সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ বা সাহিত্যরীতি (যাকে ইংরেজিতে Literary Genre বলা হয়) হলো সাহিত্যিক সৃষ্টিসমূহকে সুনির্দিষ্ট কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করার একটি পদ্ধতিগত বিষয়শ্রেণি। সাহিত্যের এই প্রকরণগুলো মূলত রচনার শৈল্পিক কৌশল, বর্ণনার সুর বা মেজাজ, মূল বিষয়বস্তু কিংবা রচনার বিস্তৃতি বা দৈর্ঘ্যের (বিশেষত কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়ে থাকে। তাত্ত্বিকভাবে এই ধারাগুলো সাধারণত কিছু বিমূর্ত ও ব্যাপক আলোচনা থেকে উদ্ভূত হয়, যা পরবর্তীকালে আরও সূক্ষ্ম ও সুনির্দিষ্ট শৈল্পিক পার্থক্যের মাধ্যমে বিভিন্ন উপ-বিভাগে বিভক্ত হয়। উল্লেখ্য যে, সাহিত্যের এই বিভাগ বা রীতির মধ্যকার সীমারেখাগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং শিথিলভাবে সংজ্ঞায়িত। সাহিত্যিক ধারার এই নিয়মাবলি স্থির কোনো বিষয় নয়; বরং যুগের চাহিদা এবং চিন্তাধারার পরিবর্তনের সাথে সাথে এগুলো প্রতিনিয়ত বিবর্তিত, পরিমার্জিত এবং পুনর্বিন্যাসিত হতে থাকে।
সাহিত্যের সংজ্ঞা ও শিল্পতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বসাহিত্যের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে ‘Literature’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে আমরা ‘সাহিত্য’ কথাটি ব্যবহার করি। তবে সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপ কেবল ভাষাগত আক্ষরিক অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যখন কোনো লেখকের অন্তরের গভীর আবেগ, জীবনবোধ এবং সৃজনশীল চিন্তা ভাষার শৈল্পিক বুননে আত্মপ্রকাশ করে, তখনই তা সার্থক সাহিত্যে রূপান্তরিত হয়। বিশ্বের প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিকগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্যের সংজ্ঞায়ন করলেও একটি মৌলিক সত্যে তাঁরা একমত—সাহিত্য হলো মানবসত্তার এক অনন্য শিল্পিত সৃষ্টি। আমাদের যাপিত জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, পারিপার্শ্বিক জগতের বস্তুগত উপাদান এবং লৌকিক ঘটনাপ্রবাহ সাহিত্যের প্রধান উৎস হতে পারে; কিন্তু সাহিত্য সেই স্থূল বাস্তবতা বা দৈনন্দিনতার ঊর্ধ্বে এক চিরস্থায়ী ও বিশ্বজনীন রূপ ধারণ করে।
ইতিহাসের সাথে সাহিত্যের একটি মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতিহাসে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ বা তথ্যগত সত্যের প্রাধান্য থাকে, কিন্তু সেখানে অনুভূতির গভীরতা বা শিল্পের ব্যঞ্জনা গৌণ। অন্যদিকে, মানুষ তার বস্তুগত প্রয়োজনে অট্টালিকা, যানবাহন বা নানা আসবাব নির্মাণ করে, যা কেবল বাহ্যিক ও বৈষয়িক অভাব পূরণ করে। কিন্তু সাহিত্য এই সব দৃশ্যমান ও বস্তুগত অনুষঙ্গকেও লেখকের কল্পনাপ্রসূত মাধুর্য, সৃজনশীল মনন এবং সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতার স্পর্শে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই শৈল্পিক স্পর্শই একজন পাঠককে বারবার মুগ্ধ ও তৃপ্ত করে। তথ্যের শুষ্ক বিবরণ মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হলেও, সাহিত্যের শিল্পগুণ মানুষের গূঢ়তম আবেগ ও কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করতে সক্ষম। পরিশেষে, সাহিত্যের গ্রহণযোগ্যতা তার বিষয়বস্তুর চেয়েও বেশি নির্ভর করে তার নান্দনিক ও শিল্পগত (Artistic) সৌন্দর্যের ওপর।
