ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে যে কজন কালজয়ী সাহিত্যিক নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জর্জ বার্নার্ড শ (George Bernard Shaw)। উইলিয়াম শেক্সপীয়রের পরেই যাকে ইংরেজি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম নাট্যকার হিসেবে গণ্য করা হয়, তিনি আর কেউ নন—তিনি আমাদের চিরপরিচিত ‘শ’। শ শুধুমাত্র একজন নাট্যকারই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সমাজতান্ত্রিক এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন একজন সমাজ সংস্কারক। ১৯২৫ সালে তিনি সাহিত্যে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জর্জ বার্নার্ড শ।
জন্ম ও শৈশবকালীন পটভূমি
বিশ্বখ্যাত এই নাট্যকার আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ডাবলিন শহরে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন জর্জ বার্নার্ড শ – উইকিপিডিয়া। তাঁর পিতার নাম ছিল জর্জ কার শ এবং মাতার নাম এলিজাবেথ গুরলি শ। বার্নার্ড শ-এর পরিবারটি ছিল শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী। বিশেষ করে, তাদের পরিবারের কমবেশি প্রায় সকলেই ছিলেন গানবাজনার একনিষ্ঠ ভক্ত ও সমঝদার। তাঁর মা এলিজাবেথও ছিলেন একজন অত্যন্ত সুগায়িকা এবং সংগীত শিক্ষক।
মায়ের সংগীতের প্রভাব ও ভাবুক মন
শৈশবে মায়ের সেই সুমধুর কণ্ঠের গান শুনতে শুনতেই শ-এর শিশুমন এক অজানা স্বপ্নরাজ্যে ডানা মেলত। সংগীতের এই আবহ তাঁর ভেতরের সৃজনশীলতাকে দারুণভাবে জাগিয়ে তুলেছিল। মায়ের গান শোনার সময় বার্নার্ড শ-এর ভাবুক মন বর্তমান জগতের কঠিন ও রূঢ় বাস্তবতার সীমানা ছাড়িয়ে এমন এক কল্পলোকে বিচরণ করত, যেখানে মানুষ একান্তভাবেই পরম করুণাময় ভগবানের কাছে নিজেকে আত্মসমর্পিত করে দেয়। সেই কল্পরাজ্যে ছিল না কোনো হানাহানি, ছিল না মানুষে মানুষে হিংসা কিংবা জাতিগত কোনো বিদ্বেষ। সেখানে সবকিছুতে এবং সর্বত্র বিরাজ করত এক অনাবিল, চিরন্তন ও অপার্থিব শান্তি। শৈশবের এই শান্তিময় আধ্যাত্মিক ও মানসিক ভাবনাই পরবর্তীতে তাঁর মহান সাহিত্যকর্মের মূল ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করেছিল।
ছাত্রজীবন ও প্রাতিষ্ঠানিক অনীহা
ছেলেবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় খুব একটা কৃতিত্বের পরিচয় দিতে পারেননি বার্নার্ড শ। ডাবলিনের ওয়েসলি কলেজে (Wesley College) তিনি শিক্ষালাভ করলেও প্রচলিত স্কুল শিক্ষার প্রতি তাঁর চরম অনীহা ছিল। তিনি নিয়মিত স্কুলে যেতেন বটে, কিন্তু স্কুলের বাঁধাধরা পড়াশুনোর প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ বা মনোযোগ আসত না। তবে স্কুলের পড়াশোনায় মন না থাকলেও গান, কবিতা, শিল্পকলা ইত্যাদি সৃষ্টিশীল বিষয় নিয়ে তিনি সবসময় মেতে থাকতেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব তিনি পূরণ করেছিলেন নিজের অদম্য কৌতুহল দিয়ে। তিনি বাড়িতে বসেই সংগীত ও চিত্রশিল্পের ওপর বেশ ভালো রকমের শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
অদম্য জ্ঞানপিপাসা ও লাইব্রেরির সখ্যতা
লেখাপড়ার চেয়ে বার্নার্ড শ-এর ভেতরের অনুসন্ধিৎসা বা জানার আগ্রহ ছিল খুবই প্রবল। আর এই তীব্র জ্ঞানপিপাসা মেটাবার জন্য তিনি লোকালয় বা বন্ধুদের আড্ডার চেয়ে স্থানীয় পাঠাগার বা লাইব্রেরিকেই করে নিয়েছিলেন জীবনের একমাত্র পরম বন্ধু। বইয়ের পাতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর আসল জগত। পড়াশোনায় তাঁর গভীরতা কতখানি ছিল, তা অনুমান করা যায় একটি তথ্য থেকে—মাত্র দশ বছর বয়স হবার আগেই তিনি সম্পূর্ণ বাইবেল এবং শেক্সপীয়রের সমস্ত বিখ্যাত রচনা পড়ে শেষ করে ফেলেছিলেন! যা একজন সাধারণ শিশুর পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন।
