প্রাচীন এথেন্সের বিচারব্যবস্থা: ডাইকাস্ট ও জনতার আদালতের আদ্যোপান্ত

প্রাচীন এথেন্সের এক জনাকীর্ণ উন্মুক্ত আদালত বা অ্যাটিক ডিকাস্টেরিয়নের দৃশ্য, যেখানে বিচারক বা ডাইকাস্টগণ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন এবং একজন বক্তা তাদের সামনে বক্তব্য রাখছেন; পটভূমিতে পার্থেননসহ এথেন্সের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও পাহাড় দেখা যাচ্ছে।

প্রাচীন এথেন্সের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ব্যবস্থার মূলে ছিলেন ডাইকাস্ট (গ্রিক: δικαστής, বহুবচনে: δικασταί) বা বিশেষ বিচারকবৃন্দ। ডাইকাস্ট ছিল প্রাচীন এথেন্স নগর-রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদের নাম। একে আধুনিক জুরি ব্যবস্থা বা বিচারক পদের সমতুল্য মনে করা যায়। প্রতি বছর এথেন্সের পূর্ণ নাগরিকদের মধ্য থেকে (যাঁরা দাস নন কিংবা ঋণের দায়ে নাগরিকত্ব হারাননি) … Read more

স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল ইতিহাস

স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার মেরুকরণ, পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বব্যাপী ছায়াযুদ্ধের (Proxy War) একটি সচিত্র চিত্রায়ন।

স্নায়ুযুদ্ধের কতিপয় বৈশিষ্ট্য (ইংরেজি: Characteristics of the Cold War) মূলত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন প্রভাবিত বিশ্ব ব্যবস্থার আদর্শিক স্বরূপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সমাজতন্ত্রী সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে স্নায়বিক ও কৌশলগত দ্বৈরথ শুরু হয়, তাই বুদ্ধিজীবী মহলে স্নায়ুযুদ্ধ নামে পরিচিত। বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্ষমতার মেরুকরণ তৎকালীন ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল, যার কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সোভিয়েত ও মার্কিন মতাদর্শিক লড়াই … Read more

ইউরোপের স্নায়ুযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠন

স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন ন্যাটো এবং ওয়ারশ প্যাক্টভুক্ত ১৯৮৮ সালের দেশসমূহ

স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডা যুদ্ধ বা ঠান্ডা লড়াই বা শীতল যুদ্ধ (ইংরেজি: Cold war) হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর প্রায় দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে চালিত এক অঘোষিত ব্যঙ্গ যুদ্ধ (ইংরেজি: Mock-war)। এই স্নায়ুযুদ্ধ নামটিও সাম্রাজ্যবাদী বুদ্ধিজীবীদের প্রদত্ত এবং তারাই জনপ্রিয় করে। সত্যবিরোধী সাম্রাজ্যবাদী … Read more

ইউরোপের অর্থনৈতিক শক্তি: দেশগুলোর বিশাল শিল্প সাফল্য ও বৈশ্বিক প্রভাব

কার্ল এদুয়ার্দ বিয়ারম্যানের আঁকা বার্লিনের বিখ্যাত বরসিগ ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা; যা ১৯ শতকের ইউরোপীয় শিল্প বিকাশের প্রতীক।

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষ ইউরোপ মহাদেশে বসবাস করা সত্ত্বেও, ইউরোপ একাই সারা বিশ্বের মোট শিল্পপণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে আসছে। উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার করে বৈশ্বিক শিল্পোৎপাদনে এই আধিপত্য বজায় রাখা ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক অনন্য উদাহরণ। জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ইউরোপ মহাদেশটি অত্যন্ত নগরসমৃদ্ধ, যেখানে মোট জনসংখ্যার … Read more

মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো: প্রাচীন রোমের সর্বশ্রেষ্ঠ বাগ্মী ও প্রজাতন্ত্রের শেষ বীর

রোমের ক্যাপিটোলাইন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত প্রথম শতাব্দীর মার্বেল পাথরে খোদাই করা রোমান বাগ্মী মার্কাস টুলিয়াস সিসেরোর আবক্ষমূর্তি

প্রাচীন রোমের ইতিহাসে সিসেরো নামে খ্যাত মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো (Marcus Tullius Cicero) ইতালির আরপিনামে (Arpinum) খ্রিস্টপূর্ব ১০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। রোমের প্রজাতান্ত্রিক আমলের ক্রান্তিলগ্নে সিসেরো প্রজাতন্ত্রের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখার এক নিরলস অথচ ব্যর্থ সংগ্রাম করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে প্রজাতন্ত্রের পতনের ফলে গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। আধুনিককালে সিসেরো সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান বাগ্মী এবং ধ্রুপদী অলঙ্কারপূর্ণ বক্তৃতার (Rhetoric) তত্ত্ব ও প্রয়োগের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত। … Read more

error: Content is protected !!