ইবনে রুশদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা বা রাষ্ট্রচিন্তায় ইবনে রুশদের অবদান

ইবনে রুশদের চিন্তাধারা

ইবনে রুশদ বা আবু রুশদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা বা রাষ্ট্রচিন্তায় ইবনে রুশদের অবদান (ইংরেজি: Political thoughts of Ibn Rushd) হচ্ছে রাষ্ট্র ও দর্শনের গ্রিক কাঠামোর উপর ইসলামি প্রত্যাদেশের চুড়ান্ত সংশ্লেষণ করেন। প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামী আদর্শ রাষ্ট্রের সঙ্গতি বিধানের প্রশ্নটি রুশদের চিন্তায় এসেছিল। রাষ্ট্রদর্শনে তিনি ‘কনসেপ্ট অফ প্রফেসী’ বা প্রত্যাদিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী তত্ত্বকে বিবেচনায় আনেন। ইবনে … Read more

ইবনে রুশদের দর্শন বিষয়ক চিন্তা হচ্ছে সামন্ত যুগে মানবের ঊর্ধ্বে ভাববাদ

আবু রুশদের দর্শন

ইবনে রুশদের দর্শন বা আবু রুশদের দর্শন বিষয়ক চিন্তাধারা (ইংরেজি: Philosophical thoughts of Ibn Rushd) হচ্ছে সামন্তবাদী যুগে মানবের বা মানবীয় আইনের ঊর্ধ্বে প্রত্যাদেশ ও ভাববাদকে তুলে ধরা। মানুষের শ্রেণিবিভেদে বিশ্বাসী ইবনে রুশদ আল ফারাবির যুক্তিবিদ্যা বিষয়ক মতবাদে আগ্রহী ছিলেন। প্লেটোর “রিপাবলিক” গ্রন্থের ভাষ্য রচনাকালে ফারাবির নৈতিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তবে রুশদ … Read more

আল ফারাবির রাষ্ট্রচিন্তা বা রাষ্ট্রদর্শনে আল ফারাবির অবদান সম্পর্কে আলোচনা

দার্শনিক ফারাবির রাষ্ট্রচিন্তা

আল ফারাবি বা দার্শনিক আল ফারাবীর রাষ্ট্রচিন্তা (ইংরেজি: Political thoughts of Al Farabi) বা রাষ্ট্রদর্শনে আল ফারাবির অবদান হচ্ছে রাষ্ট্র সম্পর্কে এই দার্শনিকের সামগ্রিক চিন্তাধারা। ফারাবি রাষ্ট্র সম্পর্কে যেসব চিন্তাধারা লালন করতেন তাতে প্লেটো ও অ্যাারিস্টটলের চিন্তাধারার প্রভাব দেখা যায়। প্লেটো যেমন ‘রিপাবলিক’ বা আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিলেন, আল ফারাবিও তেমন একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা … Read more

ইমাম আল গাজ্জালী ছিলেন সামন্তবাদী সাধক, ধর্ম বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও দার্শনিক

ইমাম আল গাজ্জালী

ইমাম আল গাজ্জালী বা আল গাজ্জালী বা গাজালী (ইংরেজি: Al-Ghazali; আনু. ১০৫৮-১৯ ডিসেম্বর, ১১১১ খ্রি.) ছিলেন সামন্তবাদী যুগের ইসলামের মহান সাধক, ধর্ম বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, ইসলামী পণ্ডিত ও সামন্তবাদী রাজতান্ত্রিক দার্শনিক। তিনি একজন মৌলিক গবেষক। তাঁর রক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা তাঁর দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁর আবির্ভাব ঘটে ইসলামের সামন্তীয় সাম্রাজ্যের যুগসন্ধিক্ষণের মহান সংস্কারক … Read more

ইবনে খালদুন সামন্তযুগের আরব সভ্যতার ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক

ইবনে খালদুন

ইবনে খালদুন (ইংরেজি: Ibn Khaldun; ২৭ মে ১৩৩২ – ১৭ মার্চ ১৪০৬ খ্রি.) ছিলেন সামন্ত যুগের আরব সভ্যতার ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক এবং ইতিহাসের দার্শনিক হিসাবে সুবিখ্যাত। উত্তর আফ্রিকার তিউনিসে তাঁর জন্ম। তাঁর শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিচিত্র কর্মকান্ডের কেন্দ্র প্রধানত উত্তর আফ্রিকা। মাত্র বিশ বছর বয়সে দেশের সুলতানের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি নিযুক্ত হন। তারপর কখনো … Read more

