রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৫) — পরগাছা রাষ্ট্রের উচ্ছেদ

লেনিন এবং প্যারিস কমিউন গড়ারত শ্রমিকদের একটি লাল ও কালো রঙের বিপ্লবী পোস্টার ইলাস্ট্রেশন, যেখানে শ্রমের অর্থনৈতিক মুক্তির বাংলা উদ্ধৃতি রয়েছে।

আমরা আগেই মার্কসের সংশ্লিষ্ট কথাগুলি তুলে দিয়েছি, তার সম্পূরণ করা উচিত। মার্কস লেখেন, ‘….নতুন ঐতিহাসিক সৃষ্টির একটা সাধারণ ভাগ্য এই হয় যে, সমাজজীবনের সাবেকী এমনকি অপ্রচলিত যে রূপগুলোর সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলির কিছুটা সাদৃশ্য থাকে, তাদেরই সমগোত্রীয় বলে তাদের ধরা হয়। এইভাবে সাম্প্রতিক রাষ্ট্রযন্ত্রকে যা ভাঙছে (bricht — ভেঙে ফেলছে) সেই কমিউনকেও ধরা হলো মধ্যযুগীয় কমিউনের … Read more

রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৪) — জাতীয় ঐক্যের সংগঠন

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের আধুনিক ইলাস্ট্রেশন যেখানে 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব' বইয়ের উদ্ধৃতিসহ প্রলেতারীয় কমিউন গঠন এবং বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্র ধ্বংসের রূপক দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

‘…জাতীয় সংগঠনের যে সংক্ষিপ্ত রূপরেখাটাকে আরো বিকশিত করে তোলার সময় কমিউনের ছিল না, তার মধ্যেই সুস্পষ্ট করে বলা আছে যে কমিউনকেই হতে হবে… সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম গ্রামটিরও রাজনৈতিক রূপ…’ কমিউন থেকেই  নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল প্যারিসে ‘জাতীয় প্রতিনিধিমন্ডলীর’। ‘…কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অল্পসংখ্যক কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তখনো রয়ে গেল, সেগুলো খারিজ করার কথা ছিল না—ইচ্ছাকৃত জালিয়াতিতে … Read more

রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (৩) — পার্লামেন্ট প্রথার বিলোপ

পার্লামেন্ট প্রথার বিলোপ সম্পর্কে ভ্লাদিমির ইলিচের বিশ্লেষণ

মার্কস লেখেন: ‘কমিউনকে হতে হতো পার্লামেন্টি নয়, কাজের সমিতি, একই সঙ্গে আইনদাতা ও কার্যনির্বাহক… ‘…প্রভু শ্রেণির কোন্ লোকটি পার্লামেন্টে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে ও তাদের দমন করবে (ver-und zertreten), তিন বা ছয় বছরে একবার করে তা স্থির করার বদলে সর্বজনীন নির্বাচনাধিকার কমিউনে সংগঠিত জনগণের সেবায় লাগত নিজেদের প্রতিষ্ঠানটির জন্য শ্রমিক, সর্দার, হিসেবনবিশ খুঁজে নেবার জন্য, যেভাবে … Read more

রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (২) — ভেঙে-ফেলা রাষ্ট্রযন্ত্রের বদল হবে কী দিয়ে?

সোভিয়েত প্রচারণা পোস্টার স্টাইলে শ্রমিক-কৃষক ঐক্যের একটি ইলাস্ট্রেশন, যেখানে লেনিনের 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব' বইয়ের একটি উদ্ধৃতি বাংলা হরফে বড় করে লেখা আছে।

১৮৪৭ সালে ‘কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারে’ মার্কস ও এঙ্গেলস এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন খুবই বিমূর্তভাবে, আরও সঠিকভাবে বললে, সে উত্তরে কর্তব্যের উল্লেখ ছিল কিন্তু তা সাধনের উপায় দেখানো হয়নি। বদল করতে হবে ‘শাসক শ্রেণিরূপে প্রলেতারিয়েতের সংগঠন দিয়ে, গণতন্ত্র জয় করে’ — এই ছিল ‘কমিউনিস্ট ইশতেহারের’ জবাব। শাসক শ্রেণি রূপে প্রলেতারিয়েতের সে সংগঠন কী মূর্ত নির্দিষ্ট রূপ … Read more

রাষ্ট্র ও বিপ্লব: অধ্যায় ৩ (১) — কমিউনারদের প্রচেষ্টায় বীরত্ব কোনখানে?

লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিকদের রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে ফেলার বিপ্লবী ইলাস্ট্রেশন - রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের ৩য় অধ্যায়ের জন্য

একথা সুবিদিত যে, কমিউনের মাস কয়েক আগে ১৮৭০ সালের হেমন্তে মার্কস প্যারিস শ্রমিকদের হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন যে, সরকার উচ্ছেদের চেষ্টা হবে হতাশার মূর্খতা[১]। কিন্তু ১৮৭১ সালের মার্চে যখন শ্রমিকদের ওপর চূড়ান্ত লড়াই চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং মজুরেরা তা গ্রহণ করলো, যখন অভ্যুত্থান হয়ে দাঁড়ালো ঘটনা, তখন তার অশুভ দুর্লক্ষণাদি সত্ত্বেও বিপুলতম উল্লাসে মার্কস তাকে স্বাগত … Read more

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী: কালানুক্রমিক তালিকা (১৮৯৩-১৯২৩)

সোভিয়েত কনস্ট্রাকটিভিস্ট আর্ট শৈলীতে ভ্লাদিমির লেনিনের একটি শৈল্পিক ইলাস্ট্রেশন, যেখানে তাঁকে টেবিল ও পাণ্ডুলিপির মাঝে তাঁর সমগ্র রচনাবলী লিখতে দেখা যাচ্ছে।

মার্কসবাদী তত্ত্বের অন্যতম প্রধান অনুসারী, লেনিনবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা এবং রুশ বিপ্লবের মহানায়ক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রচনাবলী বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ। ১৮৯৩ সালের প্রারম্ভিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে ১৯২৩ সালের শেষ রাজনৈতিক উইল পর্যন্ত—তাঁর প্রতিটি লেখা সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতির গভীরে আলোকপাত করেছে। পাঠকদের সুবিধার্থে এবং গবেষণার কাজে সহায়তার জন্য ১৮৯৩ থেকে ১৯২৩ … Read more

উপমহাদেশে নকশাল আন্দোলনের বিবর্তন: তাত্ত্বিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

নকশালবাড়ি আন্দোলনে লাল পতাকা হাতে পাহাড়ি পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসরমান একদল বিপ্লবী কৃষকের ইলাস্ট্রেশন।

নকশালবাড়ি আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ইতিহাস নয়, বরং এটি একটি সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক রাজনৈতিক বাস্তবতা। ষাটের দশকের অন্তিমলগ্নে এসে এটি আর নিছক ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সূচনা করে। এই আন্দোলন একদিকে যেমন প্রচলিত ধারার কমিউনিস্ট রাজনীতির গণ্ডি ভেঙেছে, … Read more

রেনেসাঁ বা নবজাগরণ: ইউরোপীয় আধুনিকতার উদয় ও বৌদ্ধিক রূপান্তর

রেনেসাঁ যুগের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃশ্য যেখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ভিট্রুভিয়ান ম্যান এবং নিকোলাস কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ডায়াগ্রামের সামনে পণ্ডিতরা বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক আলোচনায় মগ্ন।

ইউরোপীয় আর্থ-সামাজিক ইতিহাসে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ মূলত সামন্তবাদী কাঠামোর অবক্ষয়কালীন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তর। এটি পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে উদীয়মান পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হয়। রেনেসাঁ কেবল একটি ঐতিহাসিক কালখণ্ড নয়, বরং এটি সৃজনশীল বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত কোনো জাতির বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং প্রগতিশীল উত্তরণের একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। যদিও সমকালীন দর্শনে ধর্মতাত্ত্বিক প্রভাব বিদ্যমান ছিল, তথাপি বহির্বিশ্বের সাথে বর্ধিত সংযোগ এবং ধ্রুপদী … Read more

ইউরোপের ইতিহাস: গ্রিক ও রোমান ঐতিহ্য, সামন্তযুগের ধর্মবাদ ও শিল্প বিপ্লবের আখ্যান

ধ্রুপদী থেকে আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস সম্পর্কে একটি চিত্র

ইউরোপের ইতিহাস ঐতিহ্যগতভাবে চারটি সময়কালে বিভক্ত: প্রাগৈতিহাসিক আদিম গোত্রবদ্ধ ইউরোপ (প্রায় ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পূর্বে), ধ্রুপদী প্রাচীন দাস যুগ (৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দ), সামন্তবাদী মধ্যযুগ (৫০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ), এবং আধুনিক পুঁজিবাদী যুগ (১৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৯২), এবং সাম্রাজ্যবাদী আধুনিক বর্বর যুগ (১৯০৫- বর্তমান কাল)। অন্য কথায়, ইউরোপের ইতিহাস প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সামন্তবাদী … Read more

আধুনিকতা হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক সময়কাল ও নবজাগরণের পরে উদ্ভূত সংস্কৃতি

অঁরি মাতিসের নাচ, আধুনিকতা

মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের একটি বিষয় হিসেবে আধুনিকতা (ইংরেজি: Modernity) হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক সময়কাল (আধুনিক যুগ) এবং নবজাগরণের পরে — সপ্তদশ শতকের চিন্তাপদ্ধতির যুক্তির যুগ এবং অষ্টাদশ শতকের আলোকায়নের যুগে — উদ্ভূত বিশেষ সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, মনোভাব ও অনুশীলনের সমষ্টি। অভিধা হিসেবে ‘আধুনিকতা’র বহুবিধ অর্থ হয়ে থাকে। এর প্রয়োগক্ষেত্রও হতে পারে নানা রকম। ধর্মীয় আন্দোলন ও … Read more