কর্মজীবনের সূচনা: কিশোর বয়সেই বড় দায়িত্ব
স্কুলের পড়াশোনাকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্নার্ড শ বাস্তব জীবনের কর্মক্ষেত্রে পদার্পণ করেন। তিনি একটি ল্যান্ড এজেন্টের (Land Agent) অফিসে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর মেধা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা এতটাই অসাধারণ ছিল যে, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি সেই অফিসের একটি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ ও উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন।
কিশোর বয়সেই এমন বড় দায়িত্ব ও সম্মানজনক চাকরি পেলেও, এই বাঁধাধরা কেরানির চাকরি শ-এর স্বাধীনচেতা মনকে খুব একটা টানেনি। প্রতিদিনের একই রকম রুটিনমাফিক কাজ তাঁর ভালো লাগতো না। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর জীবনের লক্ষ্য হিসাবের খাতা মেলানো নয়, বরং লেখনীর মাধ্যমে সমাজকে বদলে দেওয়া।
লন্ডনে আগমন ও তীব্র জীবনসংগ্রাম
১৮৭৬ সালের মার্চ মাস। ২০ বছর বয়সে বার্নার্ড শ এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ডাবলিনের সেই নিশ্চিত ভবিষ্যতের চাকরিটি চিরতরে ছেড়ে দিলেন। নিজের স্বপ্নকে তাড়া করতে মায়ের সঙ্গে সেন্ট জর্জ চ্যানেল পার হয়ে পাড়ি জমালেন স্পন্দিত নগরী লন্ডনে। লন্ডনে আসার সময় তাঁর সঙ্গে ছিল কেবল একবুক আশা আর কয়েক বছর আগে থেকে নিজের লেখা কিছু পাণ্ডুলিপি।
লন্ডনে এসে জীবিকা অর্জনের জন্য তাঁকে চরম ও কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পকেটে টাকা নেই, থাকার ভালো জায়গা নেই—এমন পরিস্থিতিতেও তিনি দমে যাননি। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের কাজ (Copywriting) করে সামান্য কিছু পয়সা উপার্জন করতে লাগলেন।
প্রকাশকদের প্রত্যাখ্যান ও নয় পাউন্ডের ইতিহাস
১৮৭৯ থেকে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বার্নার্ড শ অক্লান্ত পরিশ্রম করে একে একে পাঁচখানি উপন্যাস রচনা করেন। তিনি আশা করেছিলেন, এগুলো প্রকাশ হলে তাঁর ভাগ্য ফিরবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর। লন্ডনের প্রায় সবকটি নামী-দামী প্রকাশন সংস্থাই তাঁর লেখাগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান (Reject) করেছিল।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস তিনি উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি বগলে নিয়ে এক প্রকাশকের দরজার থেকে অন্য প্রকাশকের দরজায় ঘুরে বেরিয়েছেন। কিন্তু কেউ তাঁর লেখার মূল্যায়ন করেনি। লন্ডনে কাটানো তাঁর জীবনের প্রথম ৯টি বছরে বই লিখে তিনি সর্বমোট রোজগার করতে পেরেছিলেন মাত্র ৯ পাউন্ড! এই তীব্র দারিদ্র্য ও অবহেলা যেকোনো মানুষকে ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু শ ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া।
সমাজতন্ত্রের দীক্ষা ও ‘ফেবিয়ান সোসাইটি’ গঠন
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে জর্জ বার্নার্ড শ-এর জীবনে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে। তিনি বিখ্যাত আমেরিকান অর্থনীতিবিদ হেনরি জর্জের (Henry George) অর্থনৈতিক দর্শনের দ্বারা গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ হন। এই ঘটনার পর শ সমাজতন্ত্রের (Socialism) প্রতি একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। এতদিনের যাযাবর ও দিশেহীন জীবনে তিনি যেন অবশেষে নিজের আত্মপ্রকাশের সঠিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পথটি খুঁজে পেলেন।
“The Fabian Society was established with a focus on evolutionary rather than revolutionary socialism.”
