শাহেরা খাতুনের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি হচ্ছে ৮৩ বছরের কর্মকাণ্ড

লোকশিল্পী শাহেরা খাতুনের দীর্ঘ ৮৩ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি (ইংরেজি: Timeline of Shahera Khatun) এটি। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর, (বঙ্গাব্দ ৭ আশ্বিন ১৩৪৫) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মালদহ জেলার রতুয়া থানার মাঠিয়ারি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কৃষিনির্ভর মাঠিয়ারি গ্রামের পরিবেশ ছিল এমন যেখানে কেবল বোরো চাষ হত। ফসল বলতে কেবল ছিল ডাল জাতীয় শস্য।

পারিবারিক পরিচয়

শাহেরা খাতুনের পিতার নাম নূর হোসেন এবং তাঁর পিতামহের নাম জবেদ আলী মুন্না। তাঁর মাতার নাম জমিলা খাতুন, মাতামহের নাম সিদ্দিক মুন্সী এবং মাতামহীর নাম সমিজা খাতুন।

শাহেরা খাতুনের পিতামহ জবেদ আলী মুন্না ছিলেন গ্রামীণ শিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগী ব্যক্তি এবং একজন ধনী কৃষক। তাঁর পরিবার একই গ্রামে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করেছেন। শাহেরা খাতুন পরিবারের বড় কন্যা হওয়ায় আন্তরিকতার সাথে তাঁর পিতা তাঁকে দায়িত্বশীল করে বড় করেন।

পারিবারিক জীবন

শাহেরা খাতুন ছিলেন পাঁচ ভাই ও চার বোনের ভেতরে দ্বিতীয়। ভাই মোহাম্মদ মুসা, আয়েশ আলী, আমজাদ আলী, শামাউন কবীর এবং দাউদ হোসেন। বোনেরা হচ্ছে শাহেরা খাতুন, নেকজান বেগম, জোহরা খাতুন এবং বিলকিস আরা। 

শাহেরা খাতুনের বড় ছেলে লুতফর রহমান ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭০ সালে মারা যান। ১৯৬৫ সালের ১৭ আগস্ট দামোল গ্রামে দ্বিতীয় পুত্র মো. আবদুল ওদুদের জন্ম হয়। ১৯৬৭ সালে প্রথম কন্যা সুফিয়া খাতুনের জন্ম হয়। দ্বিতীয় পুত্র বানী ইসরাইলের জন্ম হয় ১৯৬৮ সালের ১১ নভেম্বরে। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন অনুপ সাদির জন্ম হয়। ১৯৮৯ সালে একমাত্র কন্যা সুফিয়া খাতুনের বিবাহ হয়। ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল নাতনি শিউলি আকতার সাজিয়ার এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শেফালি আকতার ইরার জন্ম হয়। 

হাতে খড়ি

১৯৪২-৪৬ খ্রিস্টাব্দে গ্রামের মক্তবে কিছুদিন আরবি ও বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। শৈশবে আরবি পড়তে শিখেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে আরবি পড়া ছেড়ে দেন। রক্ষণশীল পারিবারিক আবহে মেয়েদের বাংলা বা ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন ছিল না, ফলে লেখাপড়া শিখতে পারেননি। মূলত লোকজ শিক্ষার দ্বারা নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। সেই সূত্রেই মেয়েলী গীত গাওয়া, নকশি কাঁথা সেলাই, সাঁতার কাঁটা, ধাঁধাঁ ছড়া ও গল্প বলায় দক্ষতা অর্জন করেন। 

সাংস্কৃতিক পরিচয় ও শাহেরা খাতুনের জীবনপঞ্জি

চাচাতো বোনদের সঙ্গেই শৈশব থেকে মেয়েলী গীত বা বিয়ের গীতের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। গীত গাইবার সাথে তার বোনেরা নাচতেও পারতেন। সেখান থেকেই তিনি গান ও নাচ শেখেন। পরবর্তীতে ছোট বোন নেকজানসহ গ্রামের অন্যান্য মেয়েদের সাথে গীত ও নাচে অংশ নিতেন।

শৈশবকালীন ভ্রমণ

১৯৪৬ সালে পুর্ণিয়া জেলাতে গমন করেন দাদার সাথে। ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে জমিদারী উৎখাতের পূর্বে জমির দাম কমে যাওয়ায় তার দাদা মূলত জমি কিনতে পূর্নিয়া গিয়েছিলেন। দাদা জবেদ আলী মুন্নার অন্য ভাইয়ের বংশধরেরা এখনো পূর্ণিয়াতেই থেকে গেছেন। এছাড়াও ১৯৪৮ সালে একবার কিশনগঞ্জ জেলায় ভ্রমণ করেন প্রতিবেশী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে।