ইবনে রুশদ ছিলেন আরব সভ্যতার সামন্ত যুগের বিখ্যাত দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক

ইবনে রুশদ

ইবনে রুশদ বা ইব্‌ন রুশদ বা আবু রুশদ (ইংরেজি: Ibn Rushd বা Averroes; ১১৬২- ১১ ডিসেম্বর ১১৯৮ খ্রি.) ছিলেন আরব সভ্যতার বিখ্যাত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ ও দার্শনিক। সামন্ত যুগের পাশ্চাত্য ইউরোপীয় জগতে ‘আভারস’ বা ‘আভারুজ’ বা Averroes নামে তিনি অধিক পরিচিত। আইন, ধর্মতত্ত্ব, অংকশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং দর্শন অর্থাৎ জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাঁর … Read more

আল ফারাবি সামন্তযুগের প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তায় এক গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক

আল ফারাবি

আল ফারাবি বা আল ফারাবীর (ইংরেজি: Al-Farabi; ৮৭২-৯৫০ খ্রি.) সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে আবু নসর মুহাম্মদ আল ফারাবি। তিনি একজন প্রখ্যাত প্রথম দিককার ইসলামী দার্শনিক এবং ফকীহ ছিলেন যিনি রাজনৈতিক দর্শন, অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র এবং যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে লেখনী চর্চা করেছিলেন। তিনি একজন বিজ্ঞানী, মহাজাগতিক, গণিতবিদ এবং সংগীত তাত্ত্বিকও ছিলেন।[১] দর্শনের ইতিহাসে ইনি আল ফারাবী নামেই সুবিখ্যাত। ইসলামি … Read more

ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থান

ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। উপমহাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার নয়া উপনিবেশিক ভূভাগ বা একত্রে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান (ইংরেজি: Indian Subcontinent) এশিয়ার দক্ষিণভাগে অবস্থিত একটি ছোটখাট মহাদেশ। নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সীমারেখা ভারতীয় উপমহাদেশকে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে পৃথক করেছে। ভূ-প্রকৃতির বৈশিষ্ট অনুসারে এই উপমহাদেশকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। (ক)  উত্তরে হিমালয় ও তৎসংলগ্ন পার্বত্য … Read more

অছিবাদ পুঁজিপতি ও জমিদারদের সম্পত্তি রক্ষাকারী প্রতিক্রিয়াশীল গান্ধীবাদী চিন্তা

অছিবাদ বা ট্রাস্টিশিপ

অছিবাদ বা সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কত্ব (ইংরেজি: Trusteeship) হচ্ছে ভারতবর্ষের ও শিল্পপতি ও জমিদারদের স্বার্থ রক্ষাকারী প্রতিক্রিয়াশীল গান্ধীবাদী ভুল-আর্থনীতিক চিন্তার মূলকথা; এবং পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের বিকল্প হিসাবে বিবেচিত। অছিবাদ জমিদারতন্ত্র ও সামন্তবাদের সংস্কার করে তাকে ভারতের জনগণের উপর চাপিয়ে রাখার একটি সুগভীর চক্রান্ত।[১] ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে আগা খাঁর প্রাসাদে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী যখন বন্দি ছিলেন সে সময়ে অছিবাদের … Read more

গান্ধীবাদ জমিদার ও শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষাকারী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অভিমত

গান্ধীবাদ বা গান্ধীবাদী দর্শন

গান্ধীবাদ (ইংরেজি: Gandhism) বলে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি মতবাদ হচ্ছে অবিভক্ত ভারতবর্ষের জমিদার ও শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষাকারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর (১৮৬৯-১৯৪৮ খ্রি.) সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অভিমত। গান্ধীবাদ রাজনীতি ও সমাজনীতির সাথে ধর্মের সংমিশ্রণে গঠিত একটি চিন্তাধারা। অর্থাৎ গান্ধীবাদ হলো বিশেষ একটি জীবনধারা, যার সারমর্ম হলো সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও কুসংস্কারের সেবা করা।[১] গান্ধী সুসংবদ্ধ কোনো … Read more