সাহিত্যের স্বরূপ: ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
সাহিত্য একটি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময় ধারণা, যার স্বরূপের বহুমুখিতা এর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিরূপণের ক্ষেত্রে প্রায়শই তাত্ত্বিক জটিলতার সৃষ্টি করে। সৃষ্টির আদিম লগ্ন থেকেই মানুষ কেবল শারীরিকভাবেই স্বতন্ত্র নয়, বরং তাদের আবেগ, মননশীলতা এবং কল্পনাপ্রসূত শক্তির বিচারেও প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। সাহিত্যিক বা সাহিত্য-স্রষ্টাও মূলত একজন মানুষ; তবে সাধারণ মানুষের তুলনায় তাঁর অনুভূতিপ্রবণতা, সংবেদনশীলতা এবং সৃজনশীল চিন্তাচেতনা বহুগুণে প্রখর ও অগ্রসর। এই বিশেষ গুণাবলির কারণেই সাহিত্যিকদের সমাজের ‘অগ্রসর চেতনার প্রতিভূ’ বা দর্পণ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁদের সৃষ্টিতে অতীত স্মৃতি, অর্জিত জ্ঞান এবং সমকালীন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, একজন সার্থক সাহিত্যিকের মূল লক্ষ্য থাকে বর্তমানের গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা অনাগত সময়কে স্পর্শ করা।
নিজের অন্তরের গূঢ়তম ভাব বা মনের কথা অন্যের কাছে ব্যক্ত করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা মানুষের এক মৌলিক ও সহজাত প্রবৃত্তি। এই চিরন্তন প্রকাশভঙ্গিই মানুষকে সমাজবদ্ধ হতে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। একজন সাহিত্য-স্রষ্টা তাঁর এই সহজাত প্রবৃত্তিকেই শিল্পের আধারে রূপান্তর করেন। তিনি যখন তাঁর ব্যক্তিগত অনুভব, জীবনদর্শন এবং কল্পনাকে শব্দের কারুকাজে ফুটিয়ে তোলেন, তখন তা কেবল তাঁর একার থাকে না, বরং তা বিশ্বজনীন সাহিত্যে উন্নীত হয়। মূলত, লেখকের অন্তর্গত সত্তার এই শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশই সাহিত্যের প্রাণশক্তি, যা সমাজকে নতুন দিশা দেখায় এবং মানুষের আত্মিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্বের ভিত্তি: অ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্র
পাশ্চাত্য সাহিত্যের ধ্রুপদী শ্রেণিবিভাগ বা সাহিত্যরীতি (Literary Genre) বিশ্লেষণের আদি ও প্রধান উৎস হিসেবে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের চিন্তাধারা সর্বজনস্বীকৃত। বর্তমানকালের অধিকাংশ সাহিত্যিক প্রকরণ বা ধারার যে শ্রেণিবিন্যাস আমরা দেখি, তার তাত্ত্বিক ভিত্তি মূলত অ্যারিস্টটলের কালজয়ী দুটি গ্রন্থ—‘কাব্যতত্ত্ব’ (Poetics) এবং ‘অলঙ্কারশাস্ত্র’ (Rhetoric)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই গ্রন্থ দুটিতে তিনি সাহিত্যকে কেবল সৃজনশীল অভিব্যক্তি হিসেবেই দেখেননি, বরং তাকে নির্দিষ্ট কাঠামোগত বিন্যাসে বিভক্ত করার বৈজ্ঞানিক ও নান্দনিক পথপ্রদর্শন করেছেন।
