হেগেলের সাথে সক্রেটিস, মার্কস ও এঙ্গেলসের দ্বন্দ্ববাদ বিষয়ক আলোচনা

দ্বন্দ্ববাদ বা দ্বান্দিকতাবাদ বা দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা (ইংরেজি: Comparative study of dialectical method) বলতে সক্রেটিস, হেগেল এবং মার্কস ও এঙ্গেলসের দ্বান্দ্বিকতা সম্পর্কিত বিকাশমান পদ্ধতির ধারাবাহিক আলোচনা বোঝায়। এই পদ্ধতির উদ্ভাবক হিসেবে সক্রেটিসের নাম ইতিহাসে চালু হয়ে আছে। এরপর দ্বন্দ্ববাদের বিকাশ ঘটান ফ্রিডরিখ হেগেল। হেগেলের দ্বন্দ্ববাদকে বিকশিত করেন কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস। আমরা নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

দর্শনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাস্তব সত্যের দ্বার উদ্ঘাটন করা। বস্তুর স্বরূপ, অস্তিত্ব, ভিত্তি, সারমর্ম ও উদ্দেশ্য আবিষ্কার করা। সত্তার স্বরূপ, উৎপত্তি ও পরিণতি জানতে সুনির্ধাারিত পদ্ধতিতে অগ্রসর হতে হয়। দ্বন্দ্ববাদী বা দ্বান্দ্বিকতাবাদীদের মতে, বিরোধী মতবাদের মাধ্যমে অগ্রসর হয়ে পূর্ণতর সত্যের অনুসন্ধান পাওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক জগৎ, মানুষের সমাজ ও চিন্তার ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল বিজ্ঞান সমূহের পরিচয় জ্ঞাপক তত্ত্ব হচ্ছে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি। Dialectic  গ্রিক শব্দ Dialogue  থেকে উদ্ভূত। কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে, প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে সমাধান সন্ধানের পদ্ধতিকে গ্রিকে দার্শনিকেরা Dialogue বলতেন। প্রশ্ন  উত্তর বা পাল্টা প্রশ্নের মধ্যে একটা দ্বন্দ্বের অবস্থা বিরাজমান। দ্বন্দ্ববাদী পদ্ধতি উন্নততর জ্ঞানে উপনীত হয় বিরোধের মাধ্যমে। এই দ্বন্দ্ববাদী পদ্ধতির দুটি রূপ আছে। যথা

১. নঞর্থক বা ধ্বংসাত্মক এবং
২. সদর্থক বা গঠনমূলক দ্বন্দ্ববাদী পদ্ধতি।

নঞর্থক বা ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ববাদী পদ্ধতি

নঞর্থক বা ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ববাদ পদ্ধতি (ইংরেজি: Negative Dialectic Method) অনুসরণ ও আলোচনা করে গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস সোফিস্টদের মতবাদ খণ্ডন করেছিলেন। কথোপকথনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে অন্তর্বিরোধ (inconsistency) প্রমাণ করে নিজ মত স্থাপন করতেন। সক্রেটিস এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতেন বলে অনেকে এই পদ্ধতিকে সক্রেটিক পদ্ধতি বলেছেন। প্রকৃত পক্ষে এ পদ্ধতি খণ্ডিত পদ্ধতি, পরোক্ষভাবে এই পদ্ধতি হলো প্রমাণের পদ্ধতি। দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ মতবাদের একটি ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে অপরটি অবশ্যই সত্য হবে।    

সক্রেটিস প্রথমে প্রতিপক্ষকে তার মত প্রকাশ করতে বলতেন তারপর প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সেই মতের মধ্যে বিরোধ  দেখিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতেন। এই দ্বন্দ্ববাদের মাধ্যমে  সমাধানে পৌঁছার প্রক্রিয়াতে একটা গতির আভাস বিদ্যমান। বস্তুত, দ্বন্দ্ব, পরিবর্তন, গতি একথাগুলি পরস্পরের ইঙ্গিত সূচক। যেখানে দ্বন্দ্ব আছে সেখানে পরিবর্তন ও গতি আছে। প্রাচীন গ্রিসের একাধিক বস্তুবাদী দার্শনিক জগৎ সম্পর্কে তাঁদের ব্যাখ্যায় এই দ্বান্দ্বিক গতি ও পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেছেন। প্লেটো ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ভাববাদী দার্শনিক হলেও তাঁর সংলাপসমূহ দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির উত্তম দৃষ্টান্ত। তাঁর সংলাপে এই রূপ আভাস পাওয়া যায় যে চরম যে সত্তা তাকেও দ্বান্দ্বিকভাবে সম্যকরূপে উপলব্ধি করা যায়। 