অসহযোগ আন্দোলন ভারতীয় জমিদারশ্রেণির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্দোলন

অসহযোগ আন্দোলন

অসহযোগ আন্দোলন (ইংরেজি: Non cooperation Movement) হচ্ছে ভারতের জাতিয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়াশীল নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯২০-২২ সালে পরিচালিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় জমিদার ও মুৎসুদ্দি ব্যবসায়ী শ্রেণির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্দোলন। এই আন্দোলনে জনগণের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভারতের জমিদারশ্রেণি নিজেদেরকে সারা ভারতে কৃষক শ্রমিকদের উপর ক্ষমতার ছড়ি ঘোরানোর দক্ষতা অর্জন … Read more

ইতিহাস বস্তুর বিকাশের চেতনানিরপেক্ষ প্রক্রিয়া যা বাস্তবে সংঘটিত ও লিখিত

ইতিহাস

ইতিহাস (ইংরেজি: History) হচ্ছে কোনো বস্তুর বিকাশের খোদ চেতনানিরপেক্ষ প্রক্রিয়া যা বাস্তবে স্থান ও কালে সংঘটিত হয়।[১] এক কথায় এটি হচ্ছে লিখিত নথিতে অতীতের বর্ণনা এবং উক্ত বর্ণনার অধ্যয়ন। এটা তুলে ধরে দেশ, জাতি বা প্রকৃতির বিভিন্ন যুগের সামাজিক রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক জীবনের সত্যনিষ্ঠ ধারাবাহিক বর্ণনা। মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত এই সব বর্ণনাই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। … Read more

দর্শনের ইতিহাস হচ্ছে দর্শনশাস্ত্রের বিকাশের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতার বিবরণ

দর্শনের ইতিহাস

দর্শনের ইতিহাস (ইংরেজি: History of Philosophy) হচ্ছে ইতিহাসের সেইসব পাঠ্যগুলির পরিসর, বিভিন্নতা এবং গুণাগুণের  প্রসারণ যাতে দর্শনশাস্ত্রের বিকাশের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়। অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ইউরোপের দর্শনের ইতিহাস আরবের সামন্ত যুগের আরব দার্শনিক ও ঐতিহাসিকের ধারা অনুসরণ করে এসেছে। দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দর্শনের বিকাশ বিচারের বদলে তারা বিভিন্ন দার্শনিক ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গের বিবরণ দিয়েই … Read more

বিভিন্ন দার্শনিকের দৃষ্টিতে দর্শনের সংজ্ঞা: প্লেটো থেকে ভিটগেনস্টাইন

বিভিন্ন দার্শনিকদের দেয়া দর্শনের সংজ্ঞা

দর্শনের সঠিক স্বরূপ বুঝতে হলে বিভিন্ন মনীষীদের দৃষ্টিভঙ্গি জানা অপরিহার্য। তবে দর্শন সংক্রান্ত আলোচনায় দার্শনিকগণ কখনোই একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সম্পূর্ণভাবে একমত হতে পারেননি। যুগভেদে এবং চিন্তাধারার ভিন্নতার কারণে একেকজন দার্শনিক দর্শনকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত (Definitions of Philosophy) করেছেন। যদিও এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তবুও এগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই আমরা দর্শনের একটি সামগ্রিক ও … Read more

দর্শন কী? দর্শন হচ্ছে মানুষের বিশ্ববীক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গির মৌল বিধানের আলোচনা

দর্শন কী এবং দর্শন কাকে বলে

দর্শন কী? সহজ ভাষায়, দর্শন (Philosophy) হলো বিশ্বজগৎ এবং এতে মানুষের অবস্থান সম্পর্কে এক গভীর ও সুসংবদ্ধ চিন্তা-পদ্ধতি। এটি মূলত প্রকৃতি ও সমাজবিজ্ঞানের একটি যৌক্তিক সমন্বয়, যা জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজে। সৃষ্টির শুরু থেকেই অ-ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বকে বিশ্লেষণের মাধ্যম হিসেবে ‘দর্শন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।[১] এটি কেবল ভাবনার জগত নয়, বরং শ্রেণিস্বার্থ, রাজনীতি … Read more