অ্যারিস্টটল তাঁর ‘কাব্যতত্ত্ব’ গ্রন্থে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে মহাকাব্য (Epic), ট্র্যাজেডি (Tragedy) এবং কমেডি (Comedy)-র মতো ধ্রুপদী ধারাগুলোর স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্যের প্রতিটি শাখার নিজস্ব উদ্দেশ্য, শৈলী এবং বিশেষায়িত উপাদান থাকা প্রয়োজন। তিনি অনুকরণ তত্ত্ব (Mimesis) এবং ক্যাথারসিস (Catharsis)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো প্রবর্তনের মাধ্যমে সাহিত্য সমালোচনার একটি স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করে গেছেন। যুগ যুগ ধরে সাহিত্যিক রীতিনীতির বিবর্তন ঘটলেও, অ্যারিস্টটলের এই ধ্রুপদী শ্রেণিবিভাগ আজও সাহিত্যতত্ত্বের শিক্ষার্থীদের জন্য মৌলিক পাঠ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর প্রবর্তিত এই শৃঙ্খলা ও বিভাজনই আধুনিক সাহিত্য ধারার উদ্ভব ও বিকাশে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
কবিতা
কবি তাঁর অনুভূতি, আবেগ ও কল্পনাকে অনিবার্য শব্দসমবায়ে উপস্থাপন করেন কবিতায়। আমরা দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য শব্দের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করি। অভিধানের ভেতরেও থরে থরে সাজানো থাকে অজস্র শব্দের কংকাল। কবির কল্পনা ও সৃজনীশক্তি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অসংখ্য শব্দের মধ্য থেকে বেছে নেয় অনিবার্য কিছু শব্দ। আর অভিধানের মৃত শব্দের স্তূপ থেকে কবিতার শরীরে স্থাপন করে শব্দের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করেন একজন কবি। এভাবেই মানুষের বস্তুময় জীবনের অকুস্থলে মন ও কল্পনার এক ভাবময় জগৎ সৃষ্টি করেন কবি। কবিতায় কবি এবং পাঠকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কিছু অনিবার্য, প্রাণময় শব্দ।
নাটক
নাটকের উপাদানের পরিসর কবিতার তুলনায় ব্যাপক। নাট্যকার, চরিত্র বা অভিনেতা, মঞ্চ এবং দর্শক বা শ্রোতার সমবায়ে নাটকের সৃষ্টি। সাহিত্যের অন্যান্য শাখার মতো নাটকের উপাদানও জীবন থেকে গৃহীত হয়। মানুষের জীবন, তার স্বভাব, পরিপার্শ্ব, সমাজ এমনকি রাজনীতি – প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাটকের উপাদান কিংবা নাটকীয়তা বিদ্যমান। নাট্যকার সে-সব ক্ষেত্র থেকেই আহরণ করেন নাটকের উপাদান। কিন্তু মনে রাখতে হবে নাটকীয় উপাদান কোনো নাটকের সার্থকতার মানদণ্ড নয়। নাটকের আঙ্গিক বা রীতির অনুশাসন সাহিত্যের অন্যান্য রূপ বা আঙ্গিক অপেক্ষা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণপ্রবণ। গল্প, কবিতা, কিংবা উপন্যাস মানুষ একা কিংবা সম্মিলিতভাবে পাঠ ও উপভোগ করতে পারে। কিন্তু নাটক উপভোগের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, সময় এবং সমষ্টিগত উপস্থিতির প্রয়োজন। এ-কারণে নাটকের গঠনকৌশল সুনিরূপিত, কঠোর ও সতর্ক। নাটক নিয়মের অনুসারী — যার সঙ্গে রয়েছে মঞ্চ এবং অভিনয়ের সম্পর্ক। Performing Art বা প্রয়োগ-সাপেক্ষ শিল্প হিসেবে নাটক একটা স্বতন্ত্র রূপ ও রীতির অনুসারী।
উপন্যাস
