যুক্তি তক্কো আর গপ্পো: ঋত্বিক সমাজের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক ফুটিয়ে তুলেছেন

“আমি শিল্পী হিসেবে involvement-এ বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি যে চারপাশের মানুষের জীবনের সাথে নাড়ীর যোগ রেখে ছবি করতে হয়। তা না হলে ছবি করার কোন মানে হয় না। যে কোন সৎ শিল্পীকেই সমাজের অংশীদার হতে হবে। লক্ষ মানুষের জীবনের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের সংগ্রামের অংশীদার হতে হবে।” সেই জন্যই হয়তো ঋত্বিক ঘটকের … Read more

বাড়ি থেকে পালিয়ে: কলকাতার ভঙ্গুর অর্থনীতি ও উদ্বাস্তুর করুণ চিত্রের প্রতিফলন

ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র করেছেন জনগণের জন্য; সেটা যে স্তরেরই হোক না কেন। এরমাধ্যমে তিনি নিজের চিন্তাকে প্রবাহিত করেছেন। যেকোনো শিল্পী নিজের শিল্প দিয়ে সমাজের অসঙ্গতিকে তুলে ধরেন ও নিজের দর্শনের বহিঃপ্রকাশ করেন। এই ক্ষেত্রে শিল্পীকে নিজের সৃষ্টির জায়গাতে সৎ, নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল হতে হয়। ঋত্বিক সম্পর্কে আমরা আমরা যতই খামখেয়ালীর অভিযোগ শুনিনা কেন! কাজের ক্ষেত্র ছিলেন … Read more

ঋত্বিক ঘটকের প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাগরিক’: একটি আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ

ঋত্বিক ঘটক তাঁর পরিচালিত সমস্ত চলচ্চিত্রে, বিভিন্ন লেখায় এবং সাক্ষাৎকারে নিরন্তর এই সত্যটিই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে, সমকালীন বাঙালি-জীবনের সার্বিক দৈন্য ও দুর্গতির মূলে ১৯৪৭-এর দেশভাগই একান্তভাবে দায়ী। এই সংকটের সুগভীর অবকাঠামোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বাঙালির গৌরবান্বিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সাধনার চরম পথভ্রষ্টতা। দেশবিভাগজনিত এই আর্থ-সামাজিক বিপর্যয় মূলত মনন-মানসের আত্মিক নৈরাশ্য ও অস্তিত্ব সংক্রান্ত অবক্ষয়ের মূল লক্ষণগুলিকে … Read more

তিতাস একটি নদীর নাম: সামন্তীয় চিন্তার ভাঙ্গন, নগরায়ন ও অন্যান্য

১৯৭৩ সালে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ মুক্তি পাওয়ার পড়ে দর্শকের সামনে যে চলচ্চিত্র এসেছে তা দেখে অনেকে বিমোহিত হয়েছিলো; আবার নানা সমালোচনার ঝড়ও উঠেছিলো। নানা সমালোচনা মূলক লেখার জবাবে  ঋত্বিক ঘটক (৪ নভেম্বর, ১৯২৫ – ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬) এই চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে বলেছেন ‘আমি ছাড়া তিতাস সৃষ্টি হতো না। তিতাস ছিল আমার স্বপ্ন। আমার মতো মমতা … Read more

কোমল গান্ধার চলচ্চিত্র দুই বাংলার সাংকৃতিক মেলবন্ধনের আকুতি

মানুষকে পাগলে মতো ভালোবাসা ব্যক্তিটি হলো ঋত্বিক ঘটক। যেকোনো শিল্পকে শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতেই হবে। কোনো শিল্পী যদি সেটা না করতে পারে তাহলে তাঁর শিল্পের কোনো মূল্য নেই। দুই বাংলায় বেড়ে ঔঠা এই মানুষটি মানুষের আচার, সংস্কৃতি, শিল্প, লোকজ জীবন, প্রাণ, প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাই চলচ্চিত্রে সেই দিকগুলোকে তুলে আনতে পেরেছেন। বাংলা … Read more

মেঘে ঢাকা তারা: কলকাতার অর্থনীতি ও উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি

ঋত্বিক ঘটক জনগণের মাঝে শোষণ-নিপীড়ন বিরোধী প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সহজ একটা মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রকে পরিচালনায় এসেছিলেন। ঋত্বিক ঘটক ভেবেছিলেন জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য নাটক, থিয়েটারের চেয়ে চলচ্চিত্রটাই ভালো মাধ্যম। তিনি প্রথম জীবনে মঞ্চনাটক করেছেন, সেই সময় ভেবেছিলেন জনগণের মাঝের বেদনাকে ফুটিয়ে তুলতে নাটক মোক্ষম উপায়। পরবর্তিতে চিন্তার বিস্তার হয় এবং বুঝতে পারেন মঞ্চ নাটকের … Read more

অযান্ত্রিক চলচ্চিত্র মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে দ্বান্দিক সম্পর্কের প্রকাশ

চলচ্চিত্র জগৎতে ঋত্বিক ঘটক মানেই গতানুগতিক চিন্তাধারার উর্ধ্বের ব্যক্তিত্ব। তিনি বলতেন শিল্প হতে হবে সত্য, সুন্দর, বস্তুনিষ্ঠ। নাগরিক ছিলো তার প্রথম চলচ্চিত্র। যা মুক্তি পেয়েছে মৃত্যুর দেড় বছর পড়ে। বিষয়টা খুবই পীড়াদায়ক ছিলো তার জন্য। সমাজের এমন কিছু বাস্তবতাকে সেলুলয়েডে বন্দি করতে চেয়েছে ও করেছে যা সমসাময়িক শাসকদের জন্য হুমকির ছিলো। সেই কারণে নানা বাঁধার … Read more

অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন দুর্দান্ত বাঙালি সুরকার, গীতিকার এবং গায়ক

অতুলপ্রসাদ সেন

অতুলপ্রসাদ সেন (ইংরেজি: Atul Prasad Sen; ২০ অক্টোবর ১৮৭১ – ২৬ আগস্ট ১৯৩৪) ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন দুর্দান্ত বাঙালি সুরকার, গীতিকার এবং গায়ক। তিনি একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতবিদও ছিলেন। জন্ম ও পরিবার: অতুলপ্রসাদ সেনের জন্ম ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর [ মতান্তরে ১৮৭২ ] ঢাকায়। তাঁর আদিবাড়ি ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর পরগনার অন্তর্গত মগর গ্রামে। তার পিতা রামপ্রসাদ … Read more

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে জীবন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন

মানিক

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (ইংরেজি: Manik Bandopadhyay; ১৯ মে, ১৯০৮ – ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যে জীবন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক জায়গায় বলেছেন, ‘সচেতনভাবে বাস্তববাদের আদর্শ গ্রহণ করে সেই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে সাহিত্য করিনি বটে কিন্তু ভাবপ্রবণতার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ সাহিত্যে আমাকে বাস্তবকে অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল।’ বাস্তবিক পক্ষে বাংলা সাহিত্যের … Read more