শ তৎকালীন লন্ডনের অন্যান্য সমমনা সোশ্যালিস্টদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ঐতিহাসিক ফেবিয়ান সোসাইটি (Fabian Society) গঠন করেন। এই সোসাইটির মূল লক্ষ্য ছিল বৈপ্লবিক উপায়ে নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বার্নার্ড শ নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বাগ্মিতার জোরে একজন সুদক্ষ বক্তা এবং অপরাজেয় যুক্তিবাদী তার্কিক রূপে সমাজে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের বড় বড় জনসভায় মোটা অঙ্কের দক্ষিণার (ফি) বিনিময়ে তিনি সমাজতন্ত্র ও সামাজিক অধিকারের পক্ষে জনমত গঠনে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন।
সাংবাদিকতা ও সমালোচক রূপে G.B.S.-এর আত্মপ্রকাশ
১৮৮৫ সাল থেকে বার্নার্ড শ জীবিকার পাশাপাশি নিজের মত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পুরোদমে সাংবাদিকতার কাজ বেছে নেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি অতি দ্রুত বিপুল সুনাম অর্জন করেন। বিভিন্ন খ্যাতনামা পত্রিকায় তাঁর ক্ষুরধার লেখনী প্রকাশিত হতে থাকে:
- পলমল গেজেট (Pall Mall Gazette): এই পত্রিকায় তিনি যুক্ত ছিলেন একজন দুর্দান্ত প্রাবন্ধিক রূপে।
- দি ওয়ার্ল্ড (The World): এখানে তিনি দক্ষতার সাথে সাহিত্য সমালোচকের দায়িত্ব পালন করেন।
- দি স্টার (The Star): এই পত্রিকায় তিনি ছিলেন একজন রসগ্রাহী সংগীত সমালোচক।
- স্যাটারডে রিভিউ (Saturday Review): এখানে তাঁর পরিচয় ছিল একজন আপোষহীন নাট্যসমালোচক হিসেবে।
‘G.B.S.’ এবং ক্ষুরধার ব্যঙ্গকৌতুক
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শ তাঁর নিজের নামের আদ্যক্ষর অর্থাৎ G.B.S. ছদ্মনামে নিয়মিত সংগীত ও নাটকের সমালোচনা লিখতে আরম্ভ করেন। তাঁর সমালোচনাগুলো ছিল অত্যন্ত ঋজু, স্পষ্টবাদী এবং প্রগতিশীল। তাঁর এই আধুনিক চিন্তাভাবনা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের একাংশের তীব্র বিরাগ বা ক্ষোভ উৎপাদন করলেও, সাধারণ পাঠকদের মাঝে তা ব্যাপক প্রশংসা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তাঁর সমালোচনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তাতে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যঙ্গকৌতুক (Wit and Satire) এমন চমৎকারভাবে মিশে থাকত যে, তৎকালীন নাট্য ও সংগীত জগতের সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল সবসময় তাঁর সমালোচনার ভয়ে তটস্থ বা আতঙ্কিত হয়ে থাকত। এছাড়া তিনি মাঝে মাঝে Corno di Bassetto ছদ্ম নামেও শিল্প সমালোচনা করতেন। তাঁর এই ক্ষুরধার ও গঠনমূলক লেখনীর প্রভাবেই লন্ডনের তৎকালীন সংগীত, শিল্প ও নাট্যজগতের ধারা মান্ধাতা আমলের গণ্ডি পেরিয়ে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ও উন্নতমানের হয়ে উঠেছিল।
নাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও প্রথমদিকের ব্যর্থতা
দীর্ঘদিন অন্যের নাটকের সমালোচনা করার পর, শ নিজেই এবার সরাসরি নাটক রচনায় হাত দিলেন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর রচিত প্রথম নাটক “Widowers’ Houses” (বিপত্নীকদের বাসগৃহ) মঞ্চস্থ ও প্রকাশিত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই প্রথম রচনাটি সাধারণ দর্শক ও নাট্যমোদিদের আকর্ষণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
এর পর পর আরও কয়েকটি নাটক তিনি মঞ্চে আনেন। কিন্তু লন্ডনের থিয়েটার পাড়ায় কাঙ্ক্ষিত ব্যবসায়িক ও সমালোচকীয় সাফল্য লাভ করতে তাঁকে আরও দীর্ঘ ১০টি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। মঞ্চে সাড়া না পেয়ে তিনি অগত্যা তাঁর প্রথমদিকের নাটকগুলো বই আকারে বা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করতে লাগলেন। এই প্রাথমিক নাটকগুচ্ছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
