আমরা কি আসলেই সভ্য যুগে বাস করছি? বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা আর গগনচুম্বী অট্টালিকার এই চাকচিক্যময় যুগে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নটি অবান্তর মনে হতে পারে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দুই মহান চিন্তাবিদ—পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দার্শনিক হানা আরেন্ট (Hannah Arendt) এবং প্রাচ্যের আধ্যাত্মিক সাধক ও দার্শনিক শ্রী অরবিন্দ (Sri Aurobindo)—আমাদের এই তথাকথিত সভ্যতার খোলসটি টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। তাঁদের মতে, আমরা প্রগতির নামে আসলে এক নতুন যুগের বর্বরতার দিকে ধাবিত হচ্ছি, যাকে তাঁরা আখ্যায়িত করেছেন “আধুনিক বর্বরতাবাদ” (Modern Barbarism) হিসেবে।
আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এই দুই ভিন্ন ধারার চিন্তাবিদের চোখ দিয়ে দেখব কীভাবে আমাদের আধুনিক জীবনব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং অন্ধ বস্তুবাদ আমাদের ভেতরের মানবিক সত্তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ঐতিহ্যগত বর্বরতা বনাম আধুনিক বর্বরতা: সভ্যতার এক বিকৃত রূপান্তর
প্রাচীন বা ঐতিহ্যগত যুগে ‘বর্বরেরা’ বনে-জঙ্গলে বাস করত। তাদের হিংস্রতা ছিল অসংগঠিত, আদিম এবং তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে বর্বরতার সংজ্ঞা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আধুনিক বর্বরতা মানে সভ্যতার বা শিক্ষার অনুপস্থিতি নয়; বরং এটি হলো সভ্যতারই এক চরম ও বিকৃত রূপান্তর (Inversion of Civilization)।
আমরা এমন সব অত্যাধুনিক যন্ত্র তৈরি করেছি যা দেয়ালের ওপার পর্যন্ত দেখতে পায়, মহাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে অপর প্রান্তের শব্দ শুনতে পায়, এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে কোথায় গিয়ে আঘাত করবে তার কোণ হিসাব করতে পারে। অথচ, যে প্রতিবেশীকে আমরা কোনো এক স্বার্থে বা আদেশে হত্যা করতে যাচ্ছি, তার ভেতরের মানুষটাকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলেছি! আমরা মূলত আমাদের বিবেকের স্পষ্টতাকে (Clarity of Conscience) বিসর্জন দিয়ে কর্মের যান্ত্রিক দক্ষতাকে (Efficiency of Execution) বেছে নিয়েছি।
হানা আরেন্ট এবং দূর নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ: পর্দার আড়ালে প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠুরতা
জার্মান-ইহুদি বংশোদ্ভূত দার্শনিক হানাহ্ আরেন্ট নিজের জীবন দিয়ে নাৎসি জার্মানির ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ রূপ দেখেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “The Origins of Totalitarianism” (১৯৫১)-এ তিনি আধুনিক এই সংকটের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন। আরেন্ট দেখিয়েছেন যে, আধুনিক বর্বর কাজ করে অনেক দূর থেকে—ডিজিটাল স্ক্রিন, মনিটর বা ফাইলের আড়াল থেকে।
প্রাচীন যুগের একজন বর্বর যোদ্ধা যখন তার তলোয়ার চালাত, সে তার শত্রুর চোখ দেখতে পেত। সে তার অস্ত্রের ওজন অনুভব করত এবং নিজের করা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি সারা জীবন বয়ে বেড়াত। কিন্তু আধুনিক বর্বর অপারেট করে দূর থেকে। ডিজিটাল স্ক্রিনগুলো যুদ্ধের আসল বীভৎসতা ও রক্তপাতকে স্যানিটাইজ বা ফিল্টার করে মানুষের সামনে স্রেফ ‘ডেটা’ বা উপাত্ত হিসেবে উপস্থাপন করে। আধুনিক ড্রোন বা মিসাইল চালকেরা বোমার ধোঁয়ার গন্ধ পায় না, মরার আগের আর্তনাদ শুনতে পায় না। তারা কম্পিউটারে কিছু সংখ্যা আর ডেটা পায়, স্থানাঙ্ক (Coordinates) নিশ্চিত করে বোতাম চাপে এবং দিনশেষে একদম পরিষ্কার হাত নিয়ে বাড়ি ফিরে নিজের পরিবারের সাথে ডিনার করে। এই আধুনিক বর্বরতার যুগে সহিংসতা উধাও হয়ে যায়নি; বরং একে সম্পূর্ণ আমলাতান্ত্রিক রূপ (Bureaucratized Violence) দেওয়া হয়েছে।
দি ব্যানালিটি অব ইভিল: চিন্তাহীনতার আমলাতান্ত্রিক রূপ
১৯ toughness৬৩ সালে আরেন্ট তাঁর বিতর্কিত ও জনপ্রিয় বই “Eichmann in Jerusalem”-এ “Banality of Evil” বা “শয়তানির সাধারণীকরণ” ধারণাটি সামনে আনেন। নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যানের বিচার পর্যবেক্ষণ করে তিনি লক্ষ্য করেন, আইখম্যান কোনো জন্মগত বিকৃত রাক্ষস ছিল না; সে ছিল একজন অতি সাধারণ আমলা, যে স্রেফ নিজের চিন্তাশক্তি বন্ধ করে উপর মহলের আদেশ পালন করে গেছে।
যখন সাধারণ মানুষ নিজের বিবেক খাটিয়ে রাষ্ট্র বা সমাজকে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়, আর স্রেফ নিজের অর্পিত দায়িত্ব বা অর্ডার পালন করে যায়, তখনই সমাজে চরমতম নিষ্ঠুরতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই প্রসঙ্গে আরেন্টের একটি চিরন্তন বাণী হলো:
“It is, in fact, far easier to act under conditions of tyranny than it is to think.”
