আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা: একটি তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার তাত্ত্বিক বিবর্তনের একটি শিল্পসম্মত রূপায়ন: যেখানে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় স্থবিরতা থেকে আধুনিক সার্বভৌম রাষ্ট্র ও যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দর্শনের উত্তরণ চিত্রিত হয়েছে।

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা বা ‘Modern Political Thought’ মূলত চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দী-উত্তর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে উদ্ভূত এমন এক বৈপ্লবিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যা রাষ্ট্রকে ধর্মীয় ও যাজকীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক স্বতন্ত্র এবং পার্থিব সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপ্তি নয়, বরং এটি হলো রাজনৈতিক চিন্তার এক ‘প্যারাডাইম শিফট’ বা আমূল রূপান্তর। পাশ্চাত্যের … Read more

মার্টিন লুথার ও প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার: সামন্তবাদী ইউরোপ থেকে আধুনিকতার উত্তরণ

মার্টিন লুথারের জীবনের প্রধান ঘটনাবলীর একটি ঐতিহাসিক কোলাজ: বামে বাইবেল অনুবাদরত লুথার, মাঝে উইটেনবার্গ চার্চের দরজায় ৯৫টি থিসিস পেরেক দিয়ে গাঁথার দৃশ্য এবং ডানে ধর্ম সংস্কার বা রিফরমেশন আন্দোলনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তের চিত্রায়ন।

মার্টিন লুথার (ইংরেজি: Martin Luther; ১০ নভেম্বর ১৪৮৩ – ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৫৪৬) ছিলেন পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপীয় সমাজ ও খ্রিস্টধর্মের আমূল পরিবর্তনের অগ্রনায়ক। তিনি জগদ্বিখ্যাত ‘ধর্ম সংস্কার’ (Reformation) আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা এবং খ্রিস্টধর্মের ‘প্রোটেস্ট্যান্ট’ মতবাদের জনক। লুথারের সবচেয়ে যুগান্তকারী কাজ ছিল ল্যাটিন থেকে পবিত্র বাইবেলকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা। তাঁর এই … Read more

তসলিমা নাসরিন ও বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর: মুক্তমনাদের সংকীর্ণতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার ব্যবচ্ছেদ

তসলিমা নাসরিন ও মুক্তমনাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা

বাংলাদেশের সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে তসলিমা নাসরিন কেবল একজন নির্বাসিত সাহিত্যিক নন, বরং তিনি এদেশীয় তথাকথিত প্রগতিশীলতা ও মুক্তচিন্তার এক মীমাংসিত কষ্টিপাথর। আশির দশকের শেষার্ধ থেকে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী যখন সমাজকাঠামোর মূলে আঘাত হেনেছে, তখনই উন্মোচিত হয়েছে প্রগতিশীল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য। মূলত তসলিমা নাসরিন ও অন্যান্য সংকীর্ণতাবাদী বাংলাদেশের মুক্তমনারা রাজনৈতিকভাবে চরম প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করেছেন; … Read more

বাংলা কবিতার সমৃদ্ধ ধারার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কালানুক্রমিক পরিবর্তন

প্রাচীন চর্যাপদের তালপাতার পুঁথি, মধ্যযুগের দোয়াত-কলম এবং আধুনিক টাইপরাইটার ও বইয়ের সমন্বয়ে বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের বিবর্তনের একটি শৈল্পিক রূপরেখা।

নানা মতান্তর ও তাত্ত্বিক বিতর্ক সত্ত্বেও আজ এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সহস্রাধিক বছরের এক সুদীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পরিক্রমা। বিশ্বসাহিত্যের চিরায়ত বিবর্তনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলা সাহিত্যের জয়যাত্রাও সূচিত হয়েছে কবিতার মাধ্যমে। আদি নিদর্শন চর্যাপদ থেকে শুরু করে সমকালীন কাব্যধারা পর্যন্ত এই সহস্র বছরের পথচলায় বাংলা কবিতা কেবল ভাব ও ভাষার রূপান্তর ঘটায়নি, বরং বাঙালির জাতীয় … Read more

ভ্লাদিমির লেনিন-এর ঐতিহাসিক রেকর্ডকৃত ভাষণসমূহ: একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন

একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জনসভায় ভাষণরত ভ্লাদিমির লেনিন; পাশে একটি পুরনো গ্রামোফোন এবং মঞ্চের পেছনে বৈপ্লবিক বাংলা ও ইংরেজি ব্যানার সংবলিত একটি শৈল্পিক সাদাকালো চিত্র।