বর্তমান কালে সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় আঙ্গিক হলো উপন্যাস। এর কারণ কেবল উপন্যাসের গঠন বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত নয়, সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ অন্য সব শাখার কোনো-না-কোনো বৈশিষ্ট্যের একত্র মিলনও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রেখেছে। গল্পের বর্ণনাধর্মিতা যেমন উপন্যাসে বিদ্যমান, তেমনি রয়েছে কবিতার অনয়তা। নাটকের আকস্মিকতা, সংলাপ, জীবনের আকর্ষণীয় মুহূর্তের নাটকীয় উপস্থাপনও উপন্যাসের শিল্পস্বভাবের অংশ। আবার মননশীল প্রবন্ধের বিশ্লেষণ-ধর্মিতা ও জটিল মানব-অস্তিত্ব ও তার স্বরূপ উন্মোচনের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। বাস্তব পৃথিবীর ঘটনা, চরিত্র, জীবনের বিচিত্র রূপের বিন্যাস ঔপন্যাসিকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রূপায়িত হয় উপন্যাসে। উপন্যাসের উদ্ভব আধুনিক নাগরিক সভ্যতার উদ্ভব ও বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আধুনিক জীবনের জটিল, দ্বন্দময় ও বহুমুখী সত্য রূপদানের প্রয়োজন-চেতনা থেকে উপন্যাসের সৃষ্টি। যে কারণে উপন্যাসের সংজ্ঞা নির্ণয় যথেষ্ট কঠিন। প্রতিটি উপন্যাসই বিষয়বস্তু ও শিল্পস্বাতন্ত্রে অন্য উপন্যাস থেকে পৃথক। তবুও ঘটনাংশ বা Plot নির্বাচন, চরিত্রসৃষ্টির কৌশল, ঔপন্যাসিকের জীবন দৃষ্টির মৌলিকত্ব, জীবন সম্পর্কে একটি দর্শন সন্ধানের ঐকান্তিক আগ্রহ উপন্যাসকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে।
গল্প
গল্প বলা এবং শোনা মানুষের চিরকালীন প্রবণতা হওয়া সত্ত্বেও ছোটগল্পের সৃষ্টি সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ বা সাহিত্য রীতির অন্যান্য শাখা অপেক্ষা বেশ পরে। উনবিংশ শতাব্দীতে উপন্যাসে আমরা জীবনের যে বিস্তৃত রূপের প্রতিফলন দেখি, আঙ্গিক-বৈশিষ্ট্যের কারণেই ছোটগল্পে তা সম্ভব নয়। জীবনের বহুমুখী সত্য উপন্যাসের উপজীব্য। আর ছোটগল্পে বিধৃত হয় জীবনের একান্ত গভীর কোনো একটি অনিবার্য প্রসঙ্গ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ছোটগল্পের জীবন খণ্ডিত, অপূর্ণ। উপন্যাসকে আমরা তুলনা করতে পারি মানুষের সমগ্র জীবনের সাথে, যেখানে অসংখ্য ঘটনা, অভিজ্ঞতা, সংঘাত ও সংগ্রামের সমাবেশ। আর ছোটগল্প সেই বিশাল জীবনের একটি অংশ – যারও পূর্ণতা আছে, যার মধ্য দিয়েও জীবনের কোনো একটি সত্যের সমগ্রতা অনুধাবন করা যায়। এজন্যেই বলা হয় , উপন্যাসে আমরা সন্ধান করি জীবনের সম্পূর্ণতা (Entirety) আর ছোটগল্পে সমগ্রতা (Totality)।
প্রবন্ধ
প্রবন্ধ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি কোনো সংক্ষিপ্ত গদ্য-রচনা, যা নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপন করে থাকে। কখনো কখনো বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করে আবার কখনো-বা বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাঠককে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহায়তা করে। কবিতা, নাটক, গল্প, কিংবা উপন্যাসকে বলা হয় সৃজনশীল সাহিত্যরূপ। আর প্রবন্ধের উপকরণ ও প্রকরণের বৈশিষ্ট্য সৃজনশীলতার স্বভাবধর্ম থেকে