উইকিমিডিয়া শিক্ষা সার্ক কনফারেন্স ২০১৯: উন্মুক্ত শিক্ষা ও মুক্ত জ্ঞান আন্দোলনের এক নতুন দিগন্ত

২০১৯ সালের ২০শে জুন ভারতের ব্যাঙ্গালোরের ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটিতে (Christ University, Bangalore) অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় উইকিমিডিয়া এডুকেশন সার্ক কনফারেন্স (Wikimedia Education SAARC conference)। তিন দিনব্যাপী চলমান এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার উইকিমিডিয়ান, উইকিমিডিয়া শিক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকদের এক মিলনমেলা, যাঁরা বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত শিক্ষা (Open Education) এবং মুক্ত জ্ঞান (Free Knowledge) আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. মল্লিকা কৃষ্ণস্বামী (Dr. Mallika Krishnaswami) উপস্থিত সমস্ত শ্রোতা ও অতিথিকে আন্তরিক স্বাগত জানান এবং সবাইকে সমস্ত সম্মানিত অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। এই বিশেষ আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. রমেশ শর্মা (Dr. Ramesh Sharma)। ড. মল্লিকা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এমন একটি মহান ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য ড. শর্মা-ই ছিলেন সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. অনিল জোসেফ পিন্টো (Dr. Anil Joseph Pinto), যিনি উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন উদ্ভাবনী কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন, এবং ড. জন জোসেফ কেনেডি (Dr. John Joseph Kennedy), যিনি মানোনমানিয়াম সুন্দরা নার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির একজন অনুষদ সদস্য। এ ছাড়া উইকিপিডিয়া নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা টিটো দত্ত (Mr. Tito Dutta) উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন।

মুক্ত জ্ঞান, বহুত্ববাদ এবং উইকিপিডিয়ার বৈশ্বিক ভূমিকা

উদ্বোধনী ভাষণে ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্স বা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জ্ঞানের প্রকৃত গুরুত্ব ও তাৎপর্য সবার সামনে তুলে ধরেন। উইকিপিডিয়ার একটি বিশেষ দিক তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল; আর তা হলো উইকি প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত ও সহযোগিতামূলক কাজের ধরণ (Collaborative Way), যা সমাজে বৈচিত্র্য এবং বহুত্ববাদ (Diversity and Plurality) তৈরি করে। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনগুলোতে ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটি এই মুক্ত জ্ঞান আন্দোলনে আরও অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

প্রধান অতিথি ড. রমেশ শর্মা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা সবাই মিলে মূলত জ্ঞানের ভাণ্ডার ও উৎসকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছি। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ‘উইকি’ (Wiki) শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো দ্রুত বা “জলদি” (Jaldi)। উইকি মূলত চারদিকে দ্রুত জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত সরকার একটি নতুন শিক্ষানীতি প্রস্তাব করেছে, যেখানে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে মুক্ত জ্ঞানের (Open Knowledge) সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য সাধারণ মানুষের মতামত বা পরামর্শ দেওয়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ড. শর্মা সুন্দর একটি তত্ত্ব দিয়ে বলেন—কেউ কেউ জ্ঞান তৈরি বা উৎপাদন করছেন, উইকির কাজ হলো সেই জ্ঞানকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া বা সঞ্চারিত করা, এবং এর পরবর্তী তৃতীয় ধাপটি হলো জ্ঞানের আধুনিকায়ন বা উন্নয়ন সাধন করা। উইকিপিডিয়ানরা মূলত এই প্রতিটি ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি উইকিপিডিয়াসহ সকল মুক্ত জ্ঞানের উৎসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এরপর টিটো দত্ত উপস্থিত সমস্ত শ্রোতাদের অভিবাদন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী তিন দিনে সবাই এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং আরও শক্তিশালী ও কার্যকর উপায়ে নিজেদের জ্ঞান সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য উইকিপডিয়ায় যুক্ত হবেন। ড. অনিল জোসেফ পিন্টো তাঁর শুভকামনা জানিয়ে বলেন, উইকিপিডিয়ায় তাঁদের করা এই অর্থপূর্ণ ও উদ্ভাবনী কাজগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক বা দেশীয় ভাষা (Indic languages) বিভাগগুলোর উন্নয়নে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। এর প্রথম লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও ভাষার উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, নতুন অংশীদার বা শিক্ষকদের সাথে কীভাবে একটি সুদৃঢ় “পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক” তৈরি করা যায় এবং উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেই সেরা অভিজ্ঞতা ও চর্চাগুলো একে অপরের সাথে ভাগ করে নেওয়া।

