ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন দশকের বিশ্বখ্যাত ও প্রধান লেখকদের সাহিত্যকর্ম ও মননশীল চিন্তাধারার মধ্যে যে বিশেষ ‘রোমান্টিক’ আদর্শ, জীবনদর্শন এবং মৌলিক সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লক্ষিত হয়, তা-ই মূলত তাদের সমকালীন ও পূর্ববর্তী কৃত্রিম নিও-ক্ল্যাসিকাল (Neo-classical) সাহিত্য ধারা থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, অনন্য ও প্রগতিশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাহিত্যের এই মহান বৈপ্লবিক রূপান্তরের নেপথ্যে থাকা প্রধানতম ও প্রথম বৈশিষ্ট্যটি হলো—বিষয়বস্তু, আঙ্গিক ও সামগ্রিক রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গতানুগতিক ও প্রচলিত ধারা অন্ধভাবে অনুসরণ করার পরিবর্তে রোমান্টিক সাহিত্য আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ নতুন, অভিনব ও বৈপ্লবিক কিছু সৃষ্টির এক দুর্নারী ও চিরন্তন প্রবণতা। এই ধারার প্রবক্তারা প্রাচীন ও ক্ল্যাসিকাল গ্রিক বা রোমান লেখকদের কড়া ও বিধিবদ্ধ রীতির সঙ্গে নিজেদের সৃষ্টির মিল বা প্রথাগত সাদৃশ্য থাকার বিষয়টিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিলেন না। বরং রোমান্টিক কবিতার এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় যাত্রা শুরু হলো তৎকালীন প্রচলিত সমাজ, রাষ্ট্র ও সাহিত্যিক কৃত্রিমতার বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রকাশ্য, সাহসী ও প্রতিবাদী বিদ্রোহাত্মক ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে।
রোমান্টিক আন্দোলনের এই দ্রোহের আগুন সবচেয়ে তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে যখন উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের যৌথ কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’ (Lyrical Ballads)-এর দ্বিতীয় সংস্করণের (১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) বিখ্যাত ভূমিকা বা প্রফেস (Preface) প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের এই ঐতিহাসিক দলিলে অত্যন্ত জোরালোভাবে ঘোষণা করা হলো যে, উচ্চবিত্তের ড্রয়িংরুমের কৃত্রিম কাহিনীর পরিবর্তে কবিতার মূল উপজীব্য ও বিষয় হবে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন বা ‘common life’ এবং কবিতার প্রকাশভঙ্গি বা ভাষা হবে মেহনতি ও সাধারণ মানুষের মুখে বহুল ব্যবহৃত বাস্তব ভাষা বা ‘a selection of language really used by men’। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রোমান্টিক কবিরা নিও-ক্ল্যাসিক যুগের লেখকদের তথাকথিত জটিল কাব্যিক ভাষা (poetic diction), কৃত্রিম আভিজাত্য ও মার্জিত সচেতন শালীনতা এবং কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত ও অবদমিত আবেগের বেড়াজালকে সম্পূর্ণ পরিহার ও বর্জন করলেন। ফলে তাদের কবিতার ক্যানভাসে একদিকে যেমন সগৌরবে আত্মপ্রকাশ করল সহজ, सरल, অনাবিল ও সাধারণ গ্রামীণ মেহনতি মানুষের জীবনযাত্রা, ঠিক অন্যদিকে তেমনি স্থান করে নিল মানুষের গহীন মনের অতীন্দ্রিয় ও অপার্থিব জগৎ এবং রহস্যময় সুদূর অতীতের গভীর আবেগঘন নান্দনিক উপলব্ধি।
স্বতঃস্ফূর্ত হৃদয়ানুভূতির প্রকাশ এবং প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য
‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’-এর সেই যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকায় কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ বারবার একটি ভালো ও সফল কবিতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সেটিকে বর্ণনা করেছেন মানুষের অন্তরের ‘the spontaneous overflow of powerful feelings’ বা ‘তীব্র ও শক্তিশালী অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ’ বলে। রোমান্টিক সাহিত্যের এই স্তরে এসে মূলত সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হলো কবির আবেগের তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর; সমাজ নির্ধারিত কৃত্রিম নিয়ম মেনে চলা কিংবা কোনো প্রকার অতিরিক্ত আয়াসসাধ্য, অতি-সচেতন ও যান্ত্রিক শিল্পসৃষ্টির ওপর মোটেও নয়। নিও-ক্ল্যাসিক যুগের পূর্বসূরি লেখকদের সুকঠিন ও কাঠামোগত রীতির সঙ্গে রোমান্টিক কবিদের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক তাত্ত্বিক পার্থক্য ঠিক এই জায়গাতেই নিহিত ছিল। এই ধারাকে আরও দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে পরবর্তীকালের প্রখ্যাত রোমান্টিক কবি জন কীটস (John Keats) তাঁর একটি বিখ্যাত চিঠিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে লিখেছিলেন: ‘If poetry comes not as naturally as the leaves to a tree, it had better not come at all.’ অর্থাৎ, একটি গাছের শাখা-প্রশাখায় পাতা যেভাবে কোনো প্রকার কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গজিয়ে ওঠে, কবিতার সৃষ্টিও যদি কবির হৃদয়ে ঠিক ততটা প্রাকৃতিকভাবে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে না আসে, তবে তেমন কবিতা আদৌ না আসাই বা না লেখাই অনেক শ্রেয়।
রোমান্টিক কাব্যের আরেকটি প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এর বহিঃপ্রকৃতি বা নিসর্গের অনাবিল ও শাশ্বত বন্দনা। এই ধারার কবিতায় চারপাশের গাছপালা, ফল-মূল, ফুল-পাখি, বহমান নদী, অসীম সমুদ্র, নীল আকাশ ও গম্ভীর পর্বত প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদানকে কোনো প্রকার কৃত্রিম অলংকার বা রাজকীয় রূপক ছাড়াই অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরাভরণ সৌন্দর্যের মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হলো। রোমান্টিক কাব্যে প্রকৃতির এই চিত্রায়ণকে প্রধানত দুটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে পাওয়া যায়—একদিকে মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করার মতো এক পরম ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৌন্দর্যানুভূতির মধ্যে এবং অন্যদিকে প্রকৃতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক পরম আধ্যাত্মিক ও অতীন্দ্রিয় উপলব্ধির (Mysticism) মধ্যে। আর এই শাশ্বত প্রকৃতির বিশাল ক্যানভাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে ও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলো সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক ও মানবিক ক্রিয়াকলাপ। এই প্রেক্ষাপটেই কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ অত্যন্ত গভীরভাবে উচ্চারণ করলেন যে, কোনো দূরবর্তী রাজসভা বা পৌরাণিক কাহিনীর জগৎ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মন ও মনস্তাত্ত্বিক জগতই হচ্ছে তাঁর কাব্যের মূল চারণভূমি—‘my haunt, and the main region of my song’।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিকাশ এবং ফরাসি বিপ্লবের বৈপ্লবিক প্রেরণা