দূরবর্তী। প্রবন্ধের বিষয় হতে পারে সাহিত্য, সমাজ, সংস্কৃতি কিংবা রাজনীতি। ইংরেজিতে যাকে আমরা Essay বলি প্রবন্ধ অনেকটা তার সমধর্মী। প্রবন্ধ সাহিত্যের উদ্ভবের যুগে মননশীল গদ্যকার এক ধরনের ব্যাখ্যানমূলক, বিতর্কমূলক ও বর্ণনামূলক রচনার সূত্রপাত করেন, যাকে বলা হতো ‘প্রসক্স’। রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ মনীষী তাঁদের প্রসক্সসমূহে সমাজজীবনের বিচিত্র প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস-বিশ্লেষণও রামগতি ন্যায়রত্ন ‘প্রসক্স’-এর রূপ বা Form কেই গ্রহণ করেছিলেন।
প্রবন্ধকার আলোচ্য বিষয়ের ওপর নিরাসক্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যুক্তিশৃঙ্খলায় বিষয় বিশ্লেষণ করেন। ফলে, আধুনিক চিন্তাশীল বিশ্বে প্রবন্ধের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবন্ধকার সাহিত্যের বিভিন্ন রূপকে যেমন বিশ্লেষণ করেন, তেমনি শিল্প ও জীবনের বিচিত্র প্রসঙ্গকে অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেন।
উপরের আলোচনা থেকে একটি বিষয় সুস্পষ্ট; তা হলো সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ বা প্রতিটি ধরন বা আঙ্গিকেরই বিষয়বস্তু মানুষের বহুধাবিস্তৃত জীবন। কিন্তু প্রকরণের ধর্ম সেই মানবজীবন-সত্যকেই স্বতন্ত্র রূপ ও আঙ্গিকে বিন্যস্ত করে। কবিতা মূলত আত্মগত– মানুষের আবেগ-কল্পনা-অনুভূতির সূক্ষ্মতর বিন্যাস তার অন্বিষ্ট। নাটকে দেখবো নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চ ও দর্শক একটা সামবায়িক শিল্পক্ষেত্র রচনা করেছে। গল্প এবং উপন্যাস সাহিত্যের সকল আঙ্গিকের স্বভাব অন্তর্গত করে জীবনের ব্যাপক ও গভীর রূপের উন্মোচন-প্রয়াসী।
পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা কোর্সের পাঠক্রমে সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ বা ধরনের প্রতিটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের প্রধান প্রধান লেখকের রচিত কালজয়ী কবিতা, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের নির্বাচিত পাঠ থেকে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ধারণা দেওয়াই ফুলকিবাজের এই পাঠক্রম প্রণয়নের উদ্দেশ্য। স্বশিক্ষণে-আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত মূলপাঠ, তার উদ্দেশ্য, পাঠোত্তর মূল্যায়ন, চূড়ান্ত মূল্যায়ন, প্রশ্নোত্তরের নমুনা, টীকা প্রভৃতি থেকে প্রতিটি সাহিত্যশাখা পরিপূর্ণভাবে অনুধাবনের দিকনির্দেশনা পাবেন। সাহিত্যের যে কোনো রূপ বা আঙ্গিক বিচারের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত দুটি মানদণ্ড ধরে অগ্রসর হই:
এক : বিষয়বস্তু
দুই : শিল্পরূপ বা প্রকরণ