সম্মেলনের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিক্ষার্থীদের উইকি প্রকল্পে ধরে রাখা (Student Retention) এবং কীভাবে তাঁদের আরও বৃহত্তর উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা যে কাজগুলো করছে তার গুণগত মান সঠিকভাবে মূল্যায়ন ও পরিমাপ করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলো খুঁজে বের করাও ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সর্বশেষ লক্ষ্যটি ছিল—কাজের সঠিক ট্র্যাকিং, মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন টপিক বা বিষয় বরাদ্দের জন্য ‘ড্যাশবোর্ড’ (Dashboard) ও ‘নট ইন ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ’ (Not in your language) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত টুলগুলোর সাথে উইকিমিডিয়ানদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখেই ২২শে জুন ২০১৯ তারিখে একই ভেন্যুতে এই সফল সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

একজন বাংলাদেশি শিক্ষকের চোখে ওআইআর (OER) আন্দোলন

আমি অনুপ সাদি, একজন বাংলাদেশি উইকিমিডিয়ান এবং পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক। ২০১৯ সালের ২০ জুন ব্যাঙ্গালোরের উইকিমিডিয়া শিক্ষা সার্ক কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত ছিলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ড. রমেশ সি. শর্মা (Dr. Ramesh C. Sharma) “Introduction to OER movement” (ওপেন এডুকেশনাল রিসোর্সেস আন্দোলনের পরিচিতি) শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন। অধ্যাপক শর্মা মূলত ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং “ওপেন অ্যাক্সেস মুভমেন্ট” বা মুক্ত প্রবেশাধিকার আন্দোলনের প্রতি মানুষের চিন্তাভাবনার দার্শনিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, ওয়েবের গত ৩০ বছরের যাত্রা ছিল এক দীর্ঘ ইতিহাস, যার মধ্যে বর্তমানে ‘ডার্ক ওয়েব’-ই একটি বড় অংশ দখল করে আছে। তিনি আমাদের জানান যে, আমরা মূলত ওয়েবের ৫টি প্রজন্ম (5 Web Generations) সম্পর্কে জানি, যার মধ্যে ১৯৮০-১৯৯০ সালের দিকে পিসি (PC) যুগের সূচনা হয় এবং ১৯৯০-২০০০ সালের দিকে শুরু হওয়া প্রথম ওয়েব প্রজন্ম মূলত বিভিন্ন তথ্যকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করতে শুরু করে।

অধ্যাপক শর্মা মনে করেন যে, শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের মূল কাজই হলো তথ্য ও উপাত্ত আদান-প্রদান করা। যদিও গত বছরগুলোতে ইন্টারনেটের এই সহজলভ্যতা বা সামর্থ্য সবার জন্য এত সহজ ছিল না। ওআইআর (OER) বা ওপেন এডুকেশনাল রিসোর্সেস হলো এমন কিছু শিক্ষাদান ও শেখার উপাদান, যা ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকে; আপনি একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা একজন স্ব-শিক্ষার্থী (Self-learner) যাই হোন না কেন, এটি সবার জন্য সমান উপযোগী। ওআইআর মূলত শিক্ষা, শিখন, গবেষণা এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি অনন্য সম্পদ। মুক্ত কন্টেন্টের মূল ভিত্তি হলো ‘5Rs’—যথা: রিইউজ (Reuse/পুনর্ব্যবহার), রিভাইজ (Revise/সংশোধন), রিমিক্স (Remix/মিশ্রণ), রিডিস্ট্রিবিউট (Redistribute/পুনর্বিতরণ) এবং রিটেইন (Retain/সংরক্ষণ)।

আমাদের কেন ওআইআর (OER) প্রয়োজন? শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা সাধারণ জনগণ—সবার মাঝে জ্ঞানের আলো ও প্রবেশাধিকার সহজ করার জন্যই এটি প্রয়োজন। ওআইআর মূলত পড়াশোনার খরচ কমায়, এখানে কোনো টিউশন ফি বা চড়া মূল্যের টেক্সটবুকের খরচ থাকে না। তিনি ক্রিয়েটিভ কমন্স (Creative Commons) এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর তিনি আমাদের ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওপেন সোর্স বা মুক্ত উৎসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, যেমন—প্লস জার্নালস (Plos Journals), ওইআর ফাউন্ডেশন (Oer Foundation), উইকিয়েডুকেটর (wikieducator.org), ওআইআর ডট অর্গ (oer.org) ইত্যাদি।

শিক্ষাবিদদের কাছে উইকিপিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে “Challenges of Growing Communities – Make Wikipedia Trustworthy to the Educators” (ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায়ের চ্যালেঞ্জ – শিক্ষাবিদদের কাছে উইকিপিডিয়াকে নির্ভরযোগ্য করে তোলা) শীর্ষক সেশনে আমি একজন আলোচক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করি। আমি স্পষ্টভাবেই সেখানে উল্লেখ করি যে, বাংলাদেশ এবং নেপালের শিক্ষাবিদ বা শিক্ষকরা সাধারণত উইকিপিডিয়ার তথ্যের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, আমার নিজের অধ্যাপক ড. শীতল গ্রিন দাহাল (Dr. Shital Green Dahal), যিনি টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি থেকে সাহিত্যের ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং পোখরা ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড কমিউনিকেশন, এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর একজন অনুষদ সদস্য ছিলেন, তিনি উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য নেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের উইকিপিডিয়ার কোনো তথ্যসূত্র ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করতেন। এমনকি উইকিপিডিয়া থেকে কোনো তথ্য পড়া বা ব্যবহার করা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