শতাব্দী প্রাচীন নিо-ক্ল্যাসিক কবিতার মূল বিষয়বস্তু ও উপজীব্য যেখানে ছিল সমকালীন সমাজ ও অন্য সাধারণ মানুষ, সেখানে রোমান্টিক কবিতার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠল প্রধানত স্বয়ং কবি নিজে। অর্থাৎ, রোমান্টিক কাব্যে কবির নিজের একান্ত আপন চিন্তা, গভীর ব্যক্তিগত ভাবনা, সুতীব্র আবেগ, অনুভূতির আলোড়ন এবং প্রাত্যহিক জীবনের নিজস্ব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সার্থকভাবে মূর্ত হয়ে ওঠে। বহু ক্ষেত্রে এই প্রকাশটি ঘটে অত্যন্ত প্রত্যক্ষ ও সাবলীলভাবে, যা আমরা এই যুগের অজস্র কালজয়ী গীতিকবিতায় (Lyrics) খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের সুবিশাল আত্মজৈবনিক মহাকাব্য ‘দ্য প্রিলিউড’ (The Prelude)-এর পাতায় পাতায় কবির এই নিজস্ব ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের পরিচয় ও আত্মপ্রকাশ অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুসংগত। আবার কখনো কখনো এই আত্মনিষ্ঠ ভাবের প্রকাশ ঘটে অত্যন্ত পরোক্ষ ও প্রতীকী উপায়ে; যেখানে কবি হয়তো নিজের নামে সরাসরি কথা বলেন না, কিন্তু কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব ও দর্শন থেকে সেই কবি-সত্তাকে চিনে নিতে রসগ্রাহী পাঠকের বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না। এর একটি সার্থক ও উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আমরা লর্ড বায়রনের বিখ্যাত ‘চাইল্ড হ্যারল্ডস পিলগ্রিমেজ’ (Childe Harold’s Pilgrimage) কাব্যের কথা স্মরণ করতে পারি। তবে রোমান্টিক কবিতার এই মূল বিষয়বস্তু তথা ব্যক্তিমানুষটি স্বয়ং কবি নিজে হন কিংবা অন্য কোনো কাল্পনিক চরিত্রই হন না কেন, তিনি কিন্তু প্রথাগত কোনো সুসংগঠিত বা বিধিবদ্ধ বুর্জোয়া সমাজের অংশ নন; বরং এই কাব্যে তাকে আমরা সবসময় দেখতে পাই একাকী, সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ, সভ্য-সমাজের গতানুগতিক গণ্ডি থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসা এবং সমাজ কাঠামোর বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় ও অপরাজেয় বিদ্রোহী রূপে।
ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের (French Revolution – 1789) সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার সুমহান বাণীর মধ্যে মানুষের মুক্তির ও সীমাহীন সম্ভাবনার যে এক নতুন অমোঘ প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে ছিল, তা সমকালীন রোমান্টিক কবিদের চেতনাকে সুস্পষ্ট ও গভীরভাবে প্রভাবিত এবং অনুপ্রাণিত করেছিল। এই বৈপ্লবিক ভাবধারার প্রভাবে কবিরা মানুষকে দেখলেন এক বিপুল ও অপরাজেয় সম্ভাবনাময় সত্তারূপে। তারা মনেপ্রাণে এই সুদৃঢ় বিশ্বাসে উজ্জীবিত ও দীক্ষিত ছিলেন যে, শোষিত মানুষ একসময় সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল প্রকার অন্যায়-অবিচারকে