লাঠি খেলা, আলকাপ গান ও বিয়ের গীতে অংশ নেয়া

১৯৫০ সালে বিবাহ হয় একই জেলার সিকটাহার গ্রামের মো. সাবের আলীর সঙ্গে। স্বামী লাঠি খেলায় অংশ নেয়া এবং আলকাপ গান গাইতে জানতেন। ফলে লাঠি খেলায় বা আলকাপ গানে অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে ডাক আসত। তিনি সেসব সাংস্কৃতিক কাজে অংশ নিতে বহুবার স্বামীর সঙ্গী হয়েছেন। পারবারিক যেসব বিয়ের দাওয়াত আসত, সেসব বিয়েতে গীত গাওয়ার জন্য তিনিই থাকতেন প্রধান গায়েন। এসব অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বিহারের কিষণগঞ্জ, কাটিহার, পাটনা ও পূর্ণিয়া জেলাতে ভ্রমণ করেছেন।

আরো পড়ুন:  আলেয়া পারভীন বাংলাদেশের লেখক, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ

পূর্ববঙ্গে পারিবারিকভাবে আগমন

সাবের আলীর পরিবার ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দেই পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। কিন্তু শাহেরা খাতুনের পিতার পরিবার পূর্ববঙ্গ বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসতে প্রায় দুই বছর দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। নানা টানাপোড়েন শেসে শাহেরা খাতুন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববঙ্গের ঠাকুরগাঁও মহকুমার হরিপুর থানার দামোল গ্রামে পিতামাতা ও ভাইবোনসহ পারিবারিকভাবে আগমন করেন। পৈতৃক আত্মীয়স্বজনেরা হরিপুর থানার মহেন্দ্রগাঁও গ্রামে বসতি স্থাপন করেন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরবঙ্গের উভয়দিকেই গমনাগমন

১৯৫২ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এমাজুদ্দিন কাপুড়িয়ার নেতৃত্বে লাঠি খেলা ও তলোয়ার চালানোয় অংশ গ্রহণ করতে স্বামীর সঙ্গে চাঁপাই নবাবগঞ্জ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বিহারের কিষণগঞ্জ, কাটিহার, পাটনা ও পূর্ণিয়া জেলায় গমনাগমন করেন। এছাড়াও মূলত তার বড় ভাই মুসা এবং পিতার সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর থেকে মালদা জেলায় আসা যাওয়া করেন। এসব জায়গায় ভ্রমণ করতে গিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গ ও বিহারের খাদ্যাভ্যাস, কথোপকথন, পোশাক পরিচ্ছদ ও মূলনিবাসী কৃষক জনগণের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়েছেন। এসব ভ্রমণ হয়েছে মূলত ট্রেন ও গরুর গাড়িতে করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান

১৯৬৩-৬৪ সালের দিকে বীরগড় মাদ্রাসায় পাঁচ বিঘা জমি প্রদানে সহায়তা করেন। এই জমির ফসল দিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বেতন ও খরচ নির্বাহ করা হত। এই প্রক্রিয়াটি ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৯৬৮-৭০ সাল পর্যন্ত পরিবারে জায়গীর থেকে মুসলিম মৌলভীর সুপারিশে অনেক ছাত্র যেমন ইদরিশ, ইসমাইল এবং জালাল নামের বেশ কিছু ছাত্র লেখাপড়া করেছেন। ১৯৭৪ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রণহাট্টা চৌরঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়, শিহিপুর মাদ্রাসা এবং বীরগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন।  

মুক্তিযুদ্ধকালীন সাময়িক অভিবাসন

১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় বিরামপুর চরকাই এলাকায় চাচতো ভাই শওকতের শ্বশুর বাড়িতে রেল স্টেশনের পাশে মাসখানেক অবস্থান করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাস থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নামোশঙ্করবাটিতে অবস্থান করেন। এরপর মে মাসে তপন থানার আসমা খাতুনের পৈত্রিক বাড়ি নগাঁ গ্রামে যুদ্ধকালীন সময়ে চলে যান। ১৯৭৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তপন থানার নগাঁ গ্রামে অবস্থান করেন এবং সেখানেও কর্মী এই মানুষটি তিন বছর স্বল্প পরিসরে সন্তানদের নিয়ে ব্যবসা করেছেন। সেই সময় পুনরায় রতুয়া থানার সামসি এলাকার শ্বশুরালয়ের শিকটাহার গ্রামে যাতায়াত করেন। অবশেষে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে পুনরায় পরিবারসমেত দামোল গ্রামে চলে আসেন। 

