চিন্তা এবং চেতনার বিকাশের এই যুগে প্রাগ্রসর ও অগ্রবর্তী চিন্তাকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনন ও মগজ উচ্চতর স্তরে যাওয়াটাকে আমরা স্বাভাবিক মনে করি। পৃথিবীতে যেদিন আমি বা আমার শব্দটি উচ্চারিত হয়েছিল সেদিনই সময় বন্দী হয়ে গেলো একটি খাঁচায়। অবরুদ্ধ হয়ে গেল সময়। এই অবরুদ্ধ সময়ের বিপরীতে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে যায়। তারা ফাইট করে সেই সময়ের বিরুদ্ধে। আমাদের এই ভূখন্ডে দিন দিন আমিত্ববোধ এতোটাই প্রকট হয়ে যাচ্ছে যেখানে আমাদের মানুষ জন্মই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। যেখানে একটি মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠার কথা সেখানেই দাবড়ে বেড়াচ্ছে কঠিন অনুশাসনের মুগুর।
এই মুগুরকে কাচকলা দেখিয়ে প্রগতির পথে দাঁড়ায় আর ফাইট করে দোলন প্রভার মতো মানুষ। তিনি মানুষের মতো মাথা উঁচু করে হাটেন। আমাদের এই সংখ্যাটি মানুষ দোলন প্রভাকে নিয়ে। নারী কবি বা সাহসী নারী হিসেবে আমরা কারো মানব স্বত্তাকে খাটো করতে চাই না। দোলন প্রভা এক স্বপ্নের যৌথ খামারের বাসিন্দা। তার লেখা পড়লে আমরা অনুধাবন করতে পারি, তিনি আমার বা আমিত্বকে বিসর্জন দেয়ার চেতনা লালন করে জীবনের পথ পারি দিচ্ছেন। দোলন প্রভাকে পাঠ করলে আমরা দেখতে পাবো যে তিনি সংগঠন করেন, বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরমে কাজ করে কল্যাণমুলক কাজে ভুমিকা রাখেন। বিশেষ করে তিনি উইকিপিডিয়াতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংযোজন ও সম্পাদনা করে বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্যভান্ডারকে অবিরাম সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন। তার সামগ্রিক জীবন ও কর্ম মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি ভালো একজন নৃত্য শিল্পী। দোলন প্রভাকে নিয়ে অনেক লেখক এ সংখ্যায় লিখেছেন। সবার লেখা পাঠ করলে তার সম্পর্কে কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাঠক পেতে পারেন। এবার তিনি পঁয়ত্রিশ বছরে পা দিচ্ছেন। অন্তরাশ্রম সবসময় সুন্দর মানসিকতাগুলোকে ধারণ করে। আমরা দোলন প্রভার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তাকে নিয়ে একটি সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে আনন্দিত।
আরো পড়ুন
- দোলন প্রভার যৌথ খামার
- দোলন প্রভার কাছে আমার উইকি হাতেখড়ি
- প্রেম সঞ্চাৰিণী ময়ুৰাক্ষী দোলন প্রভা
- সেলেব্রেটেড উইকিমিডিয়ান দোলন প্রভা
- উইকিমিডিয়া মূলত জ্ঞান প্রচারক প্রকল্প যা অলাভজনক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত
- উইকি ওমেন ক্যাম্প ২০২৩ আমার কাজের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
- উইকি সম্মেলন ভারত ২০২৩-এ দোলন প্রভার অভিজ্ঞতা
- উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে দোলন প্রভার কাজের তালিকা
- দোলন প্রভার বাংলা উইকিপিডিয়া সম্পাদনা ও অন্যান্য কাজের অভিজ্ঞতা

এনামূল হক পলাশ কবি, লেখক এবং সংগঠক। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময় কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাথে যুক্ত থেকে সাংবাদিকতা করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে “অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চাই”, “জীবন এক মায়াবী ভ্রমণ”, “অন্ধ সময়ের ডানা”, “অন্তরাশ্রম”, “মেঘের সন্ন্যাস”, “পাপের শহরে”, “জল ও হিজল”। ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাদে চিরাম গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার বামনগাঁও গ্রামে। তিনি লেখাপড়া করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, সরকারী তিতুমীর কলেজ, নেত্রকোণা সরকারী কলেজ এবং গুরু দয়াল সরকারী কলেজে। ছাত্রাবস্থায় ১৯৯৮ সালে প্রগতিশীল বামপন্থী বিপ্লবী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কবি, লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীদের ব্যবহারের জন্য তিনি নেত্রকোনা শহরের মালনী এলাকায় গড়ে তুলেছেন অন্তরাশ্রম নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য। সেই সাথে তিনি “অন্তরাশ্রম” নামে একটি সাহিত্যের ছোট কাগজ প্রকাশ করেন।