(অনুবাদ: আসলে, স্বৈরাচারী বা অত্যাচারী পরিস্থিতির অধীনে যেকোনো কাজ করে যাওয়া অনেক সহজ, কিন্তু নিজে থেকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করাটা অত্যন্ত কঠিন।)
শ্রী অরবিন্দের দর্শন: প্রাণিক ও অর্থনৈতিক বর্বরতা (Economic & Vitalistic Barbarism)
হানাহ্ আরেন্ট যেখানে আধুনিক বর্বরতার রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক রূপটি উন্মোচন করেছেন, সেখানে ভারতের মহান দার্শনিক ও যোগী শ্রী অরবিন্দ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য হিউম্যান সাইকেল’ (The Human Cycle)-এ এই আধুনিক বর্বরতার মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক মূল কারণটি তুলে ধরেছেন।
শ্রী অরবিন্দের মতে, মানুষ কেবল তখনই বর্বর থাকে না যখন সে নগ্ন হয়ে ঘোরে বা অস্ত্র হাতে হিংস্রতা দেখায়। আধুনিক যুগের মানুষ দামী পোশাক পরে, বড় বড় অট্টালিকায় বাস করে এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চূড়ান্ত সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু যদি তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয় কেবল স্রেফ ভোগবিলাস আর বস্তু অর্জন, তবে সেই মানুষটি আসলে একজন “উন্নত বা পরিশীলিত বর্বর” (Sophisticated Barbarian)। বাহ্যিক রূপ আধুনিক হলেও তার ভেতরের মানসিকতা আদিম ও পশুতুল্য রয়ে গেছে।
শ্রী অরবিন্দ এই আধুনিক সামাজিক অসুখের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে লিখেছেন:
“The essential barbarism of all this is its pursuit of vital success, satisfaction, productiveness, accumulation, possession, enjoyment, comfort, convenience for their own sake.”
বাংলা অনুবাদ: “এই সবকিছুর মূল বর্বরতা লুকিয়ে আছে কেবল স্রেফ নিজেদের স্বার্থে জাগতিক সাফল্য, আত্মতৃপ্তি, উৎপাদনশীলতা, সম্পদ পুঞ্জীভূত করা, ভোগদখল, আমোদ-প্রমোদ এবং আরাম-আয়েশের অন্ধ অনুসরণের মধ্যে।”
উদ্দেশ্যহীন বস্তুবাদের অন্ধ অনুসরণ: যখন উপায়ই হয়ে ওঠে লক্ষ্য
শ্রী অরবিন্দের মূল আপত্তি ছিল এখানে যে, আধুনিক সমাজ মানুষের আরাম, সঞ্চয়, উৎপাদনশীলতা এবং সুযোগ-সুবিধাকে জীবনের ‘উপায়’ (Means) হিসেবে না দেখে, জীবনের ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’ (End) বানিয়ে ফেলেছে। মানুষ আরামের জন্য আরাম চাইছে, জমানোর জন্য জমাচ্ছে—এর পেছনে কোনো উচ্চতর জীবনদর্শন বা আধ্যাত্মিক চেতনা নেই।
বিজ্ঞান ও শিল্পায়ন মানুষকে অপরিমেয় ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু আধুনিক মানুষ সেই ক্ষমতাকে নিজের মন ও আত্মার বিকাশ বা মানবিকতা বৃদ্ধির কাজে লাগাচ্ছে না। ফলে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক (Mechanical)। যখন সমাজ কেবল টাকার অঙ্ক, জিডিপি (GDP), উৎপাদন আর ভোগের মাপকাঠিতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে, তখন শ্রী অরবিন্দের ভাষায় সমাজ ‘অর্থনৈতিক ও প্রাণিক বর্বরতার’ চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছায়।
আরেন্ট ও অরবিন্দ: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শনের মেলবন্ধন
যদি আমরা এই দুই মহান চিন্তাবিদের দর্শনকে একসাথে মেলাই, তবে আধুনিক সভ্যতার এক ভয়াবহ কোলাজ আমাদের সামনে ভেসে ওঠে।
- শ্রী অরবিন্দ আমাদের দেখিয়েছেন সমস্যার উৎস বা কারণ: আমাদের চরম বস্তুবাদী মন, যা কেবল নিজের আরাম, সঞ্চয় আর ক্ষমতার পেছনে অন্ধ হয়ে দৌড়ায়। এই অন্ধ দৌড় মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মানবিক সহানুভূতিকে মেরে ফেলে।
- হানাহ্ আরেন্ট আমাদের দেখিয়েছেন এই মনস্তত্ত্বের ভয়াবহ পরিণতি: যখন মানুষের ভেতরের সেই সহানুভূতি মরে যায়, তখন সে স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষকে স্রেফ ‘ডেটা’ মনে করে। তখন আইখম্যানের মতো আমলারা ঠান্ডা মাথায় কোটি মানুষের মৃত্যুর ফাইলে সই করতে পারে, কিংবা ড্রোন অপারেটররা এক বোতামে পুরো শহর ধ্বংস করে শান্তিতে ঘুমাতে যেতে পারে।
আরেন্ট যেভাবে বলেছেন—“The death of human empathy is one of the earliest and most telling signs of a culture about to fall into barbarism.” (মানুষের পারস্পরিক সহানুভূতির মৃত্যু হলো কোনো একটি সংস্কৃতির বর্বরতার দিকে ধাবিত হওয়ার সবচেয়ে প্রাথমিক এবং অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ।) শ্রী অরবিন্দের অর্থনৈতিক বর্বরতা মূলত মানুষের সেই সহানুভূতিকেই প্রথমে হত্যা করে।
উপসংহার: আধুনিক বর্বরতা থেকে মুক্তির উপায় কী?