- The Philanderer
- Mrs. Warren’s Profession (মিসেস ওয়ারেনের পেশা)
- Plays Pleasant and Unpleasant (১৮৯৬)
- Arms and the Man (অস্ত্র এবং মানুষ)
- Candida (ক্যান্ডিডা)
- You Never Can Tell (তুমি কখনোই বলতে পারো না)
সাফল্যের দুয়ার ও নাট্যকার রূপে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা
১৮৯৬ সালে প্রকাশিত “You Never Can Tell” নাটকটি প্রকাশের পরই পাঠকমহলে এবং থিয়েটার জগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হলো। এই একটি নাটকের সাফল্য শ-এর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তিনি নাট্যকার রূপে চারদিকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা লাভ করলেন এবং নাটককেই নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবপ্রকাশের প্রধান বাহনরূপে বেছে নিলেন।
১৯MD সাল থেকে ১৯MC সাল পর্যন্ত লন্ডনের বিখ্যাত কোর্ট থিয়েটারে (Court Theatre) তাঁর রচিত কালজয়ী নাটক “Man and Superman” (মানব এবং অতিমানব) সহ বেশ কয়েকটি নাটক একের পর এক মঞ্চস্থ হতে থাকে। এই নাটকগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তার দুয়ার পুরোপুরি খুলে যায়।
নাটকের বিস্তৃত ভূমিকা (Prefaces)
বার্নার্ড শ-এর নাটকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি তাঁর প্রত্যেকটি নাটকের শুরুতে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তারিত ‘ভূমিকা’ বা ‘প্রিফেস’ (Preface) রচনা করতেন। এই ভূমিকাগুলোতে নাটকের মূল বিষয়ের বাইরেও সমসাময়িক রাজনীতি, সমাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে তাঁর নিজস্ব দর্শন ফুটে উঠত। ফলে নাটকগুলো বই আকারে পড়ার সময়ও পাঠকদের কাছে অতিশয় উপভোগ্য মনে হতো।
জর্জ বার্নার্ড শ-এর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহের তালিকা
পাঠকদের সুবিধার্থে জর্জ বার্নার্ড শ-এর জীবনের সবচেয়ে সফল ও কালজয়ী নাটকগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- উইডোয়ার্স হাউসেস (Widowers’ Houses – ১৮৯২): তাঁর জীবনের প্রথম নাটক, যা সামাজিক অবিচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- মিসেস ওয়ারেন্স প্রফেশন (Mrs. Warren’s Profession – ১৮৯৪): তৎকালীন সমাজের পতিতাবৃত্তি ও ভণ্ডামির ওপর চড় মারার কারণে নাটকটি দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ছিল।
- আমর্স অ্যান্ড দি ম্যান (Arms and the Man – ১৮ Snapshot): যুদ্ধ এবং প্রেমের রোমান্টিক ধারণাকে ব্যঙ্গ করে লেখা এক অসাধারণ নাটক।
- দ্য ডেভিলস ডিসাইপল (The Devil’s Disciple – ১৮৯৭): পিউরিটান সমাজের সংকীর্ণতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান (Man and Superman – ১৯০৩): দার্শনিক তত্ত্বে ভরপুর শ-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- জন বুলস আদার আইল্যান্ড (John Bull’s Other Island – ১৯০৪): আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে রচিত।
- মেজর বারবারা (Major Barbara – ১৯০৫): ধর্ম, দানশীলতা ও পুঁজিবাদের দ্বন্দ্বের এক অনন্য দলিল।
- ডক্টরস ডাইলেমা (The Doctor’s Dilemma – ১৯০৬): চিকিৎসা পেশার নৈতিকতা ও ভণ্ডামিকে ব্যঙ্গ করে লেখা।
- অ্যান্ডোক্লিস অ্যান্ড দি লায়ন (Androcles and the Lion – ১৯১২): ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইতিহাসের মিশেল।
- পিগম্যালিয়ন (Pygmalion – ১৯১২): শ-এর জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বিখ্যাত সিনেমা ‘মাই ফেয়ার লেডি’ তৈরি হয়।
- হার্টব্রেক হাউস (Heartbreak House – ১৯১৩): প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব ইউরোপীয় সমাজের অবক্ষয়ের চিত্র।
