দৃষ্টিপাত করে। একবার ক্ষণতরে দাঁড়াল; একটা হাত তুলে ঘাড়টা মুছে নিল। এতদূর থেকেও আমার মনে হয়, তার হাতটা কাঁপছে। ও চলে এল এদিকে, আমার অন্তরালের গাছটিকে অতিক্রম করে গিয়ে … Read more

পুন্নাম

পুন্নাম ছোটগল্প

অসুখ আর কিছুতেই সারে না। কাসি সর্দি সারে ত খোসে সর্বাঙ্গ ছেয়ে যায়, খোস গিয়ে লিভার ওঠে ঠেলে—তারপর ন্যাবায় ধরে। চার বছরের ছেলেটাকে নিয়ে যমে-মানুষে টানাটানি চলেছে ত চলেইছে। প্যাকাটির মতো সরু চারটে হাত-পা নড়বড় করে, ফ্যাকাসে হলুদবরণ মুখে কাতর অসহায় চোখ দুটি শুধু জুল-জুল করে- সে-চোখে বিশ্বের সকল ক্লান্তি, সকল অবসাদ, সমস্ত বিরক্তি যেন … Read more

মহানগর

মহানগর

আমার সঙ্গে চলো মহানগরে — যে-মহানগর ছড়িয়ে আছে আকাশের তলায় পৃথিবীর ক্ষতের মতো, আবার যে-মহানগর উঠেছে মিনারে মন্দিরচূড়ায়, আর অভ্রভেদী প্রাসাদ-শিখরে তারাদের দিকে, প্রার্থনার মত মানবাত্মার। আমার সঙ্গে এসো মহানগরের পথে, যে-পথ জটিল, দুর্বল মানুষের জীবনধারার মতো, যে-পথ অন্ধকার, মানুষের মনের অরণ্যের মতো, আর যে-পথ প্রশস্ত, আলোকোজ্জ্বল, মানুষের বুদ্ধি, মানুষের উৎসাহের মতো। এ-মহানগরের সংগীত রচনা … Read more

তেলেনাপোতা আবিষ্কার

তেলেনাপোতা আবিষ্কার

শনি ও মঙ্গলের—মঙ্গলই হবে বোধ হয়—যোগাযোগ হলে তেলেনাপোতা আপনারাও একদিন আবিষ্কার করতে পারেন। অর্থাৎ কাজেকর্মে মানুষের ভিড়ে হাঁফিয়ে ওঠার পর যদি হঠাৎ দু-দিনের জন্য ছুটি পাওয়া যায়—আর যদি কেউ এসে ফুসলানি দেয় যে কোনো এক আশ্চর্য সরোবরে—পৃথিবীর সবচেয়ে সরলতম মাছেরা এখনো তাদের জল-জীবনের প্রথম বড়শিতে হৃদয়বিদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে, আর জীবনে কখনো কয়েকটা … Read more

একদিন মৃত্যুর মিছিলে

একদিন মৃত্যুর মিছিলে

হঠাৎ বুঝতে পারে সে, ও পথেই তার শেষ আছে যদিও পথটি বৃহৎ এবং শাখা প্রশাখা পূর্ণ ও সংশয়াকূল; ভয় নেই সে পথে, আছে ডেকে এনে পথে নামানো, পথের উপর ক্রমাগত হেঁটে চলা। এ রকম একদিন তারা ক’জন এবং আমরা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পথের ধারে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই; তারপর আবার হাঁটতে থাকি। পথে হাজারো জনের … Read more

আগুন ও ঘুম

আগুন ও ঘুম

দুপুরে খাবার পরে আমাদের গল্পের নায়ক অমৃত অন্তর জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। বসন্তকালের স্বচ্ছ সুনীল আকাশ, মেঘের কোনো আনাগোনা নেই। তার সাততলার এই ঘরটি থেকে বোঝার উপায় নেই বাইরের প্রকৃত আবহাওয়া কী রকম। নিশ্চয় তীব্র গরম হবে। সে এমন জায়গায় তার চেয়ার টেবিলগুলোকে রেখেছে যেখান থেকে আকাশটাকে সুন্দরভাবে দেখা যায়। সাধারণত দুপুরে খাবার পরে সে … Read more

যে শৈশব আর ফিরে আসে না

শৈশবকাল

ফেলে আসা শৈশব আমাদের—এ যেন এক অন্তহীন স্মৃতির ভাণ্ডার। যত খুলতে যাই, ততই নতুন নতুন গন্ধ বেরোয়—ভেজা মাটির গন্ধ, কাঁচা আমের টক গন্ধ, দুপুরবেলার পাকা রোদে শুকোতে দেওয়া বইয়ের পাতার গন্ধ। শৈশবের সেই মানুষগুলো আজ আর আসে না। কোথায় হারিয়ে গেল তারা? কোথায় হারিয়ে গেল সেই ছোটবেলা, যে ছোটবেলা বারবার পিছু ডাকে, নিঃশব্দে হাত ধরে … Read more

সড়ক

সড়ক গল্প

মাঝখানে রাস্তা, দু-পাশে ফুটপাথ। রাস্তার কালো পীচের মসৃণ সুডৌল পিঠ, তার ওপর ঝলসাচ্ছে সূর্যের আলো। গাছের পাতায় ছায়ারা জাফরি কেটেছে সারা পথময়। বেলা দুপুর। ভাঙা বাড়িগুলোর সামনে ফুটপাথের কোল ঘেঁষে দু-পাশেই দুটো বড় বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। প্রকাণ্ড গাছ দুটো দু-ধার থেকে এসে পরম স্নেহের আলিঙ্গনে দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরেছে, বিশাল একটা তোরণ তৈরি হয়েছে। আগুনের … Read more

মার

মার

দ্বারকাপুরী। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণদেবের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সুভদ্রার নিমিত্ত প্রার্থনা মন্দিরে গিয়ে হাজির হলেন। সুভদ্রা তখন তার শুচিশুভ্র হাতদুটি জোড় করে পরম ব্রহ্মের চিন্তায় ধ্যাননিমীলিতা ছিলেন। চারিপাশে যদুকুলবংশীয় মহাকুলবৃন্দ।  হলায়ুধ বলরাম জমিকর্ষণে ব্যস্ত। ধরিত্রী মাতার স্তন হইতে দুগ্ধ আহরণে ব্যাপৃত। শ্রীকৃষ্ণ মিটিমিটি করিয়া চাহিয়া আছেন। আর দ্বিরথধারী অর্জুনকে অতিগূঢ় নির্দেশ দিতেছেন: ব্রহ্মার মন্দিরে আরোহণ কর।  সুভদ্রা … Read more

ঝংকার

ঝংকার গল্প

তিনি পালিয়ে এসেছেন। গভীর জঙ্গল, সামনে পাহাড়ের খাদ বেয়ে বইছে, তারই ধারে একটা কুঁড়ে তৈরি করে উনি ধ্যানমগ্ন আছেন। সরস্বতী বীণ কি করে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। সেই তার সাধনা।  মানুষকে ভালোবাসতে গিয়ে, অনেক আঘাত পেয়ে তিনি মদ এবং ধীশক্তির আশ্রয় গ্রহণ করে কোথাও বোধ হয় উঠার চেষ্টা করছিলেন। তাই সমাজ তাঁকে পরিত্যাগ করল, সংসার … Read more

error: Content is protected !!