আরো পড়ুন:  হেগেলীয় রাষ্ট্র হচ্ছে সর্বব্যাপী, সত্য, অভ্রান্ত, ঐশ্বরিক, জাতীয়, জৈব যুদ্ধংদেহী সত্তা

চরম সত্তা একদিক দিয়ে যেমন অস্তিত্বশীল অপরদিক দিয়ে তেমন অনস্তিত্বশীল, একদিকে সে যেমনটা তাই, তেমনি সে নিজে যা নয় তাও বটে। সে অপরিবর্তনীয় আবার পরিবর্তনীয়। যে কোনো অস্তিত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে অস্তিত্বের মূল বলে স্বীকৃতি দেয় এবং জগৎ সমাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ব্যাপকতর প্রয়োগ ঘটছে। আধুনিককালে মার্কসীয় দার্শনিকদের দ্বারাও তা সম্ভব হচ্ছে। সক্রেটিস ও প্লেটোর পদ্ধতি ডায়ালেকটিক আখ্যায় অভিহিত হলেও কান্ট ও হেগেল বিভিন্ন অর্থে এই শব্দ প্রয়োগ করেছেন। অতীন্দ্রিয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা করতে গেলে যে বুদ্ধি বিভ্রান্তি ও পরস্পর বিরোধিতার উদ্ভব হয় তার মূল কারণ অন্বেষণ করার নামই কান্টের মতে Dialectic বা অতিন্দ্রিয় বিষয়ক ভ্রান্তিবিজ্ঞান (Logic of transcendental illusion)। অপরদিকে  হেগেলের মতে পরস্পর বিরোধী ধারণাগুলির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া সম্ভবপর, তাই দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া (dialectic process)। এটিকে দর্শনে সদর্থক বা সংশ্লেষক বা গঠনমূলক দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি বলে।  

সদর্থক দ্বন্দ্ববাদ পদ্ধতি আলোচনা

জার্মান দার্শনিক হেগেল সদর্থক দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি (ইংরেজি: Positive Dialectic Method) দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতি হলো মিলনাত্মক পদ্ধতি। সেজন্য এই পদ্ধতিকে সংশ্লেষণাত্মক বা গঠনমূলক পদ্ধতিও বলা হয়। এই পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পরস্পর বিরোধী ধারণার বা মতবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। চিন্তার ক্ষেত্রে, সমাজের ক্ষেত্রে, রাজনীতির ক্ষেত্রে, প্রকৃতির ক্ষেত্রে হেগেল এই মতবাদকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন।

হেগেল মনে করেন বস্তুমাত্রই সমগ্র। তাই সমগ্রকে বাদ দিয়ে এর অংশগুলিকে ভাবা যায় না। তিনি বলেন বস্তুর মধ্যে আমরা যে বিভিন্ন রূপ ও গুণ দেখতে পাই, তারা আসলে বস্তু নয় অবভাস। তাদেরকে দেখা হয় সমগ্রের বিভিন্ন অংশ হিসেবে। আর অখণ্ড অভিজ্ঞতা কখনই পূর্ণাঙ্গের রূপ দিতে পারে না। তার জন্য মানুষের জ্ঞান দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গের দিকে অগ্রসর হয়। এই জগৎ হলো সেই পরম আনন্ত্য দ্রব্য বা স্রষ্টার বস্তুগত প্রকাশ মাত্র। সসীম মন সেই অসীম মনের প্রকাশ মাত্র। স্রষ্টা জগতকে ব্যক্ত বা বিকশিত করে এই আকার ও ক্যাটাগরি (Forms and categories) অনুসারে। যেমন  আমরা অভিজ্ঞতার জগতে প্রয়োগ করি আমাদের মনের ক্যাটাগরি আর জ্ঞানের মৌলিক ধারণা হলো যা স্বর্গীয় মনের ক্যাটাগরি। আর এই হিসেবে আমাদের জ্ঞানের মৌলিক বা অভিজ্ঞতাপূর্ব ধারণা শুধু বস্তুর রূপ জগতেই ব্যবহৃত হয় না, বরং এ জগৎ ছাড়াও তথাকথিত অতীন্দ্রিয় বা সত্তার জগতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই হেগেলের মতে যা বাস্তব তাই বৌদ্ধিক এবং যা বৌদ্ধিক তাই বাস্তব। চিন্তার মৌলিক ধারণা বা ক্যাটাগরি সত্তার মৌলিক ধারণা বা ক্যাটাগরি-এর অনুরূপ।

