জন স্টুয়ার্ট মিল উনিশ শতকের ইংল্যান্ডের দার্শনিক, যুক্তিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ

জন স্টুয়ার্ট মিল (ইংরেজি: John Stuart Mill, ২০ মে ১৮০৬ – ৮ মে ১৮৭৩) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত দার্শনিক, যুক্তিবিদ, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ, নীতিশাস্ত্রবেত্তা, সংসদ সদস্য এবং সরকারি চাকুরে। ধ্রুপদী উদারনীতিবাদের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ হিসেবে তিনি সামাজিক তত্ত্ব, রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন।[১]

 তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘সিসটেম অব লজিক’, ‘প্রিন্সিপ্যালস অব পলিটিক্যাল ইকোনমি’ ‘অন লিবার্টি’ ‘রিপ্রেজেন্টিটিভ গভর্নমেন্ট’ এবং ‘ইউটেলিটারিয়ানিজম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দর্শনের ক্ষেত্রে স্টুয়ার্ট মিলের মধ্যে হিউম, বার্কলে এবং অগাস্ট কোঁতের প্রভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

১৮০৬ সালের ২০ মে মিল ইংল্যান্ডের পেনটনভিলে জন্মগ্রহণ করেন, পিতা জেমস মিল ছিলেন সাংবাদিক এবং পরবর্তীকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক পদস্ত কর্মচারী। মিলের যখন দুবছর বয়স জেমস মিল উপযোগবাদের প্রবক্তা জেরেমি বেনথাম এবং অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডোর সাথে পরিচিত হন এবং অচিরেই জেমস মিল উপযোগবাদী দর্শনের দিকে আকৃষ্ট হন এবং বেনথামের সহকারী ও প্রচারক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর লক্ষ্য ছিল পুত্র মিলকে উপযোগবাদী তত্ত্বের প্রচারক এবং পার্লামেন্টের সংস্কারক হিসাবে গড়ে তোলা। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে তার দর্শন পাঠ শুরু হয়। প্লেটোর Republic, অ্যারিস্টটল Politics এবং রুশো Emile তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মিল আইনশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

জেরেমি বেনথাম ছিলেন তার সর্বক্ষণের শিক্ষক; বেনথাম ও পিতা জেমস মিলের অনুপ্রেরণায় ১৮২৮ সালে তিনি Utilitarian Society গড়ে তোলেন। ১৮২৮ সালে তিনি সাঁ সিমো এবং অগাস্ট কোঁতের রাজনৈতিক দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হন এবং উপযোগীতার নীতিকে কীভাবে ইতিবাচক দিক থেকে প্রয়োগ করা যায় যাতে নতুন সমাজ গড়ে উঠতে পারে তার ভাবনা চিন্তা শুরু করেন। 

আরো পড়ুন:  টমাস হবস আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক

১৮৩৬-১৮৪০ সাল পর্বে তিনি The London এবং Westminster Review পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। ১৮৪৩ সালে প্রকাশিত হয় A System of Logic এবং ১৮৪৮ সালে The Principle of Political Economy. ১৮৪০ এর দশকে মিল রাজনৈতিক রচনায় অনেক বেশি র‍্যাডিকাল। ১৮৫০ এর দশকে তার রাজনীতির প্রতি উৎসাহ ও র‍্যাডিকাল ভাব হ্রাস পেতে থাকে এবং এই বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে নিম্নমানের শিক্ষণ ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করা সম্ভব নয়, এই ভাবনা থেকেই তার বিখ্যাত তিনটি গ্রন্থ –  On Liberty (১৮৫৯), Utilitarianism (১৮৬৩) এবং Considerations on Representative Government (১৮৬১) প্রকাশিত হয়।

১৮৫৮ সালে তার স্ত্রী হ্যারিয়েট মিলের মৃত্যু এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকার গ্রহণ করায় তার চাকরী জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এই ঘটনা দুটি মিলকে আরও বেশি লেখায় ও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণে উদ্যোগী করে তোলে। এই সময় যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলি হলো – August Comte and Positivism (১৮৬৫), The Subjection of Women (১৮৬৯) এবং তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় Autobiography (১৮৭৩), “Nature, the Utility of Religion, Theism” (১৮৭৪)।[২]

জন স্টুয়ার্ট মিলের রাষ্ট্রচিন্তা

জন স্টুয়ার্ট মিলের রাষ্ট্রচিন্তা (ইংরেজি: Political thoughts of John Stuart Mill) বা রাষ্ট্রদর্শন হচ্ছে উপযোগবাদ, উদারনীতিবাদ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারীমুক্তি সম্পর্কে মিলের রাজনীতি বিষয়ক চিন্তাধারা। মিলের রাজনৈতিক দর্শন গড়ে উঠার ক্ষেত্রে ছোটবেলার শিক্ষা, বিভিন্ন তাত্ত্বিকদের রচনা, সমসাময়িক তাত্ত্বিকদের সঙ্গে মত বিনিময়, এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।[১]

মূল নিবন্ধ: জন স্টুয়ার্ট মিলের রাষ্ট্রচিন্তা

মিলের রাষ্ট্রদর্শনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব লক্ষ্য করা যায় জেরেমি বেনথাম ও জেমস মিলের উপযোগবাদ সম্পর্কিত ভাবনা চিন্তার। প্রত্যেক দার্শনিক বা চিন্তাবিদদের চিন্তাধারার উপর সমকালীন ঘটনাবলীর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, জন স্টুয়ার্ট মিলও এর ব্যাতিক্রম না।

আরো পড়ুন:  লকের রাষ্ট্রদর্শন বা রাষ্ট্রচিন্তায় অবদান প্রকৃতির রাজ্য, সামাজিক চুক্তি ও সম্পত্তি

তথ্যসূত্র:

১. অনুপ সাদি, ২ জুলাই, ২০১৯, “জন স্টুয়ার্ট মিল উনিশ শতকের ইংল্যান্ডের দার্শনিক, যুক্তিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ”, রোদুরে ডট কম, ঢাকা, ইউআরএল: https://www.roddure.com/biography/john-stuart-mill/
২. গোবিন্দ নস্কর, Political thought, ডাইরেক্টরেট অফ ডিসট্যান্ট এডুকেশন, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৬, দিল্লি, পৃষ্ঠা ২৭-২৮।

Leave a Comment

error: Content is protected !!