সিসেরোর রাষ্ট্রদর্শন: প্রাকৃতিক আইন, মানবতাবাদ ও মানবিক দাসপ্রথা

প্রাচীন রোমান স্থাপত্যের প্রেক্ষাপটে দার্শনিক সিসেরো এবং তাঁর অনুসারীদের মাঝে প্রাকৃতিক আইন, মানবতাবাদ ও রোমান প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ ফুটে ওঠার একটি ঐতিহাসিক চিত্র।

বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জর্জ স্যাবাইনের মতে, মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো (ইংরেজি: Cicero; খ্রি. পৃ. ১০৬- ৭ ডিসেম্বর, ৪৩) ছিলেন ইতিহাসের প্রথম ‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রনীতির তাত্ত্বিক’। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার অমূল্য দলিল হলো তাঁর রচিত ‘দ্য রিপাবলিক’ (De Republica) এবং ‘দ্য লজ’ (De Legibus) গ্রন্থ দুটি। সিসেরোর রাষ্ট্রচিন্তায় আমরা মূলত প্লেটোর সেই কালজয়ী আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। তিনি তাঁর পূর্বসূরি প্লেটো ও পলিবিয়াসের … Read more

রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের রুশ সংস্করণের ভূমিকা

লেনিনের রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের রুশ সংস্করণের ভূমিকার বিশেষ ছবি।

প্রথম রুশ সংস্করণের ভূমিকা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক-রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই রাষ্ট্রের প্রশ্নটি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করছে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ফলে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদরূপে একচেটিয়া পুঁজিবাদের রূপান্তর প্রক্রিয়া অসাধারণ ত্বরান্বিত ও তীব্র হয়েছে। পুঁজিপতিদের সর্বশক্তিমান সঙ্ঘগুলির সংগে ক্রমাগতই নিবিড় হয়ে মিলিত রাষ্ট্র কর্তৃক মেহনতি জনগণের বিকট পীড়ন হয়ে উঠছে বিকটতর। অগ্রণী দেশগুলি পরিণত হচ্ছে — বলছি … Read more

প্রগতিশীলবাদ কী? সমাজবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের আলোকে প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা

অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বৈষম্যমূলক অতীত থেকে সমাজবিপ্লবের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল এবং সাম্যবাদী ভবিষ্যতের দিকে জনতার যাত্রার প্রতীকী চিত্র।

প্রগতিশীলবাদ বা প্রগতিশীলতা (Progressivism) হলো সমাজ পরিবর্তনের ধারায় অগ্রণী শ্রেণির এমন একটি শক্তিশালী আদর্শ, যা মূলত সমাজ সংস্কার বা বৈপ্লবিক রূপান্তরের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রগতি হলো একটি পরিশোধিত, উন্নত এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে ধারাবাহিকভাবে ধাবিত হওয়া। আধুনিক প্রেক্ষাপটে, প্রগতিশীলতা এমন একটি ধারণা যা বিশ্বাস করে যে—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সংগঠনের ক্রমাগত উৎকর্ষের ফলে মানব সভ্যতার সামগ্রিক বিকাশ … Read more

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা: বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ধারা

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভায় বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ধারা হিসেবে পরিচিত। এই প্রগতিশীল বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনটি মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের আমূল বিরোধিতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শ্রেণিশত্রু ও শোষক গোষ্ঠীর কবল থেকে এদেশের শোষিত জনগণের প্রকৃত ও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য একটি সামগ্রিক ‘নয়াগণতান্ত্রিক’ বিপ্লব সাধন অপরিহার্য। সংগঠনটি প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ … Read more

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা: একটি তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার তাত্ত্বিক বিবর্তনের একটি শিল্পসম্মত রূপায়ন: যেখানে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় স্থবিরতা থেকে আধুনিক সার্বভৌম রাষ্ট্র ও যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দর্শনের উত্তরণ চিত্রিত হয়েছে।

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা বা ‘Modern Political Thought’ মূলত চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দী-উত্তর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে উদ্ভূত এমন এক বৈপ্লবিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যা রাষ্ট্রকে ধর্মীয় ও যাজকীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক স্বতন্ত্র এবং পার্থিব সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপ্তি নয়, বরং এটি হলো রাজনৈতিক চিন্তার এক ‘প্যারাডাইম শিফট’ বা আমূল রূপান্তর। পাশ্চাত্যের … Read more

ভ্লাদিমির লেনিন-এর ঐতিহাসিক রেকর্ডকৃত ভাষণসমূহ: একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন

একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জনসভায় ভাষণরত ভ্লাদিমির লেনিন; পাশে একটি পুরনো গ্রামোফোন এবং মঞ্চের পেছনে বৈপ্লবিক বাংলা ও ইংরেজি ব্যানার সংবলিত একটি শৈল্পিক সাদাকালো চিত্র।