হানাহ্ আরেন্ট এবং শ্রী অরবিন্দ আমাদের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন যে—আধুনিকতা, বিজ্ঞান কিংবা জিডিপির (GDP) প্রবৃদ্ধি কখনো মানুষের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের গ্যারান্টি হতে পারে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্থহীন হয়ে পড়ে, যদি তার সুফল সমাজে ব্যাপকভাবে বৈষম্যমূলক ও অসমভাবে বণ্টিত হয়। একইভাবে, প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতিও অন্তঃসারশূন্য প্রমাণিত হয়, যদি তার ইতিবাচক প্রতিফলন প্রান্তিক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে না ঘটে। বস্তুত, আত্মাহীন প্রযুক্তি আর বিবেকহীন বস্তুবাদ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দক্ষ, অথচ সবচেয়ে নিষ্ঠুর এক বর্বরে রূপান্তরিত করতে পারে।
এই আধুনিক বর্বরতা থেকে মুক্তির উপায় দুটি:
১. স্বাধীন চিন্তাশক্তির পুনর্জাগরণ (আরেন্টের দর্শন): রাষ্ট্র, মিডিয়া বা করপোরেট সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ বন্ধ করে প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব বিবেক খাটিয়ে প্রশ্ন করা শিখতে হবে।
২. আধ্যাত্মিক ও মানবিক চেতনার বিকাশ (শ্রী অরবিন্দের দর্শন): জীবনকে কেবল স্রেফ ভোগ ও সঞ্চয়ের মাধ্যম না ভেবে, এর চেয়ে উচ্চতর কোনো আদর্শ, নৈতিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কাজে নিয়োজিত করতে হবে।
স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষটির কান্না যেদিন আমরা উপলব্ধি করতে পারব, আর জীবনের সার্থকতা যেদিন কেবল স্রেফ ‘জমানো’ আর ‘ভোগ করার’ গণ্ডি পেরিয়ে ত্যাগের আলোয় আলোকিত হবে—সেদিনই কেবল আমরা এই আধুনিক বর্বরতার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকৃত ‘সভ্য’ মানুষ হয়ে উঠতে পারব।
আরো পড়ুন
- আধুনিক বর্বরতাবাদ-এর ব্যবচ্ছেদ: হানা আরেন্ট ও অরবিন্দের চোখে সভ্যতার এক উল্টো স্রোত
- বেনিতো মুসোলিনি: ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং ইতালির একনায়কতন্ত্রের ইতিহাস
- স্বৈরতন্ত্র জনগণের মধ্যে অনৈক্য করেই টিকে থাকে
- জ্যোতি বসু হচ্ছে আধুনিক বর্বর গণহত্যাকারী খুনি রাজনীতিবিদ
- দেং জিয়াওপিং ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের একজন প্রতিবিপ্লবী কুচক্রী রাজনীতিবিদ
- ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের সন্ত্রাসবাদী গণহত্যাকারী রাজনীতিবিদ
- জওহরলাল নেহরু ভারতের জনগণ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার শত্রু সন্ত্রাসবাদী
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন ভারতের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণির নেতা
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ার জন্য:
- The Origins of Totalitarianism – হানা আরেন্ট (১৯৫১)।
- The Human Cycle – শ্রী অরবিন্দ (১৯৪৯)।
- Eichmann in Jerusalem – হানাহ্ আরেন্ট (১৯৬৩)।
- Hannah Arendt, স্ট্যানফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ফিলোসফি (Stanford Encyclopedia of Philosophy)।
- The Essential Philosophy of Sri Aurobindo, শ্রী অরবিন্দ আশ্রম পাবলিকেশনস।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