দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির বিবর্তন: সক্রেটিস, হেগেল এবং মার্কসীয় বস্তুবাদী রূপান্তরের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

Dialectics

দর্শনের ইতিহাসে সত্য অনুসন্ধানের পদ্ধতি হিসেবে ‘দ্বান্দ্বিকতা’ বা দ্বন্দ্ববাদ (Dialectics) এক দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বিবর্তনের পথ অতিক্রম করেছে। প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিসের কথোপকথন ও কূটাভাস নিরসনের মাধ্যমে যে পদ্ধতির বীজ বপন হয়েছিল, তা উনিশ শতকে জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের হাতে এক পূর্ণাঙ্গ ‘পরম ভাববাদী’ তাত্ত্বিক কাঠামো লাভ করে। তবে দ্বান্দ্বিকতার এই পরিক্রমা সেখানেই থেমে থাকেনি; কার্ল … Read more

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেল: জার্মান ভাববাদী দর্শনের চরম উৎকর্ষ ও পরম ভাববাদ

হেগেলের অবদান

হেগেল বা জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিক হেগেল (ইংরেজি: George Wilhelm Friedrich Hegel; ২৭ আগস্ট ১৭৭০ – ১৪ নভেম্বর ১৮৩১) ছিলেন জার্মান ভাববাদী দর্শনের আদিগুরু। তিনি জার্মানির হিরটেমবার্গ পরগনার অন্তর্গত স্টুটগার্ট শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা গেয়র্ক লুডউইগ হেগেল ছিলেন স্থানীয় সরকারের অর্থ পরিদপ্তরের একজন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা।

প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলন: আধুনিক ইউরোপীয় জাতিরাষ্ট্র ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি

মার্টিন লুথার ১৫২১ সালে 'ওয়ার্মসের ডায়েটে' (Diet of Worms) পবিত্র রোমান সম্রাট পঞ্চম চার্লস এবং ক্যাথলিক চার্চের প্রতিনিধিদের সামনে নিজের অবস্থানে অটল দাঁড়িয়ে আছেন; যা ইউরোপে ধর্মীয় সংস্কার ও আধুনিক রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী মুহূর্ত।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপীয় সমাজ-কাঠামো এবং ধর্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের আমূল পরিবর্তনের প্রধান কারিগর ছিলেন জার্মানির উইটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্বের প্রখ্যাত অধ্যাপক মার্টিন লুথার। তিনি ছিলেন একাধারে প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলনের (Reformation) অগ্রপথিক এবং নতুন এক ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। লুথারের ব্যক্তিত্ব কেবল একজন পুরোহিতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী চিন্তক এবং তৎকালীন প্রচলিত যাজকতন্ত্রবিরোধী … Read more

হেগেলীয় দর্শনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য: রাষ্ট্রদর্শন, প্রগতি এবং নৈতিক সংহতির নবদিগন্ত

হেগেলবাদের গুরুত্ব

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের দর্শনের গুরুত্ব (ইংরেজি: The significance and importance of Hegelian Philosophy) কেবল উনবিংশ শতাব্দীর জার্মানিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আধুনিক রাষ্ট্রদর্শন, ন্যায়বিচার এবং প্রগতির ধারণায় এক বৈপ্লবিক মোড় পরিবর্তনকারী শক্তি। রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ভন (Vaughan) এর মতে, হেগেলীয় মতবাদকে বিচার করার আগে তাঁর দর্শনের ‘ফলপ্রসূ উপাদান’ (Fruitful elements) গুলোর দিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। হেগেলই … Read more

হেগেলীয় রাজনৈতিক চিন্তা: জার্মান ভাববাদের বিস্তার এবং ফরাসি বিপ্লবোত্তর দোদুল্যমানতা

