শাহেরা খাতুন পুরুষতান্ত্রিকতাকে পদাঘাত করে এগিয়ে চলা স্বাধীনচেতা নারী

লোকশিল্পী ও ভূমিকন্যা শাহেরা খাতুন ফসলের খেতের মাঝখানে হাঁটছেন

আজ যার সম্পর্কে লিখবো তিনি আমার কাছে নানা নামে পরিচিত। সময় ও পরিবেশের সাথে সাথে বিভিন্ন নাম, রূপে, রঙে উঠে এসেছেন আমার দৃষ্টিপটে। তিনি অতি সাধারণ একজন; এরমাঝেও আমার কাছে বিশেষ। ব্যক্তি তাঁর নিজের দক্ষতা, যোগ্যতার কারণে অন্যের কাছে পরিচিত হন। আবার নিজের রেখে যাওয়া কাজের কারণে অনেক দিন অন্যের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। এছাড়াও … Read more

আমার দেখা একজন সার্থক নারীর গল্প

আমার দেখা একজন সার্থক নারীর নাম হচ্ছে প্রয়াত শাহেরা খাতুন। তিনি আমার খুব আপন জন ছিলেন, তাঁকে আমি নানী বলে ডাকতাম। তাঁকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আর তার কথা শুনেছি। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানাধীন দামোল গ্রামে বসবাস করতেন। যদিও যখন তার স্বামী মারা যান, তখন তার ছোট ছেলেটি কেবল স্কুলে পড়ে, কিন্তু তিনি … Read more

আমার বড় খালা যেমন সবার বড়, তেমনি সবার কাছে বড়র মতোই শ্রদ্ধা পেতেন

শাহেরা খাতুন

আমার শ্রদ্ধাভাজন বড় খালা এমন একজন বড় মানুষ ছিলেন যার সম্বন্ধে কিছু লেখার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমার খালার নাম ছিল শাহেরা খাতুন। আমার ছোটবেলায় আমি দেখেছি, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি খালু মারা যাবার পর শেষ জীবনে একা একা থাকতেন। কারণ তার সন্তানেরা চাকরি ও অন্যান্য কাজে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন।   আমার বড় খালার … Read more

বটবৃক্ষের ছায়া: আমার জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আমার নানী

শাহেরা খাতুনের একটি ছবি যাতে তাঁকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

আমার নানী বহুগুণে গুণান্বিত এমন ব্যক্তি যাকে তুলনা করতে গেলে আমার কেবল বটবৃক্ষের কথা মনে পড়ে। নানী যেন মরুর বুকে বৃক্ষের ছায়া। যদি আমাকে কখনো জিঙ্গাসা করা হয় যে, সার্বিক দিক থেকে জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কে? তবে চোখ বন্ধ করে এক কথায় উত্তর দিব যে, আমার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলো আমার নানী। … Read more

আমার নানী শাহেরা খাতুনের প্রকৃতিপ্রেম ছিল নিজ সন্তান যত্নের মতই

আমার বড় ননদ

আমার নানী শাহেরা খাতুন যেমনি পরোপকারী, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী ছিলেন ঠিক তেমনি তিনি প্রকৃতি প্রেমিও ছিলেন। বসত ভিটার সাথেই লাগানো প্রায় ৩৫ শতক জমিতে একক প্রচেষ্টায় তিনি যেমন বৃহৎ আকারের ভেষজ, ফলদ, বনজ আকারের বৃক্ষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র আকারের লতাপাতা বা গুল্ম রক্ষা করেছেন, এমন কি পশু পাখিসহ সকল প্রকার প্রাণিকেই তিনি নিজ সন্তানের … Read more

আমার দাদী শাহেরা খাতুন কোনো কাজে অলসতা দেখাতেন না

আমার দাদী শাহেরা খাতুন ছিলেন আমার জন্য পিতা মাতা দাদী নানী। মায়ের আদর আর বাবার দায়িত্ব তিনি একাই পূরণ করেছেন। আমি ‘ক’ ‘অ’ বলতে শিখেছি দাদীর কাছে। হাঁটতে শিখেছি, স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, আরবি বর্ণমালা, অ্যালফাবেট শিখেছি দাদীর কাছে। তিনি পড়তে পারতেন না তবে এগুলো আমার চাচাদের পড়ার সময় মুখে শুনে শুনে শিখেছিলেন। তাই আমি যখন ছোট … Read more

বড় ফুপু সব সময় খুব সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন

শাহেরা খাতুন নানী

আমার বড় ফুপু বড়দের কাছে শাহেরা খাতুন নামে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের চল অনুযায়ী আমিও বড় ফুপুকে বেটি বলতাম। বড় ফুপুর সাথে আমার প্রথম স্মৃতি হচ্ছে আমার প্রথমবার ঢাকাতে যাওয়ার পরে। আমি যখন ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে প্রথম ঢাকা যাই, রহিম আমাকে ঢাকাতে নিয়ে যায়। তখন ফুপু ১/৮ নুরজাহান রোডের দোতলা বাসাতে থাকত। আমরা … Read more

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুন ছিলেন সাংসারিক কাজে খুব পারদর্শী

আমার বড় বোন শাহেরা খাতুন ছিলেন পাঁচ ভাই ও চার বোনের ভেতরে দ্বিতীয়। ভাইবোনদের ধারাবাহিকতায় প্রথমে আছেন বড় ভাই মোহাম্মদ মুসা আলী। এরপর জন্ম হয় শাহেরা খাতুনের। এরপর জন্ম হয়েছে যথাক্রমে আয়েশ আলী, নেকজান বেগম এবং আমজাদ আলীর। বাংলাদেশে আসার পরে জন্ম হয়েছে আমার। আমার পরে জন্মেছে দাউদ হোসেন, জোহরা খাতুন এবং বিলকিস আরা। আমার … Read more