- সেন্ট জোন (Saint Joan – ১৯২৩): জোয়ান অব আর্কের জীবন অবলম্বনে রচিত তাঁর ট্র্যাজিক-কমেডি মাস্টারপিস।
(নোট: ১৯২৩ সালের “সেন্ট জোন” নাটকের পরে শ আরও কিছু নাটক রচনা করেছিলেন বটে, তবে সেগুলো তাঁর এই পূর্ববর্তী কালজয়ী নাটকগুলোর তুলনায় গুণগত মানে কিছুটা সাধারণ বা নিকৃষ্ট ছিল। তাই সাহিত্য সমালোচকদের মতে সেগুলোর উল্লেখ খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয়।)
🔗 আরো পড়ুন: জর্জ বার্নার্ড শ-এর নাট্য রচনার বিষয়, বৈশিষ্ট্য ও নাট্যভাবনা 🖋️
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও বিবাহিত জীবন
নাট্যকার রূপে ব্যাপক প্রতিষ্ঠা ও রাজকীয় সাফল্য লাভের সঙ্গে সঙ্গে শ-এর জীবনের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন ও অনিশ্চয়তা চিরতরে দূর হলো। নাটক থেকে তাঁর বিপুল অর্থ উপার্জন হতে লাগল।
ঠিক এই সময়েই (১৮৯৮ সালে) তিনি শার্লট পেইন টাউনসেন্ড (Charlotte Payne-Townshend) নামে সমাজবাদে বিশ্বাসী এক অত্যন্ত ধনী আইরিশ তরুণীকে বিয়ে করেন। শার্লট শুধু তাঁর স্ত্রীই ছিলেন না, বরং শ-এর সাহিত্যিক জীবনের এক মহান সঙ্গী ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। বিয়ের কিছুদিন পরেই এই নতুন উদ্দীপনায় নাট্যকার রচনা করলেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক নাটক “Caesar and Cleopatra” (সিজার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা)”। এক জটিল ঐতিহাসিক বিষয়কে অত্যন্ত সহজ, সরল ও মানবিক ভাবে তিনি এই নাটকে ব্যবহার করেছেন।
এই সময় তাঁর নাটকগুলি বিশ্বজুড়ে এতটাই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, লন্ডনের বড় বড় নাট্য দলের ম্যানেজার ও থিয়েটার মালিকদের মধ্যে শ-এর নাটকের কপি বা স্বত্ব পাওয়ার জন্য রীতিমত কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। তাঁর নাটকের বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক সাফল্য হয়ে উঠেছিল সমসাময়িক যুগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাজনীতিতে ভূমিকা ও বিশ্বযুদ্ধের বিতর্ক
ফেবিয়ান পন্থীদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগের সুবাদে বার্নার্ড শ কেবল তাত্ত্বিক সমাজতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এক সময় তিনি লন্ডনের একটি পৌরসভার কাউন্সিলার (Councillor) হিসেবেও নির্বাচিত হন এবং নিষ্ঠার সাথে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) সময়ে ইংল্যান্ডের সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা, যুদ্ধের অযৌক্তিকতা এবং দায়িত্বহীনতা নিয়ে শ অত্যন্ত কড়া ও নির্ভীক বক্তব্য পেশ করেন। প্রথম দিকে তাঁর এই যুদ্ধবিরোধী প্রগতিশীল বক্তব্য ব্রিটিশ সমাজে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল এবং অনেকেই তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শেষে যখন বাস্তব সত্য উন্মোচিত হলো, তখন শেষ পর্যন্ত সকলেই বার্নার্ড শ-এর দূরদর্শী মতামত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
ভণ্ডামির বিরুদ্ধে লড়াই ও বিশ্বজনীনতা
শ নিজে যা সত্য বলে বিশ্বাস করতেন, তা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত নির্ভীক ও বলিষ্ঠতার সঙ্গে প্রকাশ করে গেছেন। সমাজের তথাকথিত নীতিবাগিশদের ভেতরের কুৎসিত ভণ্ডামিকে তিনি তাঁর লেখনীর তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতেন। নিজস্ব নাটকের আঞ্চলিক বা সামাজিক বিষয়বস্তুকে এক লহমায় বিশ্বজনীনতার (Universality) পর্যায়ে পৌঁছে দেবার এক বিরল ও ঐশ্বরিক ক্ষমতা ছিল শ-এর। যৌবনে একজন ব্যর্থ ঔপন্যাসিক হিসেবে সাহিত্যজীবন শুরু করলেও, পরবর্তীতে একজন অপরাজেয় নাট্যকার, প্রখর সমালোচক এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে অমর যশস্বী হয়ে ওঠেন।
