মনে রাখো, তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল;
মনে রাখো, তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে!
ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি,
তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে।
তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে—
প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে!
গাছ হতে শিশু জন্ম নেয়, তুমি শিশুর কান্না থামাও
রুমঝুমির ঝুনঝুন শব্দে, আর পল্লবের প্রশাখায় ফোটাও ফুল;
যদিও তুমি অর্ধমৃত!
মায়ের মুখ থেকে শিশুরাই মুখ সরায়,
সেখানে কিছু সময় জোঁকের মুখ ছিল;
জোঁকেরা চুষেছিল মায়ের সম্পদ-সম্বল—
কেউ বোঝেনি তুমি ছাড়া, কিন্তু তুমি করোনি কিছুই।
শুধু শরতের জলফড়িং বুঝেছিল সেদিনের নতুন আয়োজন—
পুরোনো লাঠালাঠির নতুন ইতিহাস,
চুলাচুলি করে উড়িয়ে দেওয়া স্বজাতির মাথার খুলি;
পতাকায় চুমো খেয়ে স্বরাষ্ট্রের সুবিধার মোড়কে—
পৃথিবীর জননীতির স্বপক্ষের সাফাই গাওয়া আগ্রাসী গান;
‘বাঁচো আর মারো—কুচ পরোয়া নেহি!’
পরিত্রাতা নয়া মতের নয়া জোয়ার্দার।
মাঝখানে বিদ্রোহের কল্কি হাতে শুধু শুধু গণ্ডগোল পাকাবার
চেষ্টা করছে হাজারবার মরার পরেও কিছু তরুণ;
এবং আমি মানসচক্ষে দেখি—
চে গ্যেভারা ও চারু মজুমদার দুটুকরো রুটি খায়
পাকা আম দিয়ে!
কিছু তরুণ তাদের পাশে অস্ত্রহাতে দাঁড়িয়ে;
কল্পনায় তারা দেখে ছুরি-চাকু-কাঁটাতারের বেড়াহীন
মুক্তনগর, যৌথসংগীত, দোতরার সুর আর—
রাত জেগে দেয়াল লিখনে লেখা তোমার ঠোঁটের
টলটলে ভালোবাসা।
তবু ভালোবাসা তার রঙ বদলায়,
হুঁশিয়ারি হাঁক হেঁকে গ্রামের মোড়ল চলে যায়
তার সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে লেফট-রাইট করতে করতে।
কী এমন হয় যদি বদলে যায়—
আগ-পিছু, উঁচু-নিচু, পুরোনো সব?
দিনে উঠে চাঁদা, রাতে তোমার সূর্যদাদা;
দিকভ্রম না থাকে, সব পথ মিশে যায়
অভাবহীন আর্কেডিয়ার দিকে!
যদি আরও দ্রুত ক্ষয় হয় ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতা,
যদি শামুক ও কচ্ছপ আর না ঢোকে খোলসে,
লজ্জাবতী সূর্যমুখী লজ্জা পেয়ে সূর্যপানে ফিরে না তাকায়;
মুরগিছানা ঢুকে যায় ডিমে, শিশু পুনরায় মাতৃগর্ভে—
কী এমন হয় যদি নারীরা বন্ধ্যা হয়?
যদি বংশবাতি নাই জ্বলে—
দাদা-দাদি, নানা-নানির সঙ্গমে!
তুমি জানতে মায়ের সম্পদ-সম্বল চুষেছে ভিনদেশি জোঁকেরা,
তোমার আত্মীয়রা খিলখিল হেসেছে—
কেননা তারা মজা পেয়েছে;
তুমি তাদের বোঝাতে পারোনি, কেননা তারা চিরকালীন নির্বোধ!
কী এমন হয় যদি না থাকে ছাইমাখা সমাজ ও সভ্যতা—
শান্তিনিকেতনের নয়নতারার কণ্ঠের অক্ষম সংলাপ?
| ⬅️ আগের কবিতা | 📜 সূচিপত্র | পরের কবিতা ➡️ |
|---|
ফুটনোট: কবিতাটি পূর্বে ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রোদ্দুরে.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখকের স্বত্বাধিকার অনুযায়ী ফুলকিবাজ.কম সাইটে পুনর্মুদ্রিত হলো।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