এই বাস্তবতার আলোকেই আমি আমার পরামর্শে বলি যে, শিক্ষাবিদদের কাছে উইকিপিডিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা মোটেও সহজ কাজ নয়। যদি উইকিপিডিয়ার সম্পাদকরা তথ্যের জন্য সবসময় শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত উৎস (Reliable Sources) ব্যবহার করেন, তবেই কেবল উইকিপিডিয়া সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাঙ্গালোরের আরামদায়ক আবহাওয়া এবং বাংলাদেশি উইকিমিডিয়ানদের যাত্রা

এই সম্মেলনে যোগদানের পুরো অভিজ্ঞতা আমার জন্য ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯শে জুন দুপুরে বাংলাদেশ থেকে আমরা ৭ জন উইকিমিডিয়ান ভারতের ব্যাঙ্গালোরের কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Kempegowda International Airport, Bangalore) পৌঁছাই। সেই সময় কলকাতার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অথচ ব্যাঙ্গালোরে নামার পর দেখি সেখানকার তাপমাত্রা মাত্র ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস! আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত চমৎকার, মনোরম ও আরামদায়ক এবং সূর্যের তাপও ছিল অনেক কম। ব্যাঙ্গালোরের তাপমাত্রা বাংলাদেশ ও কলকাতা—উভয় স্থানের চেয়ে অনেক কম ছিল। বিমানবন্দর থেকে আমরা সরাসরি ট্যাক্সি নিয়ে সম্মেলনের মূল ভেন্যু ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সেই দলে আমার সাথে আরও ছিলেন ডলন প্রভা, আফিফা আফরিন, গালিব হাসান, মেরাজ, মাসুম আল হাসান রকি এবং মুহিন রিয়াদ।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সম্মেলনের শেষ দিন

‘উইকিমিডিয়া শিক্ষা সার্ক কনফারেন্স’-এর দিনগুলো আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় ছিল। আমি সম্মেলনের প্রতিটি সেশন মন থেকে উপভোগ করেছি। ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের উইকিমিডিয়ানরা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন বক্তাদের সাথে আমাদের উইকি-অভিজ্ঞতা বিনিময় করার জন্য একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছিল।

২০শে জুন সকালের নাস্তা শেষ করে আমরা আমাদের নাম নিবন্ধন (Registration) করে কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করি। বিকালের সেশনে আমরা সবাই মিলে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে একটি চমৎকার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করি। এর পরের দুই দিন, অর্থাৎ ২১ ও ২২শে জুন বিভিন্ন উইকি সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ গবেষণা পত্র (Research Papers) পাঠ করেন। এর ফাঁকে ফাঁকে নতুনদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ছিল, যার মধ্যে পোস্টার লেখা এবং অভিজ্ঞতা শেয়ারিং অন্যতম।

এরই মধ্যে সমস্ত অংশগ্রহণকারীকে ১০টি আলাদা দলে বা টিমে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং প্রতিটি দল তাদের ভবিষ্যৎ উইকি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। সেখান থেকে আমি উইকিমিডিয়ার শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বা এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ ও পরিষ্কার ধারণা লাভ করি, যা পরবর্তীতে আমার উইকি কার্যক্রমে দারুণভাবে সাহায্য করবে। সম্মেলনের শেষ দিনে সমস্ত উইকিমিডিয়ানদের নিয়ে একটি বিশেষ ও চমৎকার ফটো সেশন বা ছবি তোলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মহতী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র ও টিকা (References & Notes)

  • উৎস ও প্রকাশের ইতিহাস:
    • এই নিবন্ধটি মূলত লেখকের ‘উইকিমিডিয়া শিক্ষা সার্ক কনফারেন্স’-এ অংশগ্রহণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে।
    • এটি সর্বপ্রথম ২০, ২৩ জুন ২০১৯ তারিখে জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট রোদ্দুরে.কমে (roddure.com) দুটি পৃথক নিবন্ধ ও সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
  • বর্তমান সংস্করণ ও হালনাগাদ: লেখকের মূল স্বর, সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষা ও ভাষার গভীরতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক প্রবন্ধের রূপ দিয়ে আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফুলকিবাজ.কমে (fulkibaz.com) এটি পুনরায় পরিমার্জিত ও হালনাগাদ (Updated) করা হলো।
  • রচনাকাল ও স্থান: প্রবন্ধটি মূল লেখক কর্তৃক ২০ ও ২৩ জুন ২০১৯ তারিখে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের ক্রাইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ে রচিত হয়েছিল।

Leave a Comment