হটিয়ে দিয়ে, সমস্ত কৃত্রিম সামাজিক বাধা ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে নিজের ভেতরের সুমহান মহত্ত্বকে বিশ্বমঞ্চে জয়যুক্ত ও প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তারা বিশ্বাস করতেন যে, বাহ্যিক লড়াইয়ে সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও মানুষের সেই মহান উদ্দেশ্যের নিষ্কলঙ্ক শুভ্রতা, পবিত্রতা ও নৈতিক মহত্ত্ব চিরকাল মানবজাতিকে গৌরবান্বিত করবে। রোমান্টিক যুগের কয়েকটি দীর্ঘ ও বিখ্যাত প্রতীকী কবিতায় এই বৈপ্লবিক সমাজ-দর্শনের প্রতিফলন অত্যন্ত দর্শনীয়ভাবে লক্ষণীয়; যার সার্থক উদাহরণ হিসেবে আমরা পার্সি বিশি শেলীর বিখ্যাত ‘প্রমিথিউস আনবাউন্ড’ (Prometheus Unbound) এবং জন কীটসের ‘হাইপেরিয়ন’ (Hyperion) কাব্যের অমর চরিত্রগুলোর কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে পারি।[১]
‘রোমান্টিক’ শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং প্রাকৃত ভাষার ছন্দোময় মুক্তি
প্রচলিত ও ঐতিহাসিক ধারণা অনুযায়ী, এই ‘রোমান্টিক’ শব্দটির আদি আবির্ভাব ঘটেছে মূলত ফরাসি শব্দ ‘রোমাঞ্চ’ (Romance) থেকে। প্রাচীনকালে যার মূল অর্থ ছিল—তৎকালীন অভিজাত ও প্রাতিষ্ঠানিক লাতিন ভাষার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের প্রাকৃত বা গ্রাম্য কথ্য ভাষায় কোনো সাহিত্য বা কাব্য রচনা করা। মধ্যযুগীয় ফরাসি বীরত্বগাথা ও দীর্ঘ মহাকাব্যগুলোকে এই নির্দিষ্ট অর্থেই প্রাচীনকালে ‘রোমান’ বলা হতো। পরবর্তীতে ১৬৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি সাহিত্যে কোনো কিছু ‘রোমাঞ্জের মতো’ বা কাল্পনিক ও রোমাঞ্চকর—এই বিশেষ ভাবার্থ প্রকাশ করতে প্রথম এই শব্দের ব্যবহার শুরু হয়। এরপর ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি একাডেমি কর্তৃক ‘রোমান্টিক’ শব্দটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে। তবে কোনো কোনো ভাষাবিদ ও গবেষক এই শব্দটির আরও প্রাচীনতম উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে উত্তর ইতালির একটি প্রাচীন আঞ্চলিক ভাষা “লিঙ্গুয়া রোমানিকা” (Lingua Romanica)-র ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন এবং ধারণা করা হয় যে, সেই আঞ্চলিক ভাষাতেই এটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। আবার স্প্যানিশ সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ছন্দের নাম হলো “রোমান্স”। সুতরাং, এই ‘রোমান্স’ বা ‘রোমান্টিক’ শব্দটির প্রথম আদি ব্যবহার ও ব্যুৎপত্তি প্রসঙ্গে পণ্ডিতদের মাঝে নানা মুনির নানা মত থাকতে পারে। যাইহোক, এই নামকরণের ইতিহাস পেরিয়ে এবার আমরা রোমান্টিকতার মূল শৈল্পিক স্বরূপ ও ভাষারূপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