শেষ বয়সের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ও অন্যান্য রচনা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বার্নার্ড শ-এর কলম যেন আরও ম্যাচিউরড বা পরিপক্ব হয়ে ওঠে। এই সময়ে রচিত তাঁর “Back to Methuselah” (১৯২১) এবং “Saint Joan” (১৯২৩) নাটক দুটিকে বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে খাঁটি ও উচ্চমানের নাটকের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলে গণ্য করা হয়।
এসব কালজয়ী নাটক ছাড়াও শ সারাজীবনে সমাজকে জাগ্রত করার জন্য বিভিন্ন উত্তেজনামূলক ও চিন্তাশীল রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক গ্রন্থও রচনা করেন। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- The Intelligent Woman’s Guide to Socialism and Capitalism
- The Adventures of a Black Girl in Search of God
নোবেল পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান
১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য জর্জ বার্নার্ড শ-কে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কারে (Nobel Prize in Literature) ভূষিত করা হয় জর্জ বার্নার্ড শ – উইকিপিডিয়া। মূলত তাঁর “সেন্ট জোন” (Saint Joan) গ্রন্থের অসাধারণ সাফল্যের জন্যই ছিল এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
“I can forgive Alfred Nobel for having invented dynamite, but only a fiend in human form could have invented the Nobel Prize.” – George Bernard Shaw
তবে নিজের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণে শ নোবেল পুরস্কারের সম্মান গ্রহণ করলেও, পুরস্কারের বিপুল অর্থ নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “টাকাটা আমার কোনো কাজে লাগবে না, কারণ আমি অলরেডি ধনী। এটি বরং আইরিশ ও সুইডিশ সাহিত্যের অনুবাদ ও প্রসারে খরচ করা হোক।” তিনি সেই অর্থ সবটুকুই একটি সাহিত্য ট্রাস্টে দান করে দেন।
পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য লন্ডন ইউনিভার্সিটি তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি এবং স্বয়ং ব্রিটিশ রাজপরিবার বা রাজা তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘নাইট’ (Knight) উপাধি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ও প্রচারবিমুখ শ এই সমস্ত রাজকীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উপাধি সসম্মানে ও দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করতেন, তাঁর কাজই তাঁর পরিচয়, কোনো কৃত্রিম উপাধি তাঁর যোগ্যতার পরিমাপক হতে পারে না।
সমকালীন বিতর্ক ও মহাপ্রয়াণ
বার্নার্ড শ তাঁর আজীবনের সমস্ত রচনায় সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, অন্ধ ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বুর্জোয়া সমাজের গালে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের তীব্র কশাঘাত চালিয়েছেন। এর ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িক কালে গোটা ইউরোপের বুকে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত পুরুষে পরিণত হয়েছিলেন। রক্ষণশীলরা তাঁকে অপছন্দ করলেও, সারাজীবন ধরে তিনি যা সত্য ও সুন্দর বলে বুঝেছেন, কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে তাই প্রচার করে গেছেন।
