দোলন প্রভা: নতুন সমাজ বিনির্মাণে এক প্রগতিশীল ও মানবিক সত্তার প্রতিকৃতি

চিন্তা ও চেতনার নিরন্তর বিবর্তনের এই যুগে আমরা সর্বদা প্রাগ্রসর ও অগ্রবর্তী জীবনদর্শনকে স্বাগত জানাই। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনন ও প্রজ্ঞা উচ্চতর স্তরে বিকশিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে যেদিন ‘আমি’ বা ‘আমার’ শব্দটির দম্ভ উচ্চারিত হয়েছিল, সেদিনই সময় এক সীমাবদ্ধ খাঁচায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আমাদের এই ভূখণ্ডে দিন দিন আমিত্ববোধ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এতটাই প্রকট হয়ে উঠছে যে, সেখানে মানুষের মানবিক সত্তা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। যেখানে একটি মুক্ত ও উদার সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেখানে আজ কঠিন অনুশাসনের মুগুর শাসন চালাচ্ছে।

এই মুগুরকে কাচকলা দেখিয়ে প্রগতির পথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দোলন প্রভার মতো মানুষেরা। তিনি মাথা উঁচু করে মানুষের মতো বাঁচার সাহস দেখান। ‘অন্তরাশ্রম’-এর এই বিশেষ সংখ্যাটি সেই মানুষ দোলন প্রভাকে নিয়ে। আমরা তাঁকে ‘নারী কবি’ বা ‘সাহসী নারী’—এমন কোনো বিশেষণে আবদ্ধ করে তাঁর বিশাল মানবসত্তাকে খাটো করতে চাই না।

দোলন প্রভা এক স্বপ্নের যৌথ খামারের বাসিন্দা। তাঁর লেখনী ও কাজ পাঠ করলে অনুধাবন করা যায় যে, তিনি ব্যক্তিস্বার্থ বা ‘আমিত্ব’ বিসর্জন দেওয়ার চেতনা লালন করে জীবনের পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি একাধারে দক্ষ সংগঠক এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয়। বিশেষ করে, বাংলা উইকিপিডিয়াতে তথ্য সংযোজন ও সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি আমাদের মাতৃভাষার জ্ঞানভাণ্ডারকে নিরলসভাবে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন। কেবল লেখক বা গবেষক হিসেবেই নয়, একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তাঁর শৈল্পিক পরিচয় উজ্জ্বল। তাঁর সামগ্রিক জীবন ও কর্ম মূলত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত।

এই বিশেষ সংখ্যায় দোলন প্রভার জীবন ও দর্শনের নানা দিক নিয়ে বিশিষ্ট লেখকেরা তাঁদের কলম ধরেছেন। তাঁদের লেখাগুলো পাঠ করলে পাঠক এই গুণী ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ও গভীর ধারণা পাবেন। জীবনের পঁয়ত্রিশতম বসন্তে পা রাখা এই সৃজনশীল মানুষের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে এই বিশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ করতে পেরে ‘অন্তরাশ্রম’ গর্বিত ও আনন্দিত।

আরো পড়ুন

🔗 সংশ্লিষ্ট পাঠ: চৌদ্দ জন লেখকের কলমে দোলন প্রভার মূল্যায়ন ও স্মৃতিচারণ 📝

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখাটি ৪ জানুয়ারি ২০২৪, স্থলপদ্ম, নাগরা, নেত্রকোনায় রচিত এবং অন্তরাশ্রম সংখ্যা ৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৪ দোলন প্রভা সংখ্যার সম্পাদকীয় হিসেবে প্রকাশিত। তবে লেখক পরবর্তীতে কিছুটা সংস্কার সাধন করেছেন।

Leave a Comment