প্রকৃতপক্ষে ‘রোমান্টিক’ শব্দটির অন্তর্নিহিত গঠনের মধ্যেই তার আসল শৈল্পিক স্বরূপটি খুব সুন্দরভাবে লুকিয়ে রয়েছে। সেই স্বরূপটি হলো—অভিজাত ক্ল্যাসিক্যাল বা লাতিন শব্দের কঠোর অনুশাসনের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের প্রাকৃত ও লোকজ ভাষার সার্থক কাব্যিক ব্যবহার। পূর্ববর্তী ক্ল্যাসিক্যাল রীতির শব্দ রচনার মধ্যে যেখানে সবসময় এক ধরণের কৃত্রিম অলংকরণের প্রাবল্য ও সুকঠিন আড়ষ্টতা দেখা যেত, সেখানে “রোমান্টিক” রীতির মধ্যে অত্যন্ত সহজ, সরল, অনাড়ম্বর ও অনলংকৃত সাধারণ কথ্য ভাষার প্রয়োগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষের এই প্রাত্যহিক কথ্য ভাষার সুনিপুণ কাব্যিক প্রয়োগই হলো রোমান্টিক ভাষার অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী লক্ষণ। কাব্যে প্রাচীন রাজকীয় বা অভিজাত ভাষার পরিবর্তে অনভিজাত ও মেহনতি মানুষের শব্দের এই নতুন কাব্যময়তায় বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন ও দিগন্তকারী জানালার উন্মোচন হলো। এর ফলে রোমান্টিক কাব্যভাষার মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণপ্রাচুর্যের কলকল্লোল ও আনন্দের কলরব শোনা গেল। অর্থাৎ, ভাষা তার পূর্ববর্তী অলংকরণের সজ্জিত রূপের সুকঠিন আড়ষ্টতা ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়ে মুক্তির এক পরম ভরা আনন্দে মেতে উঠল; কারণ প্রচলিত একঘেয়ে ছন্দের (যেমন হিরোইক কাপলেট) পরিবর্তে এই কাব্যে নানা ছন্দ বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব প্রকাশ ঘটল। প্রচলিত ছন্দের সেই কঠিন বন্ধন ভেঙে নবতম ছন্দের সৃষ্টির ফলে রোমান্টিক ভাষা যেন পাহাড়ি ঝরনাধারার মতো চপল ও মুক্ত নৃত্যে নেচে উঠল। তাই ছন্দের এই নব নব সৃষ্টি ও প্রগতিশীল নিরীক্ষা একদিকে যেমন ভাষাকে করল চঞ্চল, প্রবহমান ও গতিমুখর; ঠিক অন্যদিকে ক্লাসিক্যাল ছন্দ বলতে মূলত একটিমাত্র নির্দিষ্ট ও কঠোর ছন্দকে বোঝাত, যার নিগড়ে কাব্যের ভাষা যেন চিরকাল সুকঠিন শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। সেই প্রাচীন ও প্রচলিত ছন্দের গণ্ডির মধ্যেই কাব্যের ভাষাকে আপন কর্তব্য পালন করতে হতো। তাই সস্তা ছন্দোবদ্ধতা নয়, বরং ছন্দের সেই কৃত্রিম বন্ধনকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নতুন ছন্দের ভরা আনন্দে স্বাধীনভাবে ভেসে চলাই হলো রোমান্টিক ভাষার দ্বিতীয় প্রধান লক্ষণ।
ভাবের গতিশীল প্রবাহধর্মিতা এবং পাণ্ডিত্যের সুকঠিন আবরণ উন্মোচন
তৃতীয়ত, প্রচলিত ক্লাসিক্যাল সাহিত্য রীতি অনুযায়ী একটি কবিতার প্রতিটি স্তবকে (Stanza) সাধারণত একটি করেই সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা ভাবনা শেষ হতো। তার ফলে একটি বিশেষ ভাব বা অনুভূতি প্রকাশের স্বাধীনতা সেই স্তবকের চার দেয়ালের সীমার মধ্যেই চিরদিনের জন্য বন্দী হয়ে থাকত। স্তবকের সেই কঠোর সীমাকে অতিক্রম করে ভাবের উন্মুক্ত ব্যাপ্তিলাভ বা ডানা মেলার কোনো অবকাশই সেখানে ছিল না। কিন্তু রোমান্টিক কাব্যে ছন্দের এই বৈপ্লবিক বন্ধন মুক্তির ফলে মানুষের মনের ভাব প্রকাশেরও এক সুমহান বন্ধন মুক্তি ঘটল। ছন্দের মুক্ত নৃত্যের তালে তালে কবিতার অভ্যন্তরীণ ভাব ও দর্শন তখন নদীর উত্তাল তরঙ্গের মতো এক স্বচ্ছন্দ গতিতে সামনের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করল। ভাবের এই অনন্য প্রবাহধর্মিতা ছন্দের প্রবহমানতার সঙ্গে এক সুনিবিড় বন্ধনহীন মুক্তির অনাবিল আনন্দে বিজড়িত। এর ফলে কবিতার স্তবকের সেই কৃত্রিম ও সুকঠিন সীমা চিরতরে ঘুচে গেল, ভাষারূপ হয়ে উঠল অসীমের গভীর ব্যঞ্জনায় মুখর এবং কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবও হয়ে উঠল সীমাহীন আবেগে সুদূরের এক চিরন্তন পিয়াসী।
