শাহেরা খাতুন কঠিন বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিয়ে হয়ে উঠেছিলেন বাস্তববাদী

ভারতীয় উপমহাদেশ সংক্রান্ত আলোচনার সাথে পৃথিবীর অন্যান্য অংশের সামাজিক অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতার সম্পর্ক আছে, এমনকি ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ এই ১৯০ বছর এই অঞ্চলের বৃটিশ বিরোধী লড়াই-সংগ্রামগুলো সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা ও অনুধাবন করলে দেখা যাবে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি ঐক্যবদ্ধভাবে একমুখী ছিল! ফ্রান্সের শিল্প বিপ্লব যন্ত্রের ব্যবহারকে ব্যাপক মাত্রায় বিকশিত করায় সারা বিশ্বেই এর কম বেশি প্রভাব পড়ে। ১৯৪৭ … Read more

আমাদের জীবনে আলোকদীপ্ত শাহেরা খাতুনের অবদান

আমাদের জীবনে আমাদের মা আলোকদীপ্ত শাহেরা খাতুনের অবদান আলোচনা করবার উদ্দেশ্যে এই এই লেখা লিখতে বসেছি। তাঁর অবদান বিভিন্নভাবে আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। আমাদের মা শাহেরা খাতুনের জীবন কঠোর অবরোধ প্রথা এবং পুরুষাধিপত্যের পরিবেশে অতিবাহিত হয়েছে। তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিরাজিত বহুমুখী কাজের বৈশিষ্ট্য ছিল পুরুষতন্ত্রের কঠোর অবরোধ প্রথার উচ্ছেদ করে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা … Read more

শাহেরা খাতুনের চিন্তাধারা হচ্ছে উদারতা, স্বনির্ভরতা আর পরোপকারিতা

আমার নানী শাহেরা খাতুনের চিন্তাধারা বহু দিকে বিস্তৃত হয়েছে। তাঁকে দেখেছি একজন উদার পরোপকারী স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে। তিনি প্রচণ্ড পরিশ্রমী একজন ব্যাক্তি ছিলেন। ভোর থেকে শুরু করে রাত্রে বিছানায় শোয়ার আগ পর্যন্ত ঘরের কাজ, বাইরের কাজ, বসতভিটা এবং কান্টায় গাছপালার সার্বিক যত্ন নেওয়া, হাস, মুরগি, গরু, ছাগলের যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে সকল কাজ কর্ম … Read more

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুন নিজ জ্ঞানে সারা জীবন চলেছেন

লোকশিল্পী ও সাঁতারু শাহেরা খাতুন

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুনের সাথে আমার বয়সের পার্থক্য অন্তত দশ বছরের। ওর বিয়ের কথা আমার মনে পড়ে না। ওদেশে [পশ্চিমবঙ্গে] আমার সাথে শাহেরা খাতুনের কোনো কথাই মনে পড়ে না, কারণ আমি খুব ছোট ছিলাম। শাহেরা অনেক আগেই এদেশে চলে আসে। ও দামোলে চলে আসলে আমার বাবা মন খারাপ করে থাকত। ফলে বাবা সবাইকে নিয়ে … Read more

বড় ফুপু শাহেরা খাতুন ছিলেন পুরো পরিবারের তথ্য ভাণ্ডার

বড় ফুপু শাহেরা খাতুন আমার বাবা-চাচাদের মধ্যে সবার চেয়ে বড়। আমাদের রণহাট্টা গ্রামের বাড়ি থেকে ফুপুদের বাড়ি দেড় কিলোমিটার দূরে। অনেক রকম ফলের গাছ ছিল ফুপুর বাসায়। ছোট বেলায় সাইকেল নিয়ে অনেক গিয়েছি আম-কাঁঠাল খাওয়ার জন্য। নানা রকম গাছের ছায়ায় বসলেই প্রাণটা জুড়িয়ে যেত। বড় ফুপুর বাসায় গেলেই কোনো না কোনো খাবারের আয়োজন করতে ব্যস্ত … Read more

শাহেরা খাতুন পুরুষতান্ত্রিকতাকে পদাঘাত করে এগিয়ে চলা স্বাধীনচেতা নারী

লোকশিল্পী ও ভূমিকন্যা শাহেরা খাতুন ফসলের খেতের মাঝখানে হাঁটছেন

আজ যার সম্পর্কে লিখবো তিনি আমার কাছে নানা নামে পরিচিত। সময় ও পরিবেশের সাথে সাথে বিভিন্ন নাম, রূপে, রঙে উঠে এসেছেন আমার দৃষ্টিপটে। তিনি অতি সাধারণ একজন; এরমাঝেও আমার কাছে বিশেষ। ব্যক্তি তাঁর নিজের দক্ষতা, যোগ্যতার কারণে অন্যের কাছে পরিচিত হন। আবার নিজের রেখে যাওয়া কাজের কারণে অনেক দিন অন্যের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। এছাড়াও … Read more

আমার দেখা একজন সার্থক নারীর গল্প

আমার দেখা একজন সার্থক নারীর নাম হচ্ছে প্রয়াত শাহেরা খাতুন। তিনি আমার খুব আপন জন ছিলেন, তাঁকে আমি নানী বলে ডাকতাম। তাঁকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আর তার কথা শুনেছি। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানাধীন দামোল গ্রামে বসবাস করতেন। যদিও যখন তার স্বামী মারা যান, তখন তার ছোট ছেলেটি কেবল স্কুলে পড়ে, কিন্তু তিনি … Read more