বিপ্লবী নেতা ভ্লাদিমির লেনিন ছিলেন এক অসাধারণ বাগ্মী, যাঁর কণ্ঠস্বর রুশ বিপ্লবের গতিপথ নির্ধারণে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিল। ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে লেনিন সাধারণ মানুষের কাছে বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে দিতে বেশ কিছু ভাষণ গ্রামোফোনে রেকর্ড করেছিলেন। এই নিবন্ধে সেই ঐতিহাসিক ভাষণগুলোর কালানুক্রমিক তালিকা এবং সেগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো। লেনিনের রেকর্ডকৃত ভাষণের কালানুক্রমিক তালিকা (১৯১৯-১৯২১) ১৯১৯ থেকে … Read more

ইহুদি নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে

১৯১৯ সালে ইহুদি-বিরোধী পোগ্রমের বিরুদ্ধে ভাষণরত ভি. আই. লেনিন; পেছনে উৎসুক জনতা এবং বৈপ্লবিক ব্যানার সংবলিত একটি ঐতিহাসিক সাদাকালো শৈল্পিক চিত্র।

ইহুদি বিদ্বেষ মানে হলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ছড়ানো। অভিশপ্ত জার শাসিত রাজতন্ত্র যখন তার শেষ দিনগুলো পার করছিল, তখন তারা অজ্ঞ শ্রমিক ও কৃষকদের ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। জার আমলের পুলিশ, জমিদার এবং পুঁজিবাদীদের সাথে জোট বেঁধে ইহুদিদের ওপর পোগ্রম১ সংগঠিত করেছিল। অভাবের তাড়নায় জর্জরিত শ্রমিক ও কৃষকদের ঘৃণা বা ক্ষোভকে আসল জায়গা … Read more

কেন এ হৃদয় নিজেরে লুকাতে চায়: এক অন্তর্মুখী প্রেমের কাব্যিক ব্যবচ্ছেদ

১৯৭০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে বেঞ্চে বসা এক লাজুক তরুণ ও তরুণী, যেখানে তাদের অভিব্যক্তিতে প্রেমের প্রাথমিক দ্বিধা ও আড়ষ্টতা ফুটে উঠেছে।

কেন এ হৃদয় নিজেরে লুকাতে চায়—আধুনিক বাংলা গানের এক নিভৃত ও মরমী সৃষ্টি। প্রণব রায়ের কালজয়ী লেখনীতে সমৃদ্ধ এই গানটি মূলত ১২ লাইনের একটি নাতিদীর্ঘ কিন্তু গভীর আবেদনময় প্রেমের কবিতা। গানের চরণে চরণে আছে এক আশ্চর্য চিত্রকল্প, যেখানে কবি গেয়েছেন—মুকুল যেমন আপনারে ঢাকে বনপল্লব ছায়। সুরকার ও শিল্পীর নাম কালের গর্ভে হারানো এক অমীমাংসিত রহস্য … Read more

কবিতার বিশ্লেষণ: শিল্পরূপ ও নিগূঢ় অর্থ উন্মোচনের পথ

কবিতার বিশ্লেষণ ও সাহিত্য সমালোচনা নিয়ে গবেষণারত এক ব্যক্তি এবং বাংলা কবিতার বইয়ের সংগ্রহ।

কবিতার বিশ্লেষণ (ইংরেজি: Poetry analysis) হলো কবিতার রূপ, ভাষা, গঠন এবং অন্তর্নিহিত ভাববস্তুকে গভীরভাবে পরীক্ষা করার একটি সুসংগত প্রক্রিয়া। এটি কেবল কবিতার একটি সাধারণ সারসংক্ষেপ নয়, বরং কবি কেন এবং কীভাবে নির্দিষ্ট শব্দ বা ছন্দ ব্যবহার করে একটি বিশেষ অনুভূতি বা বার্তা প্রদান করেছেন, তা উন্মোচন করার শৈল্পিক প্রচেষ্টা। একটি সার্থক বিশ্লেষণের প্রথম ও প্রধান … Read more

দর্শনের ১৫০টি পারিভাষিক শব্দ: বাংলা অর্থ ও সংজ্ঞা

দর্শনের ১৫০টি পারিভাষিক শব্দের অভিধান এবং জ্ঞানের প্রতীকী শিল্পকর্ম

দর্শনশাস্ত্রের জটিল তত্ত্বগুলো সহজভাবে বোঝার জন্য এর পারিভাষিক শব্দগুলোর সঠিক অর্থ জানা অপরিহার্য। উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এখানে ইংরেজি বর্ণানুক্রমে ১৫০টি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ও সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা দেওয়া হলো। দ্রুত অনুসন্ধান করুন (অক্ষর অনুযায়ী): A – B | C – D | E – F | G – I | J – K | L – N | O – P | P – S | S – T | U – … Read more

জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology): জ্ঞানের উৎস, প্রকৃতি ও বিবর্তনের দার্শনিক বিশ্লেষণ

জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং দর্শনের গভীর চিন্তন বোঝাতে একটি প্রতীকী শিল্পকর্ম

জ্ঞানতত্ত্ব (ইংরেজি ভাষায়: Epistemology) হচ্ছে দর্শনশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান এবং মৌলিক শাখা। এটি মূলত জ্ঞানের উৎস, প্রকৃতি, সীমা এবং বৈধতা নিয়ে পদ্ধতিগত আলোচনা করে। দর্শনের বিশাল আলোচনাকে প্রধানত তিনটি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়: পরাতত্ত্ব (Metaphysics) বা পরম সত্তার অনুসন্ধান, নীতিবিদ্যা (Ethics) বা মূল্যবোধের দর্শন এবং জ্ঞানতত্ত্ব। যদিও দর্শনের এই শাখাগুলো একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জ্ঞানের প্রশ্নটি অবিচ্ছেদ্য, … Read more

উপনিবেশবাদ ও উপন্যাস: সাহিত্যের আড়ালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নৈতিক বর্ম

এডওয়ার্ড সাঈদের কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম এবং ১৮শ শতাব্দীর ধ্রুপদী ইংরেজি উপন্যাসের একটি শৈল্পিক উপস্থাপনা

সাহিত্য পাঠে সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির গভীর বোঝাপড়া কেন অপরিহার্য, তার অনন্য দিশা মেলে এডওয়ার্ড সাঈদের কালজয়ী গ্রন্থ ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’-এ। সাঈদ এখানে অত্যন্ত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যে, ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দী থেকে শুরু করে পশ্চিমা কথাসাহিত্যের বিবর্তনে উপনিবেশবাদ ও উপন্যাস একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর মতে, সে সময়ের উপন্যাসের বিকাশে উপনিবেশবাদী আদর্শ কেবল একটি … Read more

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছিলেন সুরের এক চিরভাস্বর নক্ষত্র

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

বাংলা গানের জগতের এক কিংবদন্তি শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৪ অক্টোবর ১৯৩১ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২) ছিলেন ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশেষ করে আধুনিক বাংলা গান ও নেপথ্য সংগীতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯৩১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা এই মহীয়সী নারী তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে সুরের জাদুতে জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। শৈশব ও সংগীত শিক্ষার … Read more

আধুনিক বাংলা গান সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী

আধুনিক বাংলা গান

আধুনিক বাংলা গান (ইংরেজি: Modern Bangla song) মূলত সমকালের রুচি ও মনন থেকে জন্ম নেওয়া এক অনন্য সুরশৈলী। এর নামেই মিশে আছে সমসাময়িকতা আর নতুনের জয়গান। বাংলা গানের দীর্ঘ পথচলায়—প্রাচীন চর্য্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলী কিংবা লোকসংগীতের আঙিনা পেরিয়ে—অনেকগুলো বিবর্তনের স্তর অতিক্রম করেই আধুনিক গান আজ তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি … Read more

কামিনী রায় কবিতায় ব্যর্থতা ও হতাশার গ্লানি ছাপিয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছেন

কামিনী রায়

বাঙালি নারীর অবরুদ্ধ সময়ে কামিনী রায় (১২ অক্টোবর, ১৮৬৪ – ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩) ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী স্নাতক, যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ছিল এক অসাধ্য সাধন। তবে কেবল প্রথাগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি কবিতার মধ্য দিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন। বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতার উন্মেষলগ্নে তাঁর লেখনী নারী জাগরণের পথ … Read more

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা, নিষেধের বেড়াজালে বিষণ্ণ হাসির গান

এইটুকু এই জীবনটাতে

এইটুকু এই জীবনটাতে হাসতে মানা চলতে মানা’ গানটি আধুনিক বাংলা গানের ইতিহাসে এক বিরল সংযোজন। ১৯৬০ সালে কিংবদন্তি শিল্পী ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ধারণকৃত এবং সুরকার সুধীন দাশগুপ্তের অনবদ্য সুরমূর্ছনায় সমৃদ্ধ এই গানটি বিশিষ্ট গীতিকার সুবীর হাজরা রচনা করেন। এই চৌদ্দ লাইনের নাতিদীর্ঘ গীতিকবিতাটিতে মানুষের জীবনের গভীর অপ্রাপ্তি ও অবদমিত অনুভূতিগুলোকে এক অদ্ভুত বিষাদময় হাস্যরসের (Black Humor) মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমাজ ও … Read more