চতুর্থত, ক্লাসিক্যাল রীতির বুদ্ধি-প্রধান বা বৈদগ্ধের কৃত্রিম ঔজ্জ্বল্য ও চটকদার ভাষা অপেক্ষা আবেগ-প্রধান সরল, স্বচ্ছ ও বর্ণময়তার এক নতুন রূপ লাভ করল রোমান্টিক ভাষা। ক্ল্যাসিক্যাল রীতির কাব্যের মধ্যে প্রধানত ছিল ‘wit’ বা শাণিত বুদ্ধিপ্রধান ও চটুল ভাষার আধিপত্য। বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি এবং শিল্পীরা প্রাচীন ল্যাটিন ভাষার অন্ধ পূজারী ছিলেন। ল্যাটিন ভাষার যথাযথ ব্যাকরণগত প্রয়োগ এবং তার ওজস্বিতার দিকেই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। ফলে সেই যুগের কবির ভাষার মধ্যে কেবল শাণিত বুদ্ধির চমকিত দীপ্তির বিকাশ ঘটত। এই বুদ্ধি-দীপ্ত ভাষার প্রয়োগ কৌশলের মধ্যে হয়তো একটা সপ্রশ্ন বিস্ময় এবং পাণ্ডিত্যের বিশাল গৌরব ছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই পাণ্ডিত্যের সুকঠিন আবরণ উন্মোচন করে ভাষার প্রকৃত আত্মিক অর্থোদ্ধার করা ছিল এক দুরূহতম ও জটিল সমস্যা। সেই ভাষার মধ্যে না ছিল কোনো নিগূঢ় প্রাণস্পন্দন, না ছিল মানুষের অন্তর থেকে স্বতঃউৎসারিত আদিম হৃদয়াবেগ; বরং তা ছিল আভিজাত্যের কৃত্রিমতায় ভরা। কিন্তু “রোমান্টিক” ভাষা যেহেতু ল্যাটিন বা ক্ল্যাসিকাল ভাষার এই অন্ধ অনুকরণের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং সহজ, সরল ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ভাষা, সেইহেতু রোমান্টিক ভাষার মধ্যে বুদ্ধির মেকি কারুকার্য খচিত শিল্প কৌশল প্রয়োগের কোনো প্রয়াস নেই; বরং পুরাণের ও লোকজ ঐতিহ্যের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলাই এই ভাষার মূল ধর্ম। এই ভাষার সার্থক প্রকাশ ঘটেছে কোনো নীরস পাণ্ডিত্যের কুস্তির আখড়ায় নয়, কিংবা কোনো রাজসভার সাহিত্যের মণিময় বিলাসবহুল কক্ষের অভ্যন্তরেও নয়; “রোমান্টিক ভাষা”র প্রকৃত প্রকাশ ঘটেছে স্বয়ং কবির হৃদয়ানুভূতির অনাবিল ঝরনাধারায় অবগাহন করে এবং কবির বুকের লালিমা রঙে রঙিন হয়ে বিকশিত হয়েছে মানব হৃদয়ের তীব্র আবেগের এক শিহরিত স্পর্শে।
অবয়বহীন সৌন্দর্য, চিত্রধর্মিতা এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা
পঞ্চমত, রোমান্টিক ভাষা গঠন শিল্পের ছক-বাঁধা সুনির্দিষ্ট ও জ্যামিতিক সৌন্দর্যের পরিবর্তে এক অনির্দিষ্ট, আকার-প্রকারহীন ও অসীম সৌন্দর্যের বাতাবরণ সৃষ্টি করল। ক্লাসিক্যাল ভাষা একটি নির্দিষ্ট সুসংগত সীমার মধ্যেই অসীমের ব্যঞ্জনাকুল রূপকে প্রকাশ করত। কিন্তু রোমান্টিক ভাষা নির্দিষ্ট সীমাহীন অবয়বের মধ্যে জীবনের অতি সূক্ষ্ম, অপ্রত্যক্ষ ও আধ্যাত্মিক ভাব ব্যঞ্জনাকুল রূপকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করল। অর্থাৎ, মানুষের জীবনের একটি ক্ষুদ্র ও ক্ষণস্থায়ী ভাব বা অনুভূতি রোমান্টিক কবিদের লেখনীর ছোঁয়ায় পল্লবিত ও বিস্তারিত হলো এক সীমাহীন বিশ্বজনীন অবয়বের মধ্যে। অন্যদিকে, ক্লাসিক্যাল রীতিতে ভাষা ছিল অত্যন্ত সংযত, সুগম্ভীর, উচ্ছ্বাসবিহীন এবং সম্ভাব্য অপরিহার্যতার কঠিন নীতি-নিয়মকে লঙ্ঘন করে ভাষার উদ্দামতা প্রকাশ করা সেখানে ছিল সম্পূর্ণ নীতি-বিরুদ্ধ; কারণ ক্ল্যাসিক্যাল কাব্যের বাহ্যিক গঠন সৌষ্ঠব ও ভারসাম্যের দিকে কবিদের তীক্ষ্ণ লক্ষ্য রাখতে হতো। কিন্তু রোমান্টিক কাব্যের ক্ষেত্রে সেই অতি সুকঠিন ও কৃত্রিম নীতি-নিয়মকে সম্পূর্ণ অস্বীকার ও চূর্ণ করা হলো।