বিপ্লবী নেতা ভ্লাদিমির লেনিন ছিলেন এক অসাধারণ বাগ্মী, যাঁর কণ্ঠস্বর রুশ বিপ্লবের গতিপথ নির্ধারণে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিল। ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে লেনিন সাধারণ মানুষের কাছে বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে দিতে বেশ কিছু ভাষণ গ্রামোফোনে রেকর্ড করেছিলেন। এই নিবন্ধে সেই ঐতিহাসিক ভাষণগুলোর কালানুক্রমিক তালিকা এবং সেগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো। লেনিনের রেকর্ডকৃত ভাষণের কালানুক্রমিক তালিকা (১৯১৯-১৯২১) ১৯১৯ থেকে … Read more

ইহুদি নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে

১৯১৯ সালে ইহুদি-বিরোধী পোগ্রমের বিরুদ্ধে ভাষণরত ভি. আই. লেনিন; পেছনে উৎসুক জনতা এবং বৈপ্লবিক ব্যানার সংবলিত একটি ঐতিহাসিক সাদাকালো শৈল্পিক চিত্র।

ইহুদি বিদ্বেষ মানে হলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ছড়ানো। অভিশপ্ত জার শাসিত রাজতন্ত্র যখন তার শেষ দিনগুলো পার করছিল, তখন তারা অজ্ঞ শ্রমিক ও কৃষকদের ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। জার আমলের পুলিশ, জমিদার এবং পুঁজিবাদীদের সাথে জোট বেঁধে ইহুদিদের ওপর পোগ্রম১ সংগঠিত করেছিল। অভাবের তাড়নায় জর্জরিত শ্রমিক ও কৃষকদের ঘৃণা বা ক্ষোভকে আসল জায়গা … Read more

অবিলম্বে পৃথক ও রাজ্যগ্রাসী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের প্রশ্নে থিসিসের পরিশেষ

অবিলম্বে পৃথক ও রাজ্যগ্রাসী শান্তি চুক্তি

উপরোক্ত থিসিসগুলি আমি পড়ে শোনাই ১৯১৮ সালের ৮ই জানুয়ারি পার্টি কর্মীদের একটি ছোট ঘরোয়া সভায়। আলোচনায় উক্ত প্রশ্নে পার্টির তিনটি মত দেখা গেছে: সভার প্রায় অর্ধেক বিপ্লবী যুদ্ধের পক্ষে মত দেয় (এই দৃষ্টিভঙ্গিটাকে কখনো কখনো ‘মস্কোর’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, কেননা অন্য সংগঠনের আগে এটি প্রথমে আমাদের পার্টির মস্কো আঞ্চলিক ব্যুরোয় গৃহীত হয়); তারপর প্রায় … Read more

দুর্ভাগা শান্তি-সমস্যার ইতিহাস প্রসঙ্গে

দুর্ভাগা শান্তি-সমস্যা

অবশ্যই বলা যেতে পারে যে এখন ইতিহাস চর্চার সময় নয়। সত্যিই, একটা নির্দিষ্ট প্রশ্নের ক্ষেত্রে বর্তমানের সঙ্গে অতীতের একটা অবিচ্ছিন্ন, প্রত্যক্ষ ও ব্যবহারিক সংযোগ যদি না থাকে, তবে ও কথাটা খাটে। কিন্তু দুর্ভাগা শান্তির প্রশ্নটা, অতি দুঃসহ শান্তির প্রশ্নটা এমন জরুরি প্রশ্ন যে তার বিশদ আলোচনা দরকার। সেই জন্যই ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি আমাদের পার্টির … Read more

মার্কসবাদ এবং শোধনবাদ

মার্কসবাদ এবং শোধনবাদ

একটা সুপরিচিত প্রবাদ আছে যে, জ্যামিতির স্বতঃসিদ্ধ সত্যগুলি যদি মানুষের স্বার্থকে আঘাত করতো, তাহলে সেগুলিকে খণ্ডন করার জন্যও নিশ্চিতই প্রচেষ্টা নেয়া হতো। প্রাকৃতিক-ঐতিহাসিক যেসব তত্ত্ব ধর্মশাস্ত্রের পুরানো কুসংস্কারগুলোর সাথে সংঘাত সৃষ্টি করে তা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত সংগ্রামের উদ্রেক করেছিল, এবং এখনও তা করছে। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছুই নেই যে, যে-মার্কসীয় তত্ত্বমত আধুনিক সমাজের সবচেয়ে অগ্রবর্তী শ্রেণিকে … Read more

error: Content is protected !!