মেয়েলী গীতে অংশগ্রহণ

১৯৪৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এলাকার মানুষের বিয়েতে গীত গেয়েছেন। এলাকায় তার দেবর সুলতানের বিয়েতে ১৯৭০-এর দশকে গীত গেয়েছেন। এছাড়াও  ইসলাম, সালেহা, নিলুফার ও আলাউদ্দিনের বিয়েতে গীত গেয়েছেন। মহেন্দ্রগাঁও গ্রামের তরুণ তরুণীদের বিয়েতেও গীত গাওয়ার দাওয়াত পেতেন এবং গীত গেয়েছেন। ২০০৮ সালে হারুনের বিয়েতে মেয়েলী গীত গেয়েছেন। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ইয়াসিনের ছেলে আনিসুরের বিয়েতে সর্বশেষ মেয়েলী গীত গেয়েছেন। 

আরো পড়ুন:  আমার দেখা একজন সার্থক নারীর গল্প

দুর্ভিক্ষকালীন সময়কে মোকাবেলা

১৯৭৪-৭৬ সালে দুর্ভিক্ষের সময় প্রচণ্ড অভাবের ভেতরে দিনাতিপাত করেন। সেসময় তিনি যৌথ পরিবারের ভেতরেই অবস্থান করেছেন। তখন পারিবারিকভাবে কেনা অনেকগুলো জমি এবং নিজের অলঙ্কারগুলো বিক্রি করে দেন। ১৯৭৭ সালের শুরুর দিকে দুটি হালের বলদ চোরেরা চুরি করে নিলে সর্বশেষ অভাব মোকাবেলা করতে হয়। ১৯৭৭-৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে পৃথক সংসার হলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

আদিবাসী ও স্থানীয়দের সাথে সম্পর্ক

১৯৭৫-১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ভেতরে বেশ কিছু সাঁওতাল পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। জমিতে কাজ করার জন্য সেসময় দিনমজুর ও বাৎসরিক মজুর প্রথা চালু ছিল। সেই সময় অভাবে পীড়িত মানুষদের কয়েকজন  তার বাড়িতে প্রতিপালিত হয়েছেন। এলাকার ছেলে আলম সব সময় শাহেরা খাতুনের প্রশংসা করে থাকেন। ১৯৮২ সালের দিকে মেজ ছেলে কিশোর বয়সের ক্ষোভে বাড়ি থেকে কয়েক মাসের জন্য চলে গেলে তিনি কুসংস্কার বসত তার অবস্থান যাদুর মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করেন। ফলে বেশ কিছু সাঁওতাল পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। যদিও আগে থেকেই সাঁওতালদের সঙ্গে আসা যাওয়া ছিল। মেজ ছেলেকে খুঁজতে নভেম্বর মাসে স্বামীর সঙ্গে পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর ঘুরেছেন।

 স্বৈরতন্ত্রের আমল

সন্তানদের লেখাপড়াকালীন সময়ে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এরশাদীয় স্বৈরতন্ত্রের উপরে প্রচণ্ড বিতৃষ্ণ ছিলেন। প্রশাসনিক কাজকর্মে গুরুত্ব না দেয়ায় তিনি দালিলিক কাজকর্মে অংশ নিতেন না। বাংলাদেশ হবার ফলে দলিলপত্র আইন কানুন ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ায় তিনি সেসবে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। দালিলিক কাজে আগ্রহ পাননি, কিন্তু সৃষ্টিশীল ও সামিজিক কাজকে অধিক গুরুত্ব দিতেন।

বাংলা শিক্ষা

১৯৮৮-১৯৯০ সালে বাংলা পড়া শিখেছিলেন নুবাহারের বাড়িতে পরিচালিত বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে। তখন গ্রামের বয়স্কদের শিক্ষার সামান্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে আরডিআরএসে মেয়ে সুফিয়া খাতুনের শিক্ষকতার চাকরি হলে তিনি সেসব কাজে পুনরায় আগ্রহ তৈরি করেন।

দিনাজপুর পার্বতীপুর ভ্রমণ

১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে পার্বতীপুর উপজেলার নিউ কলোনীতে ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের কারণ ছিল ছোট ভাই দাউদ হোসেনের প্রথম পুত্র গোলাপের জন্ম লাভ প্রসঙ্গে। কয়েকদিন নিউ কলোনীতে থেকে একই উপজেলার ডাঙ্গাপাড়াতে কয়েকদিন থাকেন। ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুর শহরে চাচাতো ভাই শওকত হোসেনের বাড়িতে ভ্রমণ করেন।