প্রসঙ্গ দুটি স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হলেও এ-দুয়ের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। শিল্পী বা সাহিত্যিক জীবনের বিচিত্র উৎস থেকে তাঁর অন্বিষ্ট সাহিত্যরূপের (Literary Form) উপকরণ আহরণ করেন। ব্যক্তির অস্তিত্বগত অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, আশা-আকাঙ্ক্ষা-ব্যর্থতা ও যন্ত্রণার বহুকৌণিক সত্যকেই মূলত লেখকের অবলম্বিত সাহিত্যরূপে স্থান দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে লেখক জীবনকে কিভাবে দেখেন এবং উপস্থাপন করেন সেটাই প্রধান বিবেচ্য। অভিন্ন উপকরণ নিয়ে একাধিক লেখক সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু বিষয়চেতনা ও শিল্পরূপের ভিন্নতা প্রত্যেক লেখকের সৃষ্টিকেই স্বতন্ত্র করে তোলে। যেমন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে আমাদের সাহিত্যিকরা অসংখ্য কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস কিংবা প্রবন্ধ রচনা করেছেন। উপকরণ অভিন্ন হলেও লেখকের চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি, উপস্থাপনরীতি প্রত্যেক সৃষ্টিকেই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে। ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত হাসান হাফিজুর রহমানের ‘অমর একুশে’ কবিতা এ-বিষয়ক অসংখ্য কবিতার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। কবির দেশপ্রেম, ভাষা-শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তৎকালীন স্বৈরশাসকের প্রতি তীব্র ঘৃণা কবিতাটির বিষয়বস্তুকে অসাধারণত্ব দান করেছে। কবিতাটির ভাষা, শব্দব্যবহার ও চিত্ররচনায় বিষয়বস্তু প্রকাশের উপযোগী অনিবার্যতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে ক্রোধ ও সংগ্রামী চেতনা প্রকাশিত ,সেখানকার ভাষা নিরাবেগ, তৎসম শব্দবহুল এবং তীক্ষ্ম। আবার স্বজন হারানোর বেদনাময় ভারাক্রান্ত অশ্রুসিক্ত চেতনার প্রকাশ ঘটেছে সরল-সহজ শব্দসমবায়ে, মাতৃ-মমতার উপযোগী সহজাত ভাষার বিন্যাসে।
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের উপাদান বা উপকরণ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে একাধিক রচনা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মুনীর চৌধুরীর নাটকটির অভিনবত্ব এর বিষয়চেতনা। যুদ্ধের ঘটনাকে নাট্যকার মানবীয় প্রেম ও যুদ্ধবিরোধী শান্তি কামী আকাঙ্ক্ষার বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা’র উপকরণ নর-নারীর প্রেমসম্পর্ক। উপন্যাসে বহুল ব্যবহৃত এই সম্পর্ককে রবীন্দ্রনাথ মানব প্রেমের এক চিরায়ত বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছেন। যে প্রেম প্রাপ্তির সীমায় বন্দি, তা ক্ষণিক ও ভঙ্গুর — সংকীর্ণ চাওয়াপাওয়ার সীমামুক্ত প্রেম মানবিক চেতনাকে করে তোলে অনন্তমুখী। সময়ের চলমানতায় সে-প্রেম চিরকালের মানবমানবীর।
সাহিত্যের বিভিন্ন আঙ্গিকে বিধৃত বিষয়বস্তুকে অনিবার্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হলে, লেখককে সন্ধান করতে হয় যথার্থ প্রকরণ বা শিল্পরূপ। তা না হলে সাহিত্য কেবল বিষয়ের বর্ণনায় পরিণত হবে। ইতিহাসের ঘটনা বর্ণনা-প্রধান বলেই তার আবেদন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ‘অমর একুশে’ কবিতা হয়ে-ওঠার কারণ ইতিহাসের ঘটনার অন্তঃসারকে কবি অনিবার্য শিল্পপ্রকরণে উন্নীত করেছেন। রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের ক্ষেত্রেও এ-কথা প্রযোজ্য।