অবশেষে, চুরানব্বই (৯৪) বছর বয়সে এক দীর্ঘ, বৈচিত্র্যময় ও সফল জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২রা নভেম্বর (মতান্তরে ৩রা নভেম্বর) এই মহান নাট্যকার, দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক ইহলোক ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেন জর্জ বার্নার্ড শ – উইকিপিডিয়া। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে অবসান ঘটে ইংরেজি সাহিত্যের এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের, তবে তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি কোটি পাঠকের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে আছে।
আরো পড়ুন
- জর্জ বার্নার্ড শ-এর নাট্য রচনার বিষয়, বৈশিষ্ট্য ও নাট্যভাবনা
- ইংরেজি সাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাট জর্জ বার্নার্ড শ-এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম
- She Dwelt Among the Untrodden Ways কবিতার মূল বক্তব্য ও মূল্যায়ন
- টু ড্যাফোডিলস বা ড্যাফোডিলের প্রতি কবিতার বাংলা অনুবাদ ও মূলভাব, আলোচনা ও বিশ্লেষণ
- মহাকবি হোমার কে ছিলেন? ইলিয়াড ও ওডিসি মহাকাব্যের ইতিহাস ও কাহিনী
- এডমন্ড বার্ক: আধুনিক রক্ষণশীল দর্শনের পথিকৃৎ ও মহান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ
- নব্য ধ্রুপদী বা নিওক্লাসিকাল সাহিত্য ইউরোপীয় সাহিত্যে উদ্ভূত বিশেষ ধারার সাহিত্য
- টি. এস. এলিয়ট একজন কবি, প্রাবন্ধিক এবং নাট্যকার
- সুখী পরিবার — লু স্যুন
- ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রদত্ত প্রকৃতির বর্ণনা হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতির বন্ধন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি
- জর্জ অরওয়েল হচ্ছেন পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী ফার্মের একগুঁয়ে এক এনিমেল
- সাম্রাজ্যবাদের কুফল সম্পর্কে পুলিশ হিসেবে কর্মরত জর্জ অরওয়েলের বর্ণনা
- Because I could not stop for Death কবিতার সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ
- লন্ডন, ১৮০২ বা মিল্টনের প্রতি কবিতার মূল বক্তব্য বা সার-সংক্ষেপ
- কুবলা খান কবিতাটির মূল বক্তব্য বা সারসংক্ষেপ বিষয়ক আলোচনা
- It is a Beauteous Evening, Calm and Free কবিতার মূলভাব ও সারমর্ম
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ক্যাট ইন দ্য রেইন গল্পে প্রতীকবাদ বা প্রতীকের ব্যবহার
- জন মিলটনের রাষ্ট্রচিন্তা হচ্ছে রাজতন্ত্রবিরোধী প্রজাতান্ত্রিক সরকার
- বিশ শতকের ইংরেজি সাহিত্য হচ্ছে প্রধানত ইংরাজি ভাষায় রচিত সাহিত্য
- উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ রোমান্টিক কাব্য আন্দোলনের ইংরেজি সাহিত্যের কবি
- পার্সি বিশি শেলি হচ্ছেন ইউরোপের রোমান্টিক যুগের একজন বিখ্যাত কবি
- কল্পনা ও শৌখিন কল্পনা সম্পর্কে স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের বিশ্লেষণ
- জন কিটসের কবিতায় সৌন্দর্য চেতনা হচ্ছে রোমান্টিকতার বহিঃপ্রকাশ
- জন কিটসের কবিতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সৌন্দর্যচেতনা, অতীতচারিতা ও প্রকৃতিপ্রীতি
- জন কিটস ছিলেন ইউরোপের রোমান্টিক যুগের সর্বকনিষ্ঠ অন্যতম কবি
- ছোটগল্প ও উপন্যাসের পার্থক্য ও তুলনামূলক আলোচনা কথাসাহিত্যের বিশ্লেষণ
- ছোটগল্পের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস শুরু ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে
- সংলাপ হচ্ছে সাহিত্যিক রচনায় দুটি চরিত্রের মধ্যকার কথোপকথন
- পাশ্চাত্যে ও ভারতে নাটকের ইতিহাস শুরু হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব সময়ে
- ট্রাজেডি হচ্ছে প্রধান চরিত্রের চরম বিপর্যয়ে পতিত হবার নাটক
- সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির লিখিত অথবা মুদ্রিত বিষয়
- মহাকাব্য জাতীয় বা বীরত্বব্যঞ্জক বিষয়ে বিশাল পটভূমিতে বিধৃত বর্ণনামূলক কাব্য
- রোমান্টিকতাবাদ শৈল্পিক, সাহিত্যিক, সাংগীতিক এবং মনীষাগত আন্দোলন
