মার্কসবাদ নামের বই লেখা হয়েছে বিপ্লবী বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরতে

মার্কসবাদ নামের একটি বই আমি, অনুপ সাদি, লিখেছিলাম যেটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। বইটি লেখার কারণ ছিলো বেশ কিছু। সেসব আলোচনা এখানে সংক্ষেপে করা হলো। মার্কসবাদ ও তৎসম্পর্কিত বিষয়ে বাংলা ভাষায় বই লেখা ও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি। সম্ভবত প্রথমটি লিখেছেন দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, বইটির নাম মার্ক্সবাদ। কতসালে প্রকাশিত তা আমি জানতে পারিনি। অনুষ্টুপ সংস্করণ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। এই বইটিতে মার্কসবাদের ব্যাপারে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নেই।

সমীরণ মজুমদার লিখিত মার্ক্সবাদ, বাস্তবে ও মননে প্রকাশিত হয় বাংলা ১৪০২-এ। এই বইটিতেই প্রথম মার্কসবাদের তাত্ত্বিক দিক বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়। কিন্তু বইটির প্রায় সব উদ্ধৃতিই থেকে যায় ইংরেজিতে। ফলে সাধারণ পাঠকদের কাছে বইটি দুর্বোধ্যই থেকে যায়। আমি আমার মার্কসবাদ বইটিতে এই বই থেকে যথেষ্ট সাহায্য গ্রহণ করি।

হারুন রশীদের মার্কসীয় দর্শন প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। এই বইটি মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও সিলেবাসের দিকে নজর দিয়ে লেখা। যদিও বইটি নেতাকর্মীগণ পড়লে উপকৃত হবেন।

সুজিত সেনের লিখিত মার্কসবাদ তাত্ত্বিক রূপরেখা নামের বই প্রকাশিত হয় জুন, ২০০৯ সালে যেটি মূলত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য লেখা। এটি রাজনৈতিক কর্মীদের পড়ার কোনো দরকার নেই।

হারিয়ে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশন থেকে বের হয়েছিল ভ. বুজুয়েভ ও ভ. গরোদনভ রচিত পকেট সাইজের বই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ যা অনেকেই পড়েছেন এবং দেখেছেন। এই বইতে মার্কসবাদের চেয়ে লেনিনবাদের কথাই বেশি আছে।

মধুসূদন চক্রবর্তী লেখেন ১৯৭১ সালে মার্কসবাদ জানব নামে এক বই। এই বইটি মূলত পুঁজিবাদ সম্পর্কে মার্কসের মূল্যায়নের এক সংক্ষিপ্ত রূপ। যদিও অন্যান্য চার-পাঁচটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

আরো পড়ুন:  আধুনিক মানুষের ধারাবাহিক গল্প বাঙালির ব্যর্থতার ইতিহাসকে তুলে ধরে

শোভনলাল দত্তগুপ্ত ও উৎপল ঘোষের লিখিত মার্কসীয় সমাজতত্ত্ব প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। বইটিতে সমাজ, সমাজ বিকাশের ধারা এবং সমাজবিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা আছে। এটিও মূলত ছাত্রছাত্রীদের কথা বিবেচনা করেই লেখা। যদি নেতা-কর্মীরাও পড়েন তবে উপকৃত হবেন।

আখতার সোবহান খানের লেখা মার্কসবাদ ও ন্যায়পরতার ধারণা প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমী থেকে। কলকাতার এক সংশোধনবাদীর শিষ্যগণ সবসময় প্রচার দেন যে তাঁদের মৃত গোত্রাধিপতিটিই নাকি প্রথম মার্কসবাদে নৈতিকতাকে যুক্ত করেছেন। তাঁদের এই অপপ্রচার যে কত অসার তা এই বইটি ২০০৮ সালেই দেখিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও পার্থ ঘোষ লিখছেন মার্কসবাদের কথা প্রসঙ্গে যা একেবারেই সম্পাদনাহীন অগোছালো বই।

তাহলে এতগুলো বই থাকতে আমার আবার মার্কসবাদ লেখার প্রয়োজন হলো কেন। এর সহজ উত্তরটি হচ্ছে মার্কসবাদকে পুনরায় সেই উদ্দেশে দেখা যাতে মানুষগুলোকে বদলানো যায় আগামির লড়াকু লক্ষ্যে। সংশোধনবাদীরা যখন নিজেদেরকে মার্কসবাদী হিসেবে দশদিকে প্রচার করে যে তারাই সঠিক এবং সুকুমার রায়ের ছড়াকে তারা জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে ‘করে নাক ফোঁসফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস, খায় শুধু দুধভাত, নেই কোনো উৎপাত’ মার্কা দৈনন্দিনতায় আটকে রাখে তখন আবার মার্কসবাদীদের প্রয়োজন পড়ে মার্কসবাদের বিপ্লবী বৈশিষ্ট্যটিকে খুঁড়ে বের করে এনে বিপ্লবী জনগণের সম্মুখে হাজির করা। জয় হোক মার্কসবাদের।[১]

টিকা:

১. লেখাটি ২২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে লিখে ফেসবুকে পোস্ট করা হয় এবং সেদিনই রোদ্দুরে ডট কমে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে লেখাটি রোদ্দুরে ডট কমে “আবার কেন মার্কসবাদ বই?” শিরোনামে প্রকাশিত হয়, এবং সেখান থেকে ৩০ মার্চ ২০২১ পুনরায় ফুলকিবাজ ডট কমে প্রকাশিত হলো।

Leave a Comment

error: Content is protected !!