বড় ফুপু সব সময় খুব সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন

আমার বড় ফুপু বড়দের কাছে শাহেরা খাতুন নামে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের চল অনুযায়ী আমিও বড় ফুপুকে বেটি বলতাম। বড় ফুপুর সাথে আমার প্রথম স্মৃতি হচ্ছে আমার প্রথমবার ঢাকাতে যাওয়ার পরে। আমি যখন ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে প্রথম ঢাকা যাই, রহিম আমাকে ঢাকাতে নিয়ে যায়। তখন ফুপু ১/৮ নুরজাহান রোডের দোতলা বাসাতে থাকত। আমরা সবাই সেদিন একসাথে দুপুরে খেয়েছিলাম। সম্ভবত টিভিতে টাইটানিক ছবি দেখতেছিল।

সেবার রোজার আগে হয়ত ঢাকা গেছিলেন, কুরবানির ইদের আগে বাড়ি এসেছিলেন। সেবার ট্রেনে করে বাড়ি আসি, পরদিন দুপুর বেলা পীরগঞ্জে এসে নামি, উনার ট্রেন থেকে নামতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি আর রহিম ট্রেন থেকে নামাই। মোহাম্মদপুরে বা সংকরের বাসায় আরও একবার ফুপুর সাথে আমি দেখা করেছি। বাবলু গাড়ি দিয়ে ফুপু ঢাকা যাতায়াত করত, ফলমূল জিনিসপত্র ঢাকাতে পাঠাত। 

আমি খুব কমই বড় ফুপুর বাড়িতে গেছি। ছোটবেলায় একবার গেছিলাম, বানী ভাই তখন দোকান করত, আমি আম্মার সঙ্গে ধীরগঞ্জের বেটির বাড়িতে বেড়াতে গেছিলাম, ফিরতি পথে বড় ফুপুর বাড়িতে উঠেছিলাম। ফুপু আমাদেরকে দুপুরবেলা ভাত খাইয়েছিলেন।

২০১০ সালে দিকে বানী ভাইয়ের যখন পায়ের সমস্যা বাড়ে, তারপর থেকে ফুপুর সাথে আমার যোগাযোগ বাড়ে। জমি জায়গা বিষয়ে বানি ভাই মারা যাওয়ার পরে কথা বলত। শেষদিকে জমিগুলা বিক্রি করতে চাইতেন। আমার সাথে মূলত জমি জায়গা নিয়েই কথা হয়েছে, আর তেমন কোনো কথা হয়নি। ভোলা ভাইয়ের সাথে বেশি কথা বলতেন বড় ফুপু।

কেবল মৃত্যুর আগের দিন নানান কারণে আমি জড়িয়ে যাই। মারা যাবার এক দিন আগে মঙ্গলবার আমি ফুপুকে দেখতে গেলাম। আমাকে চাচী ফোন করে দেখা করতে বলেছিলেন। ফুপু সেদিন আমাকে নাস্তা খাওয়ায়। এছাড়াও আমাকে সেদিন ফুপু পাঁচশ টাকা দেয়, ওই টাকাটা মাদ্রাসাতে দিতে বলেন। ঐ টাকা নিয়ে এসে আমি বাবাকে টাকাটা দিলাম এবং বললাম বেটির সাথে দেখা করে আসেন।

আরো পড়ুন:  শাহেরা খাতুন বাংলা অঞ্চলের স্বভাব ভূমিকন্যা যিনি প্রকৃতির জীবনে মিশে ছিলেন

সেদিন ফুপু বলেছিলেন যে, রক্ত দিলেই তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আমিই রক্ত সংগ্রহ করে দেয়ার ব্যবস্থা করি। পরদিন সকালে যে রক্ত দিতে চেয়েছিল, তাকে নিয়ে আমি রওয়ানা দিই। একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্তটা নিয়ে রেখে দিই। অনেকক্ষণ ধরে আমি ফুপুর সাথে কথা বলি। রক্ত দেয়া শুরু হয় এবং তাঁরপরেই মৃত্যুর খবর পাই। পরে রইসুদ্দিন মামার মাধ্যমে এমবুলেন্স ভাড়া নিয়ে লাশ দামোলে আনা হয়।

একটা কথা সবাই বলে, বড় ফুপু সব সময় খুব সাহসি ছিলেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতেন। শিউলির মা যেদিন মারা যায়, তার পরদিন ইদ ছিল, ইদের আগের দিন বিধায় মৃতের বাড়িতে কেউ ছিল না। লাশ নিয়েই জোহরা ফুপু এবং বড় ফুপু সারারাত কাটিয়েছিলেন। পরদিন পোস্ট মর্টেমের জন্য থানায় যেতে হয়। তিনি একাই সব সামলিয়ে নেন। বড় ফুপু রাতে বাড়িতে একা থাকতেন কিন্তু কখনো ভয় পেতেন না।

বড় ফুপু এর আগেও ২০১৭ সালের দিকে একবার খুব অসুস্থ হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েলেন। সেবার ইউনুস নামে একজনের কাছ থেকে একব্যাগ রক্ত নিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে আসার পরে সবাইকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেই সুস্থতার পরে নেকজান ফুপুর সাথে যোগাযোগ বেড়ে যায়। মাসুদ তখন ধুমডাঙ্গী থেকে মাছ ডিম ইত্যাদি এনে দিত।

Leave a Comment

error: Content is protected !!