- ইংরেজি সাহিত্য ইংরেজি ভাষায় সপ্তম শতাব্দী থেকে অদ্যাবধি লিখিত সাহিত্য
- স্যামসন অ্যাগনিসটিজ জন মিল্টনের লেখা একটি ট্রাজেডি নাটক
- মার্কিন লেখক হেমিংওয়ের ছোটগল্প ক্যাট ইন দ্য রেইন-এর সারমর্ম ও ভূমিকা
- ডি এইচ লরেন্স ইংরেজ কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সমালোচক ও প্রাবন্ধিক
- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির কবিতাটি সম্পর্কে একটি সাধারণ আলোচনা
- অন হিজ ব্লাইন্ডনেস কবিতাটির পূর্ণ বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা
- পিয়ানো হচ্ছে ডেভিড হারবার্ট লরেন্স বা ডি এইচ লরেন্সের একটি কবিতা
- স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ ছিলেন ইংরেজ কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং দার্শনিক
- Tintern Abbey কবিতাটির মূল্যায়ন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা
- মপাসাঁ ছিলেন উনিশ শতকের ফরাসি লেখক, দক্ষ ছোটগল্পকার এবং প্রকৃতিবাদী
- মার্ক টোয়েন ছিলেন একজন আমেরিকান লেখক, কৌতুকবিদ, উদ্যোক্তা, প্রকাশক
- অস্কার ওয়াইল্ড ছিলেন ইংরাজি সাহিত্যের তথা বিশ্বসাহিত্যের অবিস্মরণীয় নাম
- লর্ড জর্জ গর্ডন বায়রন ছিলেন ইংল্যান্ড তথা ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে মার্কিন সাংবাদিক, উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও ক্রীড়াবিদ
- হেনরিক যোহান ইবসেন ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ নরওয়েজীয় নাট্যকার
- স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত চরিত্র শার্লক হোমসের স্রষ্টা
- চার্লস ডিকেন্স ছিলেন বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক
- লিও তলস্তয় ছিলেন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রভাবশালী লেখক
- হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন বিশ্বের শিশু ও কিশোর সাহিত্যে অন্যতম সাহিত্যিক
- উইলিয়াম শেকসপিয়র ছিলেন একজন ইংরেজি নাট্যকার, কবি এবং অভিনেতা
- জন মিলটন ছিলেন বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকবি, বুদ্ধিজীবী ও লেখক
- দান্তে আলিগিয়েরি পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে অন্যতম
- ঈশপ বা এসপ ছিলেন একজন গ্রীক কল্পকাহিনী এবং গল্পকার
তথ্যসূত্র ও টিকা
১. ড. শীতল ঘোষ, ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস, ফ্রেন্ডস বুক কর্নার, ঢাকা, পুনর্মুদ্রণ জানুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩২৩-৩২৪
২. যাহেদ করিম সম্পাদিত নির্বাচিত জীবনী ১ম খণ্ড, নিউ এজ পাবলিকেশন্স, ঢাকা; ২য় প্রকাশ আগস্ট ২০১০, পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৭।
৩. রচনা ও প্রকাশকাল সংক্রান্ত টীকা: এই প্রবন্ধটি প্রথম ২৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে অনলাইন পোর্টাল ফুলকিবাজ.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং একই দিন কুরপাড়, নেত্রকোনায় অবস্থানকালীন সময়ে রচিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বর্তমান ডিজিটাল সংস্করণের জন্য লেখাটি সম্পূর্ণ পরিমার্জন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংস্কার ও উন্নত সংস্করণে রূপান্তর করা হলো।
অনুপ সাদি একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতি, সমাজ এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তিকামী চেতনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ নামে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ‘রোদ্দুরে‘ ও ‘ফুলকিবাজ‘ পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন। 📚 আরও পড়ুন: অনুপ সাদির বইসমূহ: কবিতা, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 📚