ক্ল্যাসিক্যাল রীতির এই কঠোর অনুশাসনকে অস্বীকার করার ফলে রোমান্টিক ভাষা এবং সামগ্রিক সাহিত্য রীতি হয়ে উঠল অত্যন্ত চিত্রধর্মী (Pictorial), কোনোভাবেই ভাস্কর্যধর্মী (Sculptural) নয়। কারণ ভাস্কর্য শিল্পের মধ্যে প্রত্যেকটি বর্ণ, রেখা, শব্দ এবং ভাষার যে এক সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক গাঁথুনি এবং নিটোল দৃশ্যমান ঐক্য থাকে, রোমান্টিক ভাষা বা রীতির মধ্যে সেই নিবিড় ঐক্যের বা যান্ত্রিক সঙ্গতির অভাব লক্ষ্য করা যায়। রোমান্টিক ভাষার মধ্যে বরং রয়েছে উষাকালের অথবা প্রদোষকালের এক অপরূপ ও মায়াবী অস্পষ্টতা; যা যেন কোনো এক গভীর রহস্যের কুহেলিকার আবরণে আচ্ছন্ন। ক্লাসিক্যাল ভাষা এবং রীতির মধ্যে জীবনের রূপ যেমন মধ্যাহ্নের দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও নগ্ন হয়ে ফুটে ওঠে, রোমান্টিকতার মধ্যে জীবনের রূপ সেখানে অনেকখানি না-বলা বাণী, অকথিত কাহিনী বা এক অপার্থিব রহস্যের মায়াবী আবরণে মণ্ডিত থাকে। তাই রোমান্টিক ভাষার রীতি ও শব্দ প্রয়োগের মধ্যে বর্ণনীয় বস্তুর চারিদিকে এক অপরূপ রঙিন আলোক চিত্র রচনা করা হয় এবং আবেগের আতিশয্যজনিত এক অস্পষ্ট ধুম্রজালে এক অপূর্ব ধূসরতার সৃষ্টি হয়। ক্লাসিক্যাল রীতির মধ্যে যে বাহ্যিক যান্ত্রিক মুন্সিয়ানা বা ব্যাকরণগত দক্ষতা আছে, সে মুন্সিয়ানার তথাকথিত অভাব রোমান্টিক রীতির ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হলেও তা এর সৌন্দর্যকে কমায় না। ক্লাসিক্যাল রীতির ক্ষেত্রে ভাষা যেমন সুনির্বাচিত এবং সুবিন্যাসে চারুত্ব লাভ করে, তেমনি রোমান্টিক রীতির ক্ষেত্রে ভাষা অসীমের ব্যঞ্জনায় ও ভাবনার বৈচিত্র্যে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। ক্লাসিক্যাল রীতির মধ্যে জীবনের গুরুগম্ভীর সামাজিক বিষয়বস্তুর যে পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা ঘটে, রোমান্টিক রীতির ক্ষেত্রে জীবনের একটি সূক্ষ্ম ভাবকে আবার সেই ইঙ্গিতে কতক ভাষায় ও কতক ভাষাতীত অসীম ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করা হয়। রোমান্টিক কবির মূল বিষয় হচ্ছে কবির সম্পূর্ণ আত্মমুখ্য বা আত্মনিষ্ঠ (Subjective) জীবন; কারণ কবি এখানে আপন মনের মাধুরী বা স্বপ্নলোকের পরম মাধুর্য দিয়ে এক নতুন কাব্য সৃষ্টি করেন এবং এই অবাধ কল্পনার রাজত্বেই তাঁদের মূল বিচরণ। কবিকে এখানে ক্লাসিক্যাল কবিদের মতো আত্মনির্লিপ্ত বা নৈর্ব্যক্তিক (Objective) থাকতে হয় না; কবি এখানে নিজের অনুভূতিতে যতখানি আত্মনিষ্ঠ, শিল্পসৃষ্টিতে তিনি ততখানিই সার্থক ও অমর। ক্লাসিক্যাল রীতির মূল উদ্দেশ্য যেখানে ছিল সমাজ জীবনের একটি সুমহান ও পূর্ণাঙ্গ চিত্রকে রূপদান করা—যার মধ্য দিয়ে পাঠক সমাজ জীবন সম্বন্ধে একটি সামগ্রিক ও যৌথ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে; সেখানে রোমান্টিক রীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের ও জীবনের টুকরো টুকরো কথা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির রঙে রঞ্জিত করে প্রকাশ করা। তাই পরিশেষে বলা যায়, “Romanticism can be defined only in terms of pure psychology, any other formula alters or limits arbitrarily its very essence.” অর্থাৎ, রোমান্টিকতাবাদকে কেবলমাত্র খাঁটি মনস্তত্ত্ব ও মানবিক অনুভূতির আলোকেই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব; এর বাইরে অন্য যেকোনো কৃত্রিম সূত্র বা সংজ্ঞা এর মূল নির্যাস ও শাশ্বত স্বাতন্ত্র্যকে সংকীর্ণ বা খণ্ডিত করে ফেলে।[২][৩]
