মার্কসবাদের তিনটি উপাদান প্রসঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা

মার্কসবাদের তিনটি উপাদান বা মার্কসবাদের তিনটি অঙ্গ (ইংরেজি: Three Components of Marxism) হচ্ছে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম এবং উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব। মার্কসবাদের তিনটি উৎস যথা ধ্রুপদী জার্মান দর্শন, ফরাসি কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্র এবং ইংরেজ রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র থেকে এই  তিনটি উপাদান বা অঙ্গের উদ্ভব ঘটেছে। ধ্রুপদী জার্মান দর্শন থেকে এর দার্শনিক উপাদান দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, ফরাসি কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্র থেকে এর রাজনৈতিক উপাদান শ্রেণিসংগ্রাম এবং ইংরেজ রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র থেকে এর অর্থনৈতিক উপাদান উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্বের উদ্ভব ঘটেছে।

তবে মার্কসবাদ এমন এক মতবাদ যা এখানে আলোচিত তিনটি উপাদান ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় ও মতবাদ নিয়ে আলোচনা করে। এখানে আমরা একটি প্রাথমিক আলোচনা করেই ইতি টানব।

মার্কসবাদের তিনটি উৎস ও তিনটি উপাদান প্রবন্ধে লেনিন সেসব লোকদের বিরোধিতা করেন যারা মার্কসবাদকে এক ধরনের ‘বিষাক্ত গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করেন। এইসব নিন্দা প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে, লেনিন সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে জোর দিয়েছিলেন যে মার্কসবাদ সমগ্র পূর্ব ইতিহাসের স্বাভাবিক ফলাফল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। লেনিন উক্ত প্রবন্ধে লিখেছেন,

‘গোষ্ঠীবাদ’ বলতে যদি বোঝায় একটি আত্মবদ্ধ, শিলীভূত মতবাদ, যার উদয় হয়েছে বিশ্বসভ্যতার বিকাশের রাজপথ থেকে বহু দূরে, তবে দর্শন এবং সামাজিক বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে অতি পরিষ্কার করে দেখা যায় যে, মার্কসবাদের মধ্যে তেমন কোনো কিছুই নেই।

লেনিন যুক্তি দেন যে মার্কসবাদ, বিপরীতে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে মানব চিন্তার উৎপাদিত সেরাটির প্রক্রিয়াকরণ, সমালোচনামূলক পুনর্ব্যাখ্যা এবং সৃজনশীল বিকাশের ফলে এটি সুসম্পূর্ণ ও সুসমঞ্জস মতবাদ, এর কাছ থেকে মানুষ একটি সামগ্রিক বিশ্বদৃষ্টি লাভ করে।

সোভিয়েত ইউনিয়নে, লেনিনের প্রবন্ধ “মার্কসবাদের তিনটি উৎস এবং তিনটি উপাদান” মার্কসবাদের সারমর্ম এবং উৎসের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে যা শুধুমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের জন্যই নয়, প্রবীণ ছাত্রদের জন্যও পড়া আবশ্যক ছিল। একটি নির্দিষ্ট উদ্ধৃতি: “কার্ল মার্কসের মতবাদ সর্বশক্তিমান; কারণ, তা সত্য। ” (রাশিয়ান: “Учение Маркса всесильно, потому что оно верно”), একটি নীতিবাক্য হিসাবে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রচার এবং শিক্ষামূলক সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

আরো পড়ুন:  হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি বা দ্বন্দ্ববাদ হচ্ছে বস্তু ও সমাজ সম্পর্কিত অভীক্ষার পদ্ধতি

অসামান্য ইংরেজ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ (১৭২৩-১৭৯০) এবং ডেভিড রিকার্ডো (১৭৭২-১৮২৩), যারা বুর্জোয়া সমাজের অর্থনৈতিক শারীরবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং মূল্যের শ্রম তত্ত্বকে প্রমাণ করেছিলেন, তাদের ধারণাগুলি মার্কস এবং এঙ্গেলসকে ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সামাজিক দর্শনকে বিবর্তিত হতে সাহায্য করেছিল।

তথ্যসূত্র

১. ভি আই লেনিন, মার্চ, ১৯১৩, মার্কসবাদের তিনটি উৎস ও তিনটি উপাদান, মার্কস-এঙ্গেলস-মার্কসবাদ, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো; ১৯৭৫।

Leave a Comment

error: Content is protected !!