আরো পড়ুন:  দর্শনের বিষয়বস্তু হচ্ছে অধিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব ও মূল্যবিদ্যার বিভিন্ন শাখা

হেগেলের মতে চিন্তা (Thought) বা বুদ্ধি (reason) ও সত্তা (reality) উভয়েই গতিশীল। চিন্তা বা বুদ্ধির একটা দ্বান্দ্বিক গতি আছে। দ্বান্দ্বিক গতিতে পরস্পর বিরোধী ধারণা বা চিন্তার মধ্যে বিশ্লেষণ (Thesis)  প্রতিবিশ্লেষণ (Antithesis) ও সংশ্লেষণের (Synthesis) এর মাধ্যমে একটা সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা চলে যা শেষ পর্যন্ত পরম ধারণা (Absolute idea) তে গিয়ে মত বিরোধের সমাপ্তি ঘটে, একটা চূড়ান্ত সমন্বয় সাধিত হয়। চিন্তা বা ধারণাই শুধু দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে এগিয়ে চলে না, বরং এই সত্তাও এই দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি অনুসারে নিজেকে ব্যক্ত বা প্রকাশিত করে।

দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

মার্কস এবং এঙ্গেলস দ্বান্দ্বিকতার পূর্ণতম ব্যাখ্যা হেগেলের দর্শন থেকে নিয়েছেন। তাঁদের  মতে প্রাচীন দর্শনের পর হেগেলই সুস্পষ্টভাবে দ্বন্দ্ববাদ বা দ্বান্দ্বিকতার নীতি প্রকাশ ও আলোচনা করেছেন। মার্কস এবং এঙ্গেলস হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ বা দ্বান্দ্বিক আলোচনা ও ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করলেও তাঁর দর্শনকে গ্রহণ করেননি। তাঁদের মতে হেগেল একদিকে যেমন দ্বান্দ্বিক গতিকে স্বীকার করেছেন অপরদিকে তেমনি চরম সত্তাকে ভাব বলে ব্যাখ্যা করেছেন। হেগেলের মতে বস্তু চরম ভাবের দ্বান্দ্বিক ক্রিয়া বিশেষ, বস্তু চরম সত্তা না। মার্কস ও এঙ্গেলস হেগেলের এই দ্বন্দ্ববাদকে তত্ত্বরূপে গ্রহণ করে ঘোষণা করেন যে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সর্বত্র যেমন ক্রিয়াশীল তেমনি চরম সত্তা হচ্ছে বস্তু, ভাব নয়। ভাব হচ্ছে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে ক্রিয়াশীল বস্তুরই বিকাশ মাত্র।

মার্কসবাদে বস্তুর ক্রিয়াশীলতা এবং জ্ঞানের ক্রিয়াশীলতাকে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির কয়েকটি সূত্রে প্রকাশ করা যায়। বস্তুর মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ত বিদ্যমান। দ্বন্দ্ব থেকে গতির সঞ্চার। দ্বান্দ্বিক এবং গতিহীন কোনো সত্তার অস্তিত্ব নাই। মার্কস ও এঙ্গেলস দ্বান্দ্বিকতার  নীতি প্রয়োগ করে বস্তুর ক্ষেত্রে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, সমাজ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বস্তুবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ থেকে দাস সমাজ, দাস সমাজ থেকে সামন্তবাদী সমাজ এবং সামন্তবাদী সমাজ থেকে পুঁজিবাদী সমাজের উত্তরণকে মার্কসবাদীগণ ইতিহাসের ক্ষেত্রে দ্বান্দ্বিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন। এই নীতিকে কালক্রমে পুঁজিবাদী সমাজ নতুনতর সমাজতান্ত্রিক সমাজে রূপান্তরিত হবে বলেও মার্কস ও এঙ্গেলস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সোভিয়েত রাশিয়া এবং অন্য অনেক দেশে সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা এবং পৃথিবীর সর্বত্র  সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন এবং অপর দিকে তার যে তীব্র বিরোধিতা চলছে একে দ্বন্দ্ববাদী দর্শনের বাস্তব দৃষ্টান্ত বলে গণ্য করা হয়।

