হেগেলের আইনতত্ত্ব: পরম সত্তার বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশ এবং সমাজ-রাষ্ট্রীয় কাঠামোর তাত্ত্বিক ভিত্তি

হেগেলের আইনতত্ত্ব

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রচিন্তার পূর্ণাঙ্গ অনুধাবনের জন্য তাঁর ‘আইনতত্ত্ব’ বা আইনের দর্শন (Hegel’s theory of Law বা Philosophy of Right) পাঠ করা অপরিহার্য। হেগেলীয় দর্শনে আইন কেবল কতগুলো বিধিনিষেধের সমষ্টি নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলে বিদ্যমান এক গভীর যৌক্তিক বিন্যাস। তাঁর মতে, আইনের মাধ্যমেই ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা একটি বস্তুনিষ্ঠ এবং … Read more

হেগেলীয় রাষ্ট্রতত্ত্বের স্বরূপ: সার্বভৌম নৈতিক সত্তা, বিশ্ব-আত্মার মূর্তায়ন ও পরম লক্ষ্য

হেগেলীয় রাষ্ট্র

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রদর্শনে ‘রাষ্ট্র’ কোনো কৃত্রিম চুক্তি বা নিছক প্রশাসনিক যন্ত্র নয়, বরং এটি একটি সর্বব্যাপী, অভ্রান্ত এবং জৈব (Organic) সত্তা, যা বিশ্ব-ইতিহাসে ‘পরমাত্মার’ (Absolute Spirit) বস্তুনিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। হেগেলের মতে, রাষ্ট্র হলো ‘পৃথিবীতে ঈশ্বরের পদচারণা’ (The march of God in the world), যা আত্মসচেতন নৈতিক বস্তু হিসেবে নিজের ইচ্ছা, স্বার্থ ও অধিকার দ্বারা … Read more

হেগেলীয় রাষ্ট্রদর্শন: পরম ইচ্ছার বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশ এবং আইন ও নৈতিকতার সংশ্লেষণ

রাষ্ট্রতত্ত্ব

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রতত্ত্ব বা বা হেগেলীয় রাষ্ট্রের স্বরূপ বা রাষ্ট্র সম্পর্কে হেগেলের ভাববাদী মত (Idealistic Theory of State) কেবল একটি রাজনৈতিক কাঠামো নয়, বরং এটি তাঁর দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি বা দ্বন্দ্ববাদ, যুক্তিবাদ ও ইতিহাসবাদ দর্শনের এক সুসংহত আধ্যাত্মিক বহিঃপ্রকাশ। হেগেলের মতে, রাষ্ট্র হলো ‘পৃথিবীতে ঈশ্বরের পদচারণা’ বা একটি ‘ঐশ্বরিক ধারণা’ (Divine Idea), যেখানে পরম … Read more

হেগেলীয় রাষ্ট্রচিন্তা: জাতীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ঐতিহাসিক নিয়তি এবং বিশ্ব-আত্মার মূর্ত প্রকাশ

জাতীয় রাষ্ট্রের ধারণা

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাজনৈতিক দর্শনে ‘জাতীয় রাষ্ট্র’ (National State) কেবল একটি ভৌগোলিক বা প্রশাসনিক একক নয়, বরং এটি বিশ্ব-ইতিহাসের এক চূড়ান্ত যৌক্তিক ও নৈতিক উৎকর্ষের প্রতিফলন। হেগেলের মতে, রাষ্ট্র হলো পৃথিবীতে ‘ঐশ্বরিক ধারণার’ (Divine Idea) বাস্তব রূপায়ণ, যা কোনো বহিঃস্থ শক্তির কাছে দায়বদ্ধ নয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মান জাতির উত্থানকে তিনি ইতিহাসের এক আধিপত্যকারী যুগ … Read more

সর্বহারা একনায়কত্ব থেকেই নির্মিত হয়েছে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের পথ

সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব

সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব (ইংরেজি: Proletarian dictatorship) হচ্ছে সেই ক্ষমতা যা শ্রেণিহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ হতে সাম্যবাদী সমাজের নির্মাণকর্ম সম্পাদন করে। সকল পুঁজিবাদী দেশেই শাসন-ক্ষমতা থাকে বুর্জোয়া শ্রেণিরই হাতে। সরকারের রূপ যাই থাক না কেন তা অপরিবর্তনীয় ভাবে বুর্জোয়া শ্রেণির একনায়কত্বকে আড়াল করেই রাখে। বুর্জোয়া রাষ্ট্রের অভীষ্ট হলো পুঁজিবাদী শোষণকে রক্ষা করা, কল-কারখানা-ফ্যাক্টরীর উপর বুর্জোয়া শ্রেণির ব্যক্তিমালিকানা, … Read more