হেগেলের অবদান

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রচিন্তা মূলত ইমানুয়েল কান্টের প্রবর্তিত জার্মান ভাববাদী দর্শনের এক বৈপ্লবিক ও চূড়ান্ত সম্প্রসারণ। ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি ভাববাদের রাজ্যে এমন এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন, যা প্লেটোনীয় ধ্রুপদী দর্শন এবং আধুনিক যুক্তিবাদকে একীভূত করে। হাইডেলবার্গ ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা জীবনে হেগেল তাঁর এই তাত্ত্বিক কাঠামোকে পূর্ণতা দান করেন, যেখানে রাষ্ট্র কেবল … Read more

হেগেলীয় সুশীল সমাজ ও এর বৌদ্ধিক উত্তরধিকার: মার্কস থেকে গ্রামসি পর্যন্ত বিবর্তন

সুশীল সমাজ

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের ‘সুশীল সমাজ’ বা ‘নাগরিক সমাজ’ (Civil Society) সংক্রান্ত ধারণাটি আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। হেগেল নাগরিক সমাজকে রাষ্ট্র ও পরিবারের মধ্যবর্তী একটি স্বতন্ত্র পরিসর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা পরবর্তীকালে কার্ল মার্কস, ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস এবং আন্তোনিও গ্রামসির মতো তাত্ত্বিকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। মার্কসীয় দর্শনে নাগরিক সমাজকে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ বা … Read more

হেগেলীয় সুশীল সমাজ (Civil Society): চাহিদার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় সংহতির মধ্যবর্তী স্তর

Civil Society

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের দর্শনে ‘নাগরিক সমাজ’ বা ‘সুশীল সমাজ’ (Civil Society) ধারণাটি পরিবার এবং রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী একটি অপরিহার্য দ্বান্দ্বিক পর্যায়। হেগেলের মতে, নাগরিক সমাজ মূলত ‘চাহিদার একটি ব্যবস্থা’ (System of Needs), যেখানে ব্যক্তিরা তাদের বৈষয়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে সংঘবদ্ধ হয়। তবে এই পরিসরটি মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও খণ্ডিত স্বার্থ … Read more

হেগেলীয় রাষ্ট্রদর্শনে ব্যক্তির অবস্থান: পরম সত্তার বিবর্তনে ব্যষ্টি ও সমষ্টির দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক

হেগেলের চিন্তায় ব্যক্তির স্থান

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রদর্শনে ব্যক্তির স্থান (Place of Individual) নির্ণয় করতে হলে তাঁর ‘পরম ভাববাদী’ (Absolute Idealism) রাষ্ট্রতত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করা প্রয়োজন। হেগেলের মতে, রাষ্ট্র কেবল কতগুলো ব্যক্তির সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সত্তা। এই তাত্ত্বিক কাঠামোতে ব্যক্তি তার বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে … Read more

হেগেলীয় রাজনৈতিক কাঠামো: সংবিধান, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের জৈব ঐক্য

সংবিধান

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রদর্শনে সংবিধান, সার্বভৌমত্ব এবং সরকারের ধারণা (ইংরেজি: Hegel on constitution, sovereignty and government) কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং এগুলো বিশ্ব-আত্মার (World-Spirit) যৌক্তিক বিবর্তনের অনিবার্য পর্যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাকৃত আইন (Natural Law) এবং অবাধ বাণিজ্যনীতির (Laissez-faire) প্রেক্ষাপটে হেগেল এক নতুন ধারার ভাববাদী দর্শনের অবতারণা করেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র হলো একটি ‘আঙ্গিক … Read more

হেগেলীয় স্বাধীনতা তত্ত্ব: ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক সংহতির নৈতিক রূপায়ণ

স্বাধীনতা

জর্জ উইলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারণা (Hegel’s concept of freedom) প্রচলিত লিবারেল বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ যেখানে স্বাধীনতাকে ব্যক্তির খেয়ালখুশি বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপহীনতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, হেগেল সেখানে একে একটি গভীর নৈতিক ও সামষ্টিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। তাঁর দর্শনে প্রকৃত স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন আধিপত্য নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের বৃহত্তর … Read more