১৯৯০ পরবর্তী এক দশক ও শাহেরা খাতুনের জীবনপঞ্জি

১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালন করেন। বড় পুত্র তখন নির্বাচনী কাজে হরিপুর বালিয়াডাঙ্গী চষে বেড়ালে তিনি প্রতিদিনের পারিবারিক কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের সময় দিয়েছেন।

১৯৯২ সালের ২১ ডিসেম্বর স্বামী মো সাবের আলী দীর্ঘদিন রোগভোগের পর মৃত্যুবরণ করেন। সংসার চালনায় একা হয়ে পড়েন। সে সময় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একই বাড়িতে দিনযাপন করেছেন। বড় পুত্র কর্মজীবনে প্রবেশের পর সংসারে সুসার হয়।

আরো পড়ুন:  শাহজাহান আলী বাংলাদেশের বামপন্থী সুবিধাবাদী সংশোধনবাদী রাজনীতিবিদ

ঢাকায় আসা যাওয়া

২০০৩ সালের মার্চ মাসে নাতনি শিউলিকে নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে আসেন। সেসময় পশ্চিম ধানমণ্ডির সংকরে মাস খানেক অবস্থান করেন।  ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বড় পুত্রের বিয়ে উপলক্ষে আবার ঢাকায় আসেন, ৯ জানুয়ারি ঢাকায় আবদুল ওদুদের বিবাহের সময় উপস্থিত থাকেন। সেসময় গ্রাম থেকে এসেছিলেন সুলতান, মাহাবুর, মোস্তফা এবং রব্বিল।

বাড়িতে বাগানের ক্ষেত্র বাড়ান

২০০৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে বাড়ির পেছনের অংশে বাগানের বর্ধন করেন। সেসময় চল্লিশটি আমসহ ফলের অন্যান্য ত্রিশ প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। গাছের বিভিন্ন প্রজাতি বাড়াতে তিনি উৎসাহী ছিলেন।

মেজ ছেলের মৃত্যু

২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর মেজ পুত্র বানী ইসরাইলের মৃত্যু হয়। এই পুত্রটি থ্যালাসেমিয়া রুগী হওয়ায় সব সময়েই অসুস্থ থাকত। মা হিসেবে তিনি সব সময়েই নিরীহ ও রুগ্ন এই পুত্রের পক্ষে থেকেছেন। মৃত্যুর পূর্বে মেজ ছেলের পায়ে অপারেশনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শাহেরা খাতুনের জীবনপঞ্জি ও ভ্রমণের দেড় দশক

২০০৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে প্রথম নরসিংদি ভ্রমণ করেন। নরসিংদিতে বড় পুত্রের কাছে অন্তত মাসখানেক অবস্থান করেন। ২০১০ সালের মার্চ মাসে চাঁদপুর ভ্রমণ করেন। সেপ্টেম্বর মাসে ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ ভ্রমণ।  ২০১৩ সালে ঢাকায় কাদেরাবাদে শাহীন এবং শাহেরা ঢাকায় বেড়াতে আসেন।  পাহাড় দেখেননি বলে ২০১৪ সালে ৭ মার্চ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার পানিহাতা দেখতে যান মূলত পাহাড় দেখতে। সফরসঙ্গী ছিলেন ছোট ছেলে অনুপ সাদি ও রাজনীতি বিশ্লেষক রেজাউল করিম। সে সফরের পূর্বে ঢাকায় কয়েকদিন অবস্থান করার পর ময়মনসিংহেও কয়েকদিন ছিলেন।

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে ময়মনসিংহ ভ্রমণ করেন। সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে ঢাকা ও ময়মনসিংহ শহরের আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল ঘুরে দেখেন। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে ঢাকায় আগমন করেন।  ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বেড়াতে আসেন এবং দীর্ঘদিন বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন, ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করেন। ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি লেক ঘুরে আত্মীয় পরিজন সহকারে দেখেন। সবশেষে ৯ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে ফেরত চলে যান। জীবনের শেষ দিকে মালদহ অঞ্চল ঘুরে দেখতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়।

মৃত্যু

শাহেরা খাতুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ২ জুন বিকেল ৪টায় ৮৪ বছর বয়সে রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু বরণ করেন। পরদিন তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার দামোল গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতায় ভুগছিলেন।

শাহেরা খাতুনের জীবনপঞ্জি সংক্রান্ত তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা

মো. আবদুল ওদুদ, অনুপ সাদি, দোলন প্রভা, শিউলি আকতার সাজিয়া, শেফালী আকতার ইরা, সাদিকুল ইসলাম, শামাউন কবির এবং মো. কালাম।

Leave a Comment

error: Content is protected !!