সমালোচনা :

১. হেগেল তাঁর দ্বান্দ্বিক বা দ্বন্দ্ববাদ পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যাপকভাবে আলোচনা ও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু ভাববাদী ও অতীন্দ্রিয়বাদীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছে যে, আমার চিন্তার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি উপযোগী তা যে জীবনের এবং তত্ত্বের ক্ষেত্রেও একই ভাবে উপযোগী হবে এমন কথা বলা যায় না। সুতরাং এই পদ্ধতির সাহায্যে চিন্তার ক্রমবিকাশের জ্ঞান সম্ভব হলেও পরম সত্তার জ্ঞানও যে সম্ভব হবে এমন কথা বলা যায় না।

আরো পড়ুন:  হেগেলের রাষ্ট্রচিন্তার মূল্যায়ন হয়েছে দর্শন, জার্মান ভাববাদসহ বেশ কিছু বিষয়ে

২. অংশ নিয়ে যেসব মানুষ কথা বলতে চায়, যারা সমগ্র বিষয়ের ব্যাখ্যা চায় না তারা যুক্তি দেয় এই বলে যে, চিন্তার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি উপযোগী তাকে যদি অন্যান্য ক্ষেত্রেও জোর করে প্রয়োগ করা হয় অর্থাৎ সব কিছুর অগ্রগতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়, তাহলে জীবন ও জগতের এই বৈচিত্র্যকে যান্ত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। বস্তুত জীবনের এই বিভিন্ন প্রকাশকে কেবলমাত্র দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না।

৩. কাল্পনিক যুক্তিহীনেরা বলে যে, হেগেলের মতবাদের উপর ভিত্তি করে একথা বলা সুনির্দিষ্টভাবে সম্ভব নয় যে, আমাদের বুদ্ধির প্রকাশ ও পরিণতি যেভাবে ঘটে পরম তত্ত্বের প্রকাশ ও পরিণতি সেই ভাবে ঘটে।

৪. যারা কার্য-কারণ মানে না তারা বলে যে, আমাদের বুদ্ধি যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ করে যে সমস্ত জ্ঞানের আকার ও মৌলিক ধারণার মাধ্যমে তার প্রকাশের কথা হেগেল উল্লেখ করেছেন, সেই সুনির্দিষ্ট পথেই যে পরম তত্ত্বের বিকাশ ঘটবে একথা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কাজেই সেই পথে অগ্রসর হলে পরমাত্মার জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

৫. যারা বিচারবুদ্ধি ও বিবেক মানে না তারা বলে যে, বিচার বুদ্ধি দ্বারা পরম তত্ত্বের জ্ঞান লাভ করা যেতে পারে এ সম্পর্কে অনেক দার্শনিক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন আধ্যাত্মিক অনুভূতি বা তত্ত্বের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই তত্ত্বজ্ঞান লাভ করা সম্ভব।

৬. হেগেলের মতে পরস্পর বিরুদ্ধ ধারণাগুলি উচ্চতর ধারণার মধ্যে সংশ্লেষিত হয়। বস্তুবাদীদের মতে বস্তুই পরম তত্ত্ব। ভাববাদীদের মতে মন বা ভাবই পরম তত্ত্ব। যারা সহজ সরল জীবন ধারণ করে কোনো চিন্তাই করতে চায় না তারা বলে, কিন্তু এই পরস্পর বিরোধী ধারণার সমন্বয় কিভাবে সম্ভব তা বুঝে উঠা কঠিন।

তথ্যসূত্র

১. মো. আবদুল ওদুদ (১৪ এপ্রিল ২০১৪)। “জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিক হেগেল”। রাষ্ট্রদর্শন (২ সংস্করণ)। ঢাকা: মনন পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ৩৭৭-৩৭৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!