আরো পড়ুন
- রোমান্টিকতাবাদ বা রোমান্টিসিজম: শিল্প ও সাহিত্যের এক বৈপ্লবিক যুগান্তর
- উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের ‘Tintern Abbey’: প্রকৃতি ও রোমান্টিক কাব্যের কালজয়ী আখ্যান
- She Dwelt Among the Untrodden Ways কবিতার মূল বক্তব্য ও মূল্যায়ন
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী: জন্ম, সাহিত্য ও নোবেল জয়ের ইতিহাস
- ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রদত্ত প্রকৃতির বর্ণনা হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতির বন্ধন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি
- লন্ডন, ১৮০২ বা মিল্টনের প্রতি কবিতার মূল বক্তব্য বা সার-সংক্ষেপ
- কুবলা খান কবিতাটির মূল বক্তব্য বা সারসংক্ষেপ বিষয়ক আলোচনা
- It is a Beauteous Evening, Calm and Free কবিতার মূলভাব ও সারমর্ম
- On First Looking into Chapman’s Homer কবিতার মূলভাব ও সারমর্ম
- উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ রোমান্টিক কাব্য আন্দোলনের ইংরেজি সাহিত্যের কবি
- পার্সি বিশি শেলি হচ্ছেন ইউরোপের রোমান্টিক যুগের একজন বিখ্যাত কবি
- কল্পনা ও শৌখিন কল্পনা সম্পর্কে স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের বিশ্লেষণ
- জন কিটসের কবিতায় সৌন্দর্য চেতনা হচ্ছে রোমান্টিকতার বহিঃপ্রকাশ
- জন কিটসের কবিতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সৌন্দর্যচেতনা, অতীতচারিতা ও প্রকৃতিপ্রীতি
- জন কিটস ছিলেন ইউরোপের রোমান্টিক যুগের সর্বকনিষ্ঠ অন্যতম কবি
- ফ্যানির প্রতি, জন কিটসের Ode To Fanny কবিতার অনুবাদ
- রোমান্টিক কবিতা হচ্ছে রোমান্টিকতাবাদী সাহিত্য আন্দোলন থেকে উদ্ভূত কবিতা
- স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ ছিলেন ইংরেজ কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং দার্শনিক
- লর্ড জর্জ গর্ডন বায়রন ছিলেন ইংল্যান্ড তথা ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি
তথ্যসূত্র ও টীকা (References)
১. চৌধুরী, কবীর।সাহিত্যকোষ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা; অষ্টম মুদ্রণ: ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা: ৯৮-৯৯।
২. ঘোষ, ড. শীতল।ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস, ফ্রেন্ডস বুক কর্নার, ঢাকা; পুনর্মুদ্রণ: জানুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা: ২০৮-২১০।
৩. অনলাইন প্রকাশনা ও হালনাগাদের ইতিহাস: রচনাকাল ও প্রকাশ: এই সাহিত্যিক প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফুলকিবাজ.কমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। সম্পূর্ণ কন্টেন্টটি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাইপূর্বক পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত আকারে এই অনলাইন সংস্করণে সংকলিত হলো।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