‘অখণ্ড জীবনের পাঠ’ কবিতাগ্রন্থের আলোচনা

অখণ্ড জীবনের পাঠ নিতে ঢুকে পড়লাম সমাজ, প্রকৃতি, প্রাকৃত জনজীবন ও প্রকৃষ্ট পথের সন্ধানী কবি এনামূল হক পলাশের পাঠাগারে। আজন্মের কুঅভ্যাস ডুবে যাই পাঠাগারে ত্রিসন্ধ্যায়, যদি সে হয় জীবনের পাঠঘর। অখন্ড জীবনের পাঠ এক সমৃদ্ধ পাঠাগার। জীবনের অখন্ড কাব্যনাট্য। পাঠ করি ‘টাকার পাঠ’  টাকার মানদন্ডে পাপীষ্ট খুঁজি। ‘বাড়ির পাঠ’ এক যৌথ খামারের মন্ত্র।

‘গাছের পাঠ’ এখানে পারস্পরিক লেনদেনের পাঠ আছে। ‘পাহাড়ের পাঠ’ এ জগতের ভারসাম্য, মাটি, খনিজ আকড়, পাথরের ভাঁজে ভাঁজে সভ্যতা ফুল দেখি। ‘রাজার পাঠ’ খুবই চমৎকার। ‘একটি মঞ্চে একটিই সিংহাসন…….’ প্রতিটি মানুষের ভেতর এক রাজা বাস করে, জানেনই না তাদের রাজা খুঁটোটা কতটা নড়বড়ে।

‘আঁকতে চাওয়া দৃশ্যের পাঠ’ এ কবি আঁকছেন খন্ডিত সময়, খন্ড খন্ড নিয়েই পূর্ণতা। কবি তবু হতাশ: কারুকাজে লেপ্টে থাকে ভয়ানক কালিমা, নদীরা খন্ডিত হয়ে মরে যেতে থাকে। সীসা বাতাস বইতে পারেনা হৃদয়। কবি তবু অপেক্ষা করেন একটি অখন্ড দৃশ্যের পূর্ণতা দেবার।

আগুন? জল? নাকি মাটি? কোথায় ঠিকানা?
এইসব মিশে যাওয়ার খবর রাখেনা কেউ।’

প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট জীবন অখন্ড প্রকৃতিতেই মিশে যায়। এখানে আগুন, জল, মাটি দৃশ্যত খন্ডিত, তবে আলাদা কিছু নয়। পাটখড়ি জীবনে আমাদের ভবিতব্য এই যে শুধু অনন্ত প্রকৃতিতে লীন হওয়া।

‘তোমাদের জীবনের অন্তর্গত লড়াই
ভেতরের সকল সৌন্দর্য্য-প্রেম
প্রকৃতির অনন্ত চিন্তার বিচ্ছুরণ
অভিমানের সকল বর্ণমালা সহ
তোমাদের সকল উচ্চারণের নাম কবিতা।’

জীবন হলো শিল্পিত কবিতা। অজস্র সমোচ্চারিত কবিতাই জীবন।

“ছলে বলে কৌশলে
তুমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে উঠো
আসলে তুমি দায়িত্ব চাওনা
বরং চাও ক্ষমতার বেড়াজাল।”

এই কবিতায় বক্তব্য হলো দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার জন্য নানা ছল-বল অবলম্বন করলেও আসল কাজ হলো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করারই ঘৃণ্য প্রচেষ্টা।

ক্রমাগত পাঠ নিতে থাকি-ধর্মের পাঠ, কবিতার পাঠ, মর্যাদার পাঠ…..।

“হে পুত্র কন্যাগণ অনুভব করো
আমি মানে অনন্ত নিঃসঙ্গ সময়।
এই বিশ্ব একদিন তোমাদের পদতলে যাবে
অখন্ড অখণ্ড জীবন আমিত্ব বিহীন।’

পাঠের পর পাঠ, পিঠাপিঠি পাঠ। বই পোকাদের পাঠ ঘরেই বাস, পাঠ ঘরেই শ্বাস। অখন্ড জীবনের পাঠে শ্বাস নেই। আর অপেক্ষা করি একটি আমিত্ব বিহীন পৃথিবীর। অখণ্ড জীবনের পাঠ- এর লেখক কবি এনামূল হক পলাশের প্রথা বিরোধী পাঠশালা নতুন এক চিন্তার দিগন্ত খুলে দিবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

ঋত্বিক ঘটকের একটি তথ্যচিত্র দেখুন

আরো পড়ুন

০৩, ১২.২০২০; নেত্রকোনা

Leave a Comment