আমার দাদী শাহেরা খাতুনের গ্রামীণ জীবন যাপনের এক ঝাঁক স্মৃতি

আমার দাদী শাহেরা

আমার দাদী শাহেরা খাতুন সারা জীবন গ্রামে বসবাস করেছেন। গ্রামে যত রকমের কাজ আছে, তিনি সেসব কাজ খুব সহজেই সুন্দরভাবে দক্ষতার সাথে করতে পারতেন। আমার দাদী সবচেয়ে সুন্দর ভাবে পারতেন কাঁথা সেলাই করতে। এই কাজ তিনি সারা জীবন করেছেন ভালোবেসে, এমনকি মরার আগ পর্যন্ত করেছেন। চোখের ছানি অপারেশন হবার পরে আবার কাঁথা সেলাই করা শুরু … Read more

আমার বড় ননদ শাহেরা খাতুন লম্বা, স্বাস্থ্যবান, কর্মঠ নারী ছিলেন

আমার বড় ননদ

আমার বড় ননদ শাহেরা খাতুনের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাত হয় আমার বিয়ের দুমাস পরে। বিয়ে হবার মাস দুয়েক পরে আমি প্রথম শ্বশুর বাড়িতে যাই। আমার সঙ্গে আমার নানী আর বড় ভাই গিয়েছিলো। এক সপ্তাহ ছিলাম শ্বশুরের বাড়ি মহেন্দ্রগাঁওতে। সেই সময় আমার বড় ননদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো। আমার বড় ননদকে আমি বড় বুবু ডাকতাম। উনি … Read more

আমার বড় ফুপু ছিলেন সাদা সাদা কোকড়ানো চুলের অসীম সাহসী মানুষ

শাহেরা খাতুনের একটি ছবি যাতে তাঁকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

আমার মনে পড়ে বড় ফুপু শাহেরা খাতুন দেখতে লম্বা, ফর্সা, স্বাস্থ্যবান, সাদা সাদা কোকড়ানো চুলের একজন অসীম সাহসী মানুষ ছিলেন। আমার মায়ের কাছে শুনেছি, আমার ফুপু খুব পরিশ্রমী ছিলেন। ফুপার চেয়ে ফুপুর সাহস ছিল খুব বেশি। তিনি একা একা সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। আমাদের চৌরঙ্গীর বাসায় মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর একা চলে আসতেন। আমার বড় … Read more

শাহেরা খাতুনের স্বপ্ন বাসনায় লুকিয়ে ছিল নারী মুক্তির এক মহান আকুতি

শাহেরা খাতুনের স্বপ্ন

শাহেরা খাতুনের স্বপ্ন বাসনায় লুকিয়ে ছিল নারী মুক্তির এক মহান আকুতি। সেই স্বপ্নকে সারা জীবন লালন করে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে বিগত ২ জুন ২০২১ তারিখে পরলোক গমন করেছেন। মোবাইল ফোনে দোলন প্রভার কাছে দুঃসংবাদটি শুনে বড়ই ব্যথিত হলাম। বারবার হৃদয় স্মৃতিপটে ভেসে উঠল শাহেরা খাতুনের সাথে আমার প্রথম দিনের সাক্ষাতের কথা। প্রায় এক যুগ পূর্বের … Read more

সমারসেট মম ছিলেন ইংরেজ নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং ছোট গল্প লেখক

সমারসেট মম

উইলিয়াম সমারসেট মম (ইংরেজি: William Somerset Maugham; ২৫ জানুয়ারী ১৮৭৪ – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৫) ছিলেন একজন ইংরেজ নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং ছোট গল্প লেখক। তিনি তার যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এবং ১৯৩০-এর দশকে সর্বাধিক-আয়কারী লেখক ছিলেন। সমারসেট মম জাতিতে ইংরেজ কিন্তু সাহিত্যিক প্রকৃতিতে ফরাসি বললে—খুব ভুল বোধ হয় করা হয় না। তার সমসাময়িক … Read more

শাহেরা খাতুনের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি হচ্ছে ৮৩ বছরের কর্মকাণ্ড

শাহেরা খাতুনের জীবনপঞ্জি

লোকশিল্পী শাহেরা খাতুনের দীর্ঘ ৮৩ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি (ইংরেজি: Timeline of Shahera Khatun) এটি। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর, (বঙ্গাব্দ ৭ আশ্বিন ১৩৪৫) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মালদহ জেলার রতুয়া থানার মাঠিয়ারি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কৃষিনির্ভর মাঠিয়ারি গ্রামের পরিবেশ ছিল এমন যেখানে কেবল বোরো চাষ হত। ফসল বলতে কেবল ছিল ডাল জাতীয় শস্য। পারিবারিক … Read more

কার্ল কাউটস্কি ছিলেন চেক-অস্ট্রিয়ান দার্শনিক, সাংবাদিক এবং মার্কসবাদী তাত্ত্বিক

কার্ল কাউটস্কি

কার্ল কাউটস্কি বা কার্ল কাউতস্কি বা কার্ল কাউটসকী (ইংরেজি: Karl Kautsky; ১৬ অক্টোবর ১৮৫৪ – ১৭ অক্টোবর ১৯৩৮ খ্রি.) ছিলেন একজন চেক-অস্ট্রিয়ান দার্শনিক, সাংবাদিক এবং মার্কসবাদী তাত্ত্বিক। ১৮৯৫ সালে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের মৃত্যুর পর ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত কাউতস্কি ছিলেন গোঁড়া মার্কসবাদের অন্যতম কর্তৃত্বপূর্ণ প্রচারক। কার্ল কাউটস্কি বিশ্বশ্রমিক আন্দোলনের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সংস্থার তাত্ত্বিক … Read more