সাহিত্যের বিষয়বস্তু (Content) ও আঙ্গিক (Form) অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কযুক্ত। যে-কারণে বিষয়বস্তু প্রকাশ-উপযোগী আঙ্গিক সৃষ্টিতে ব্যর্থ হলে সে-সাহিত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ কবিতায় যে চলমান জীবনসত্যের বিন্যাস ঘটেছে, এর শব্দব্যবহার ও ছন্দে সেই গতি বা প্রবহমানতাকেই অনিবার্যতা দান করা হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার বিষয়বস্তু ভাষাপ্রেম ও দেশপ্রেম। কিন্তু সনেটের আঙ্গিক সৃষ্টিতে কবির সামগ্রিক সফলতা কবিতাটির আবেদনকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। এজন্যেই বলা যায়, বিষয়বস্তু যত গভীর ও ব্যাপক হোক না কেন আঙ্গিক, প্রকরণ বা শিল্পরূপের সম্পন্নতা ছাড়া কোনো সাহিত্য সৃষ্টিই সার্থকতা লাভ করতে পারে না।
সাহিত্য রীতির বস্তুসংক্ষেপ
সাহিত্য হচ্ছে মানুষের সৃষ্ট শিল্প। সাহিত্য ব্যাপক ও বিচিত্র একটি ধারণা। সাহিত্যের যে কোনো রূপ বা আঙ্গিক বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত বিষয়বস্তু এবং শিল্পরূপ বা প্রকরণ—এ দুটি মানদণ্ড বিবেচ্য। সাহিত্যের বিষয়বস্তু (Content) ও আঙ্গিক (Form) অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কযুক্ত। এই কারণে বিষয়বস্তু প্রকাশে উপযোগী আঙ্গিক সৃষ্টিতে ব্যর্থ হলে সে সাহিত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সাহিত্যের প্রতিটি আঙ্গিকেরই বিষয়বস্তু মানুষের বহুধাবিস্তৃত জীবন। কিন্তু প্রকরণের ধর্ম সেই মানবজীবন-সত্যকেই স্বতন্ত্র রূপ ও আঙ্গিকে বিন্যস্ত করে। যেমন, কবিতায় মানুষের আবেগ-কল্পনা-অনুভূতির সূক্ষ্মতর বিন্যাস নিহিত থাকে। নাটকে দেখা যায়, নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চ ও দর্শক একটা সমবায়িক শিল্পক্ষেত্র রচনা করেছে। গল্প এবং উপন্যাস সাহিত্যের সকল অঙ্গিকের স্বভাব আত্মস্থ করে জীবনের ব্যাপক ও গভীররূপের উন্মোচন প্রয়াসী।
আরো পড়ুন
- বাংলা কবিতার সমৃদ্ধ ধারার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কালানুক্রমিক পরিবর্তন
- রবীন্দ্র সাহিত্যে প্রকৃতি প্রেম ও প্রকৃতিবাদ এবং বাঙলাদেশের পরিবেশ
- লু স্যুনের ছোটগল্প-এর চরিত্রগুলো সামন্তবাদের বিরুদ্ধে লড়ায় করেছে
- ছিন্নপত্র তুলে ধরে উনিশ শতকের বাঙলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন
- ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী পরিচয় ও জীবনবোধকে তুলে ধরে পত্রসাহিত্য ছিন্নপত্র
- পূর্ববঙ্গের পদ্মা তীরবর্তী প্রকৃতির চিত্র ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিন্নপত্রে
- ছিন্নপত্রে কবিত্ব হচ্ছে কবি রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক গদ্যের চিঠির সংকলন
- অভিবাসন-এর মাধ্যমে মানিক সমাজের অর্থনীতিকে তুলে ধরেছেন
- প্রহসন বা ফার্স হচ্ছে সমাজের খারাপ রীতি শোধনার্থে হাস্যরস প্রধান একাঙ্কিকা
- গীতিকা বা গাথা হচ্ছে লোকসাহিত্যের সর্বশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপবর্গ
- প্রবাদ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপলব্ধি করা সত্যকে মূর্তভাবে প্রকাশ করে
