স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ ছিলেন ইংরেজ কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং দার্শনিক

স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ বা স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ (ইংরেজি: Samuel Taylor Coleridge; ২১ অক্টোবর ১৭৭২ – ২৫ জুলাই ১৮৩৪) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি, সাহিত্য সমালোচক, দার্শনিক এবং ধর্মতত্ত্ববিদ, যিনি তাঁর বন্ধু উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে ইংল্যান্ডের রোম্যান্টিক সাহিত্য আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং লেক কবিদের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৭৭২ সালের অক্টোবর মাসের ২১ তারিখে ইংল্যান্ডের ডেভন এ ওটারি সেন্ট মেরী নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল রেভারেন্ড জন কোলরিজ। তিনি প্যারিস গির্জার ভাইকার ও স্থানীয় একটি বিদ্যালের শিক্ষক ছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ খুবই মেধাবী ছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই তিনি পুরো বাইবেল এবং আরব্য রজনী পড়ে শেষ করেছিলেন। তিনি লন্ডনের ক্রাইস্ট হসপিটালের ব্লকোট বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু ১৭৯৪ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে আসার কিছুদিন পরে অক্সফোর্ডের ছাত্র সাউদির সাথে স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের বন্ধুত্ব হয়। দু’জনে ব্রিস্টলে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ সাউদির স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু কবিতা “ওয়াচম্যান” পত্রিকায় ছেপেছিলেন। এ সময় তার সাথে পরিচয় ঘটে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ-এর সাথে। তাঁরা দু’জনে মিলে ১৭৯৮ সালে লিখেন “লিরিক্যাল ব্যালাডস”। এই “লিরিক্যাল ব্যালাডস” এর প্রকাশনার মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্যে “রোমান্টিক যুগ” নামের একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। এর কিছুকাল পরে স্যামুয়েল টেলর কোলরীজ এর ধনী বন্ধু জোটে। তাঁর সহায়তায় স্যামুয়েল টেলর কোলরীজ জার্মানিতে চলে যান। এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ধর্ম, দর্শন, নন্দনতত্ত, দার্শনিকদের জীবনীর উপর প্রচুর পড়াশুনা শুরু করেন।

১৮০০ সালে তিনি ইংল্যান্ড ফিরে আসেন। স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ অধিবিদ্যা, গ্রীক সাহিত্য, জার্মান দর্শনতত্ত, বাইবেল সহ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তবে জীবনের শেষের দিকে তিনি খুবই ধর্মপ্রাণ মানুষে পরিণত হন। মানুষকে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় উপদেশ দিয়ে বেড়াতেন। তাঁর লেখা “The Rime of the Ancient Mariner” কবিতাটি মহান ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রশংসামূলক বিখ্যাত কবিতা। এখানে তিনি সবার জন্য এই শিক্ষা রেখে যান যে, “জীবে দয়া করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর”।

আরো পড়ুন:  জন মিলটনের রাষ্ট্রচিন্তা হচ্ছে রাজতন্ত্রবিরোধী প্রজাতান্ত্রিক সরকার

১৮০০ সালে ইংল্যান্ড ফিরে আসার পর স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে লেক ডিস্ট্রিক চলে যান। এ সময় তিনি এক জনৈক মহিলার সাথে প্রেমে পড়ে বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন, অন্য দিকে এই প্রেমের কারণেই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় টানাপোড়ন। বিভিন্ন হতাশায় ডুবে তিনি আফিম সেবন শুরু করেন। পরবর্তীতে আফিমের নেশার কারণেই তিনি ১৭৩৪ সালের জুলাই মাসের ২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

কোলরিজের ইমাজিনেশন ও ফ্যান্সির বিশ্লেষণ এবং কুবলা খান কবিতার আলোচনা দেখুন ইউটিউবে।

কোলরিজের বিষয়ে দুটি আলোচনা করেছেন লেখক অনুপ সাদি

স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ এর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো

Sonnets on the Eminet Charecters-1794, The Eolian Harp (1795), Reflections on having left a Place of Retirement (1795), Poems on Various Subjects (1796), This Lime-Tree Bower my Prison (1797) The Rime of the Ancient Mariner (1797), Christabel (1797), Frost at Midnight (1798), Fears in Solitude (1798), The Nightingale: A Conversation Poem (1798) Kubla Khan (1798), Dejection: An Ode (1802), To William Wordsworth (1807), Lecturers on Shakespeare (1813), Biographia Literaria (1816-1817), Church and State (1830).

তথ্যসূত্র

১. কল্যাণী ব্যানার্জী সম্পাদিত ও সৈয়দ আহমেদ রুবেল অনূদিত, নির্বাচিত ইংরেজি রোমান্টিক কবিতা, দি বুক সেন্টার, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ জুলাই ২০১৬, পৃষ্ঠা ২১০-২১১।

Leave a Comment

error: Content is protected !!