আমার বড় খালা যেমন সবার বড়, তেমনি সবার কাছে বড়র মতোই শ্রদ্ধা পেতেন

শাহেরা খাতুন

আমার শ্রদ্ধাভাজন বড় খালা এমন একজন বড় মানুষ ছিলেন যার সম্বন্ধে কিছু লেখার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমার খালার নাম ছিল শাহেরা খাতুন। আমার ছোটবেলায় আমি দেখেছি, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি খালু মারা যাবার পর শেষ জীবনে একা একা থাকতেন। কারণ তার সন্তানেরা চাকরি ও অন্যান্য কাজে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন।   আমার বড় খালার … Read more

বটবৃক্ষের ছায়া: আমার জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আমার নানী

শাহেরা খাতুনের একটি ছবি যাতে তাঁকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

আমার নানী বহুগুণে গুণান্বিত এমন ব্যক্তি যাকে তুলনা করতে গেলে আমার কেবল বটবৃক্ষের কথা মনে পড়ে। নানী যেন মরুর বুকে বৃক্ষের ছায়া। যদি আমাকে কখনো জিঙ্গাসা করা হয় যে, সার্বিক দিক থেকে জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কে? তবে চোখ বন্ধ করে এক কথায় উত্তর দিব যে, আমার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলো আমার নানী। … Read more

আমার নানী শাহেরা খাতুনের প্রকৃতিপ্রেম ছিল নিজ সন্তান যত্নের মতই

আমার বড় ননদ

আমার নানী শাহেরা খাতুন যেমনি পরোপকারী, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী ছিলেন ঠিক তেমনি তিনি প্রকৃতি প্রেমিও ছিলেন। বসত ভিটার সাথেই লাগানো প্রায় ৩৫ শতক জমিতে একক প্রচেষ্টায় তিনি যেমন বৃহৎ আকারের ভেষজ, ফলদ, বনজ আকারের বৃক্ষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র আকারের লতাপাতা বা গুল্ম রক্ষা করেছেন, এমন কি পশু পাখিসহ সকল প্রকার প্রাণিকেই তিনি নিজ সন্তানের … Read more

আমার দাদী শাহেরা খাতুন কোনো কাজে অলসতা দেখাতেন না

আমার দাদী শাহেরা খাতুন ছিলেন আমার জন্য পিতা মাতা দাদী নানী। মায়ের আদর আর বাবার দায়িত্ব তিনি একাই পূরণ করেছেন। আমি ‘ক’ ‘অ’ বলতে শিখেছি দাদীর কাছে। হাঁটতে শিখেছি, স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, আরবি বর্ণমালা, অ্যালফাবেট শিখেছি দাদীর কাছে। তিনি পড়তে পারতেন না তবে এগুলো আমার চাচাদের পড়ার সময় মুখে শুনে শুনে শিখেছিলেন। তাই আমি যখন ছোট … Read more

বড় ফুপু সব সময় খুব সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন

শাহেরা খাতুন নানী

আমার বড় ফুপু বড়দের কাছে শাহেরা খাতুন নামে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের চল অনুযায়ী আমিও বড় ফুপুকে বেটি বলতাম। বড় ফুপুর সাথে আমার প্রথম স্মৃতি হচ্ছে আমার প্রথমবার ঢাকাতে যাওয়ার পরে। আমি যখন ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে প্রথম ঢাকা যাই, রহিম আমাকে ঢাকাতে নিয়ে যায়। তখন ফুপু ১/৮ নুরজাহান রোডের দোতলা বাসাতে থাকত। আমরা … Read more

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুন ছিলেন সাংসারিক কাজে খুব পারদর্শী

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুন ছিলেন পাঁচ ভাই ও চার বোনের ভেতরে দ্বিতীয়। ভাইবোনদের ধারাবাহিকতায় প্রথমে আছেন বড় ভাই মোহাম্মদ মুসা আলী। এরপর জন্ম হয় শাহেরা খাতুনের। এরপর জন্ম হয়েছে যথাক্রমে আয়েশ আলী, নেকজান বেগম এবং আমজাদ আলীর। বাংলাদেশে আসার পরে জন্ম হয়েছে আমার। আমার পরে জন্মেছে দাউদ হোসেন, জোহরা খাতুন এবং বিলকিস আরা। আমার … Read more

আমার দাদী শাহেরা খাতুনের গ্রামীণ জীবন যাপনের এক ঝাঁক স্মৃতি

আমার দাদী শাহেরা

আমার দাদী শাহেরা খাতুন সারা জীবন গ্রামে বসবাস করেছেন। গ্রামে যত রকমের কাজ আছে, তিনি সেসব কাজ খুব সহজেই সুন্দরভাবে দক্ষতার সাথে করতে পারতেন। আমার দাদী সবচেয়ে সুন্দর ভাবে পারতেন কাঁথা সেলাই করতে। এই কাজ তিনি সারা জীবন করেছেন ভালোবেসে, এমনকি মরার আগ পর্যন্ত করেছেন। চোখের ছানি অপারেশন হবার পরে আবার কাঁথা সেলাই করা শুরু … Read more

আমার বড় ননদ শাহেরা খাতুন লম্বা, স্বাস্থ্যবান, কর্মঠ নারী ছিলেন

আমার বড় ননদ

আমার বড় ননদ শাহেরা খাতুনের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাত হয় আমার বিয়ের দুমাস পরে। বিয়ে হবার মাস দুয়েক পরে আমি প্রথম শ্বশুর বাড়িতে যাই। আমার সঙ্গে আমার নানী আর বড় ভাই গিয়েছিলো। এক সপ্তাহ ছিলাম শ্বশুরের বাড়ি মহেন্দ্রগাঁওতে। সেই সময় আমার বড় ননদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো। আমার বড় ননদকে আমি বড় বুবু ডাকতাম। উনি … Read more