বিপন্ন জনগণের ইতিহাস
নিজে বাঁচলে সবার বাঁচা হবে
কবার বাঁচলে দেশ বেঁচে যাবে?
কার বাড়িতে সব বিদেশি পাখি
বিদেশি গাছে ভরছে চার আঁখি
নিজে বাঁচা যায় না—তবু বাঁচা
নিজের বাড়ি নিজের দেশে খাঁচা
সন্তানাদি বাঁচার ক্ষীণ আশা
আশা বাঁচে গভীর পোড়া বুকে
আশা বাঁচে স্তালিনও বাঁচে।
এসো তুমি, ফিরে এসো আমার পাড়াগাঁয়
একুশ শতকে কে শ্রীচৈতন্যের কাছে প্রেম কিনতে যায়?
তবু সকাল শিল্পনগরিতে
আগুনঝড়ে ওড়ে তোমার হৃদয় হতে আমার রিক্ত হাতে
শ্রমিক ঘোরে যন্ত্র ঘোরে সাথে;
প্রেম দিয়ে কী শ্রমিকতন্ত্র,
আমার ঘরে আনবে আজি ভালোবাসার তরুণ মন্ত্র
প্রেম কী ওড়ে বাঙলাদেশের আকাশ পুরে?
প্রেম পাবি তুই কার কাছে
মুক্তি পাবি কোন ময়দানে
কে তোকে শোনায় কবিতা
গল্পে জাগায় কে
ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি জাগবে আবার কবে
কে তোর টুঁটি চেপে ধরে
কার আক্রমনে কেবা মরে
কোন পথে গেলে গলে রক্ত দেওয়া যায়?
ওইখানে প্রজাপতি ডানায় উড়ে আমরা যেতে চাই।
দেখছেন, এক নেতা বহুদিন থেকে বোঝাচ্ছেন
গান গল্প, কথায় আর ঈশারায়, ব্যর্থতা আর চোখ ভরা কান্নায়,
শোনাচ্ছেন প্রজন্মের বাঁকঘোরা,
কেন জনগণ ইতিহাস ও নিজেদের নিয়মিত পোড়ায় আর
গায়ে পড়ে গায় জাগরণী গান,
কেন তারা প্রতিবাদীকে মহত মনে করে,
কেন কেউ কেউ
মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেয়
কেন দেশে দেশে কোন্দল ও যুদ্ধ
নিজেদের তৈরি রাষ্ট্রকে ভাঙতে কেন এতো রক্ত যায়,
আবার
একটি রাষ্ট্র ১৫ টুকরো হলেও কেন, মরে না পাঁচ জনও?
উড়ে এসে কেন দখল হলো অনেক জায়গা
আফ্রিকার জ্যামিতিক মানচিত্র আমাদের উপরে চাপিয়ে দিলো
সেইসব সভ্যেরা
আর আমাদের নেতারা
হিংসা বিদ্বেষ লোভ ও নকলে গিয়ে
নিজেদের ভুলে গেল
জনগনের উপরে পড়ে রইল নিজেদের লাশ
আর আমাদের স্বাধীনতা শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে তা
শক্তিধরটির কার্যালয়ের সামনের বিপন্ন বিষন্ন মানুষটির
চোখে চোখ রাখলে টের পাওয়া যাবে।
টিকা:
১. জোসেফ স্তালিন (১৮ ডিসেম্বর ১৮৭৮ – ৫ মার্চ ১৯৫৩) হচ্ছেন মানবেতিহাসের মহত্তম সাম্যবাদী নেতা ও বিপ্লবী। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র নির্মাণের প্রধান ভূমিকা পালনকারী।
২. শ্রীচৈতন্য (১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৪৮৬ – ১৪ জুন, ১৫৩৪) বাঙালি সংস্কারক এবং সামন্তীয় বাংলার প্রেমধর্মের প্রচারক, হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালান।
| ⬅️ আগের কবিতা | 📜 সূচিপত্র | পরের কবিতা ➡️ |
|---|
ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী অনলাইনে ফুলকিবাজ.কম সাইটে কাব্যগ্রন্থ আকারে একটি পোস্টে প্রকাশ করা হয়। আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একক কবিতা আকারে আপডেট করে প্রকাশ হলো।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