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা

দুই বিশ্ব ব্যবস্থা (ইংরেজি: Two world system theory) হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র, দুই ব্যবস্থার, অর্থাৎ দুই সমাজ পদ্ধতির মধ্যেকার সংগ্রাম। বিশ শতকের শুরুতে পুঁজিবাদী দেশসমূহে ঘটেছে নজিরবিহীন ধ্বংস আর ভাঙন। ১৯২৯ সালের শরৎকাল থেকে অদৃষ্টপূর্ব গভীরতা ও প্রবলতা সম্পন্ন এক সংকট এসব দেশকে পর্যুদস্ত করছে। এই সংকট তার প্রচণ্ডতার দিক থেকে, দীর্ঘস্থায়িত্বপূর্ণ প্রকৃতির … Read more

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের সম্পর্ক জড়িত রাজনৈতিক অর্থনীতি অধ্যয়নের সংগে

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের সম্পর্ক

সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাজনৈতিক অর্থনীতি অধ্যয়নের (ইংরেজি: The relationship of socialist construction with political economy) সংগে বিরাজমান। আমরা জানি, পুঁজিবাদকে প্রতিস্থাপন করেই আসে সমাজতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজের উৎপাদন সম্পর্কসমূহ রূপ-কাঠামোগত দিক দিয়েই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপাদন-সম্পর্কসমূহ থেকে সামগ্রিকভাবে ভিন্ন। এই নতুন সম্পর্কসমূহকে রাজনৈতিক অর্থনীতি কি অবশ্যই অধ্যয়ন করবে? স্বভাবতই একে তা করতে হবে। লেনিন দেখিয়ে … Read more

প্রবন্ধ সাধারণত এক টুকরা লেখা যা লেখকের নিজস্ব যুক্তি দেয়

প্রবন্ধ

প্রবন্ধ (ইংরেজি: Essay) সাধারণত এক টুকরা লেখা যা লেখকের নিজস্ব যুক্তি দেয় — তবে সংজ্ঞাটি অস্পষ্ট। এটি চিঠি, গবেষণা-কাগজ, নিবন্ধ, পুস্তিকা এবং ছোট গল্পের সাথেও সংজ্ঞার্থে জড়ায়ে পড়ে। প্রবন্ধগুলি ঐতিহ্যগতভাবে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক হিসাবে উপ-শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সাহিত্যের অন্যান্য রূপ নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, প্রবন্ধ নিয়ে এতোটা হয়নি। এর কারণ সম্ভবত এই যে কবিতা, উপন্যাস, … Read more

নাটক হচ্ছে কথাসাহিত্যের বিশেষ ধরন যা অভিনয়ের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়

নাটক

নাটক (ইংরেজি: Drama) হচ্ছে কথাসাহিত্যের বিশেষ ধরন যা অভিনেতা-অভিনেত্রীর মাধ্যমে পরিবেশিত ও উপস্থাপিত হয়। নাটক সাধারণত ভাষ্য-নাটক (ইংরেজি: Play), অপেরা, মাইম, ব্যালে ইত্যাদি হিসেবে প্রেক্ষাগৃহ বা রেডিও বা টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। নাটক সাধারণভাবে কবিতার ধারা হিসাবে বিবেচিত। নাটকীয় তত্ত্বের প্রথম দিকের রচনা এরিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব (৩৩৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকেই নাটকীয় রূপটি মহাকাব্য এবং গীতিকবিতার সাথে তুলনীয় হয়েছে। … Read more

উপন্যাস সাধারণত গদ্য কথাসাহিত্যরূপে রচিত তুলনামূলক দীর্ঘ লেখা

উপন্যাস

উপন্যাস (ইংরেজি: Novel) সাধারণত গদ্য কথাসাহিত্যরূপে রচিত তুলনামূলক দীর্ঘ লেখা এবং সাধারণত একটি বই হিসাবে প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের আঙ্গিকগুলোর মধ্যে উপন্যাসের সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ই বোধ হয় সর্বাপেক্ষা দুরূহ কাজ। কেননা, সময় ও সমাজের এতো বিচিত্রমুখী ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতন ও ভাঙা-গড়ার যুগে উপন্যাসের আবির্ভাব হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড দিয়ে উপন্যাসের স্বভাবধর্ম নিরূপণ করা সম্ভব নয়। উপন্যাসের উদ্ভবের … Read more

বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাস ও বিবর্তন: উদ্ভব থেকে আধুনিক কালের পূর্ণাঙ্গ আখ্যান

একটি পুরনো পাণ্ডুলিপি, ভিন্টেজ ফাউন্টেন পেন এবং কালির দোয়াতের শৈল্পিক চিত্র; যা বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাস ও বিবর্তনের গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলেছে।

বাংলা ছোটগল্প (ইংরেজি: Bangla short story) কেবল একটি সাহিত্যিক রূপ নয়, বরং এটি বিশ শতকে বাংলা ভাষায় বিকশিত ও সমৃদ্ধ হওয়া এক অনন্য জীবন-আখ্যানের ধারা। যদিও আধুনিক সাহিত্যিক কাঠামো হিসেবে ছোটগল্পের প্রকৃত উদ্ভব ঘটেছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপে, তবে সেই একই শতকের শেষলগ্নে বাংলার পলিমাটিতেও এর বীজ রোপিত হয়। পাশ্চাত্য প্রভাব আর দেশীয় সমাজবাস্তবতার মেলবন্ধনে ঊনবিংশ … Read more

অলংকার সাহিত্য ও ভাষণে বক্তব্য বলিষ্ঠ করার উদ্দেশ্যে বাক্যাড়ম্বরের ব্যবহার

অলংকার

অলংকার বা অলঙ্কার বা অলংকারশাস্ত্র (ইংরেজি: Rhetoric)  হচ্ছে লিখিত সাহিত্য, রচনা বা ভাষণে বক্তব্য বলিষ্ঠ করার উদ্দেশ্যে বাগ্মিতা বা বাক্যাড়ম্বরের ব্যবহার। আধুনিক কালে ইংরেজি প্রতিশব্দ রেটোরিক অনেক সময় নেতিবাচক অর্থে, শূন্য অর্থহীন আড়ম্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কবিতার প্রকরণ বা শিল্পরূপ অনুধাবনের জন্য অলঙ্কার, চিত্রকলা বা Image, ছন্দ এবং ছন্দস্পন্দ সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অলঙ্কার … Read more

কবিতা শব্দের এবং ছন্দের আন্তঃব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একধরণের সাহিত্য

কবিতা ও তার ধরন

কবিতা বা পদ্য (ইংরেজি: Poetry) হচ্ছে শব্দ এবং ছন্দের আন্তঃব্যবহারের উপর ভিত্তি করে রচিত একধরণের সাহিত্য। এটি প্রায়শই ছড়া এবং ছন্দ নিয়োগ করে (প্রতিটি লাইনে শব্দাংশের সংখ্যা এবং বিন্যাস পরিচালনা করে এমন নিয়মের একটি ঝাঁক)। কবিতায় ধ্বনিগুলি শব্দ, চিত্র এবং ধারণাগুলি গঠনের জন্য একত্রিত হয় যা সরাসরি বর্ণনার ক্ষেত্রে খুব জটিল বা বিমূর্ত হতে পারে। … Read more

সাহিত্যে রস হচ্ছে সাহিত্য পাঠের ফলে বিষয়ের অনুধাবনসূত্রে বহুবিধ ভাবের সৃষ্ট

সাহিত্য রস

সাহিত্য বা কাব্যবিচারে রস বা কাব্যরস বা রসবাদের (সংস্কৃত ভাষা: रस) মূল্য অপরিসীম এবং এটি মূলত সংস্কৃত সাহিত্যের বিষয়। এটি দ্বারা প্রধানত সাহিত্যের বিষয়বস্তুর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এই ধারণা কাব্যের শরীর বা রূপ অপেক্ষা রসকেই কাব্যের আত্মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বুৎপত্তিগত দিক থেকে রস শব্দের অর্থ হলো আস্বাদন। কাব্যের বিষয়বস্তু অনুসারে পাঠকের মনে … Read more

সাহিত্যের শৈলি হচ্ছে কোনো লেখকের দ্বারা কোনো গল্প লেখা অথবা বলার উপায়

সাহিত্যের শৈলি

শৈলি বা শৈলী বা সাহিত্যের শৈলি (ইংরেজি: Styles of Literature) হচ্ছে যখন সাহিত্যে কোনো লেখকের দ্বারা কোনো গল্প লেখা অথবা বলা হয় তার উপায়। এটিই একজন লেখককে অন্যের থেকে আলাদা করে তোলে এবং “কণ্ঠস্বর” তৈরি করে যা শ্রোতারা যখন পড়েন তখন শুনেন। অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে যেগুলো একত্রে লেখকের শৈলি তৈরি করে; সেই অংশগুলো হচ্ছে … Read more