- ধাঁধা বা ধাঁধাঁ হচ্ছে একমাত্র ভাব বা বিষয়কে রূপকের দ্বারা প্রশ্নের আকারে প্রকাশ
- পুরাণ বা মিথ হচ্ছে লোক সাহিত্যের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকরণ
- লোকসাহিত্য বা মৌখিক সাহিত্য হচ্ছে এমন ধরনের সাহিত্য যা কথ্য বা গীত হয়
- কমেডি হচ্ছে প্রধানত নাটকের একটি ধরন যেখানে বিষয়বস্তু হাস্যরসাত্মক
- ছড়া হচ্ছে বিশেষ ধরনের ছন্দের ক্ষুদ্রাকার কবিতা বা পদ্য
- ছোটগল্প ও উপন্যাসের পার্থক্য ও তুলনামূলক আলোচনা কথাসাহিত্যের বিশ্লেষণ
- ছোটগল্পের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস শুরু ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে
- সংলাপ হচ্ছে সাহিত্যিক রচনায় দুটি চরিত্রের মধ্যকার কথোপকথন
- পাশ্চাত্যে ও ভারতে নাটকের ইতিহাস শুরু হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব সময়ে
- ট্রাজেডি হচ্ছে প্রধান চরিত্রের চরম বিপর্যয়ে পতিত হবার নাটক
- সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির লিখিত অথবা মুদ্রিত বিষয়
- মহাকাব্য জাতীয় বা বীরত্বব্যঞ্জক বিষয়ে বিশাল পটভূমিতে বিধৃত বর্ণনামূলক কাব্য
- ইংরেজি সাহিত্য ইংরেজি ভাষায় সপ্তম শতাব্দী থেকে অদ্যাবধি লিখিত সাহিত্য
- প্রবন্ধ সাধারণত এক টুকরা লেখা যা লেখকের নিজস্ব যুক্তি দেয়
- নাটক হচ্ছে কথাসাহিত্যের বিশেষ ধরন যা অভিনয়ের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়
- উপন্যাস সাধারণত গদ্য কথাসাহিত্যরূপে রচিত তুলনামূলক দীর্ঘ লেখা
- বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাস ও বিবর্তন: উদ্ভব থেকে আধুনিক কালের পূর্ণাঙ্গ আখ্যান
- ছোটগল্প হচ্ছে কথাসাহিত্য বা গদ্য-সাহিত্যের বিশেষ শাখা
- হাজার বছরের বাংলা কবিতা: প্রধান কবিদের জীবন ও শিল্পদর্শনের আলোকে আকর নিবন্ধ
- কবিতা শব্দের এবং ছন্দের আন্তঃব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একধরণের সাহিত্য
- সাহিত্যে রস হচ্ছে সাহিত্য পাঠের ফলে বিষয়ের অনুধাবনসূত্রে বহুবিধ ভাবের সৃষ্ট
- সাহিত্যের শৈলি হচ্ছে কোনো লেখকের দ্বারা কোনো গল্প লেখা অথবা বলার উপায়
- সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ: অ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব থেকে আধুনিক সাহিত্যরীতি
- সাহিত্যের স্বরূপ হচ্ছে নির্দিষ্ট সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন বা এ ধরনের লিখিত রচনার রূপ
তথ্যসূত্র:
১. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ সম্পাদিত, বাংলা ভাষা: সাহিত্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, সংশোধিত পুনর্মুদ্রণ ২০১৯, পৃষ্ঠা ১-৪।
রচনাকাল: ২৮-২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ময়মনসিংহ
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা উনিশটি। ২০০৪ সালে কবিতা গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠকের সামনে আবির্ভূত হন। ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘মার্কসবাদ’ তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে চিন্তাশীল গবেষণামূলক লেখা তাঁর আগ্রহের বিষয়।