পুরুষালী নেতা ও ভাতার

মন্ত্রীসাব কহেন কোটি কোটি টাকা দেন,
এখন আর অল্পেতে পোষায় না,
যত পারেন দেন, ডাল ভাত খাবো,
প্রতিদিন মাছ গোস্ত ভালো লাগে না,

মন্ত্রিসাব পাব্লিকরে জিগাইলেন ‘কী করেন?’
— গান করি আর সংসারধর্ম পালন করি।

কতো দায়িত্ব মন্ত্রিমিয়ার
বাড়ির পাশের কোলকাতা,
পকেটের কোকাকোলা, বক্ষের ভাঁজ, নিতম্বের খাঁজ সবই তার চায়
নেত্রি শুধু মাঝদুপুরে ভাত ঘুম দেয়, উচ্চ লোভী ঘুম!

আমাদের মেয়েদের মাথার চুলে বিলি কাটে হিংসুটে সময়
আমরা তাই মেয়েদের বলি,
“এতো আদরের কী আছে বাছা,
খাবিদাবি কলকলাবি সংসারধর্ম পালন করবি।
”

আমাদের পাড়াগাঁয়ে বিবাহিত নারীদের গল্প একটু আলাদা
তাদের বউমা আর শ্বাশুড়িরা একান্তে খুব লোভী,
হায়রে লোভ একটা সংসারের আংশিক ননী চুরি করে
খেয়ে ফেলার লোভ,
প্রতিদিন বৌমাদের সংগে কাজিয়া আর ঝগড়া,
মধ্যবিলাসী বিনি পয়সার নাটক।

কেউ হয়ত ফোড়ন কাটলেন,
‘বুঝলেন তো দাদা, এসবই পিতৃটন্ত্র’।

কে ধোয় কাপড় আর কে টেরি কাটে
কার সিঁথি সিঁদুরহীন কে ছাদে হাঁটে?

বুঝলি প্রফুল্ল১ ভাতার না থাকলে নারীজীবন অসার্থক
যতই তুই কর পরোপকার; নারীত্ব আর মাতৃত্ব বুঝবি
পুরুষের সোনার স্পর্শে, তোর সারা অঙ্গে ঝিলিক দেবে২ কতো কী!

টিকা:

১. প্রফুল্ল হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবী চৌধুরানী উপন্যাসের নায়িকা যে বিয়ের পরে ভাতারের পা টিপে টিপে নিজের চরিতার্থতা খুঁজে পায় এবং পুকুরঘাটে বাসন মেজে সফল জীবন পার করে।
২. ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কপালকুণ্ডলা নামের বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত একটি গানে বলা হয় ‘পুরুষ যে তোর পরশপাথর তোকেই ছুঁয়েছে, ও মেয়ে তুই বদলে যাবি, নিজের চোখেই দেখতে পাবি, সব কিছু তোর সোনা হয়েছে’। গানটিকে পরে এ্যালবামে বের করে গণশত্রুদের প্রতিষ্ঠান সারেগামা।

⬅️ আগের কবিতা📜 সূচিপত্রপরের কবিতা ➡️

ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী অনলাইনে ফুলকিবাজ.কম সাইটে কাব্যগ্রন্থ আকারে একটি পোস্টে প্রকাশ করা হয়। আজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একক কবিতা আকারে আপডেট করে প